১
রমযানের বিষয়ভিত্তিক হাদীস শিক্ষা ও মাসায়েল
লেখকঃ ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ আল-হাকীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৮
৪৫. শেষ সাত রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করা
ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবীকে শেষ সাত রাতে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
«أَرَى رُؤْيَاكُمْ قَدْ تَوَاطَأَتْ في السَّبْعِ الأَوَاخِرِ، فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِيْها فَلْيَتَحَرَاها في السَّبْع الأَوَاخِر» .
“আমি দেখছি তোমাদের সবার স্বপ্ন শেষ সাতের ব্যাপারে অভিন্ন, অতএব যে লাইলাতুল কদর তালাশ করতে চায়, সে যেন তা শেষ সাতে তালাশ করে”। [সহীহ বুখারী ও মুসলিম।]
অপর বর্ণনায় আছে:
«التَمِسُوهَا في العَشْرِ الأَوَاخِر، فَإِنْ ضَعُفَ أَحَدُكُمْ أَوْ عَجَزَ فَلا يُغْلَبَنَّ على السَّبْع البَواقِي» .
“তোমরা শেষ দশে লাইলাতুল কদর তালাশ কর, যদি তোমাদের কেউ দুর্বল হয় অথবা অপারগ হয়, তবে শেষ সাতে যেন তা অন্বেষণ করা ত্যাগ না করে”। অপর বর্ণনায় আছে:
«تَحَرُّوا لَيْلَةَ القَدْرِ في السَّبْعِ الأَوَاخِر» .
“তোমরা লাইলাতুল কদর শেষ সাতে তালাশ কর”। [দেখুন: সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯১১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৬৫। শেষের দুইটি বর্ণনা মুসলিমের।]
শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. এ উম্মতের সম্মিলিত বর্ণনা, সিদ্ধান্ত ও স্বপ্ন নির্ভুল। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে তাদের অভিন্ন স্বপ্নকে গ্রহণ করেছেন। [দেখুন: ইলামুল মুয়াক্কিয়িন: (১/৮৪); আর-রূহ: (১৩৬); ফাতহুল কাদির: (১২/৩৮০)।]
দুই. লাইলাতুল কদর তালাশ করা ও তাতে রাত জাগা জরুরি। কারণ, তাতে রয়েছে ফযীলত, বরকত ও কল্যাণ, তবে এটা ওয়াজিব নয়, সুন্নাত। [দেখুন: আল-ইস্তেযকার: (৩/৪১৬)।]
তিন. এ হাদীস স্বপ্নের গুরুত্ব প্রমাণ করে, সম্ভাব্য ঘটমান বিষয়ে তার ওপর নির্ভর করা বৈধ, যদি শরী‘আতের নির্দেশের বিপরীত না হয়। [দেখুন: ফাতহুল বারি: (৪/২৫৭); শারহু ইবনল মুলাক্কিন আলাল উমদাহ: (৫/৪১১)।] তবে স্বপ্নের ওপর অধিক নির্ভর করা ঠিক নয়, যা মূল উদ্দেশ্যে বিচ্যুত ঘটার কারণ, হয়।
চার. স্বপ্ন কখনো আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, কখনো হয় মনের ধারণা ও কল্পনাপ্রসূত, আবার কখনো হয় শয়তানের পক্ষ থেকে। কোনো বিষয়ে যদি মুমিনদের স্বপ্ন অভিন্ন হয়, তাহলে সেটা সত্য, যেমন তাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ও বর্ণনা সত্য। কারণ, একজনের বর্ণনা অথবা সিদ্ধান্তে অসৎ উদ্দেশ্য গোপন থাকতে পারে, কিন্তু এ ব্যাপারে সকল মুসলিম একমত হতে পারে না। [দেখুন: মিনহাজুজ সুন্নাহ নববীয়াহ: (৩/৫০০); মাদারেজুস সালেকিন: (১/৫১)।]
পাঁচ. এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, অধিকাংশের কথার ওপর আমল করা যায়, যদি কুরআন-হাদীস, ইজমা ও স্পষ্ট কিয়াসের বিরোধী না হয়। [দেখুন: শারহু ইবনল মুলাক্কিন আলাল উমদাহ: (৫/৪১৪)।]
ছয়. সাহাবীদের স্বপ্ন এ ক্ষেত্রে অভিন্ন যে, রমযানের শেষ সাতে লাইলাতুল কদর বিদ্যমান, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে বছর তাদেরকে শেষ সাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব, এ রাতগুলো অধিক সম্ভাবনাময়। [ইবন বাত্তাল রহ. তার বুখারির ব্যাখ্যা গ্রন্থে ইবন উমারের হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন: “লাইলাতুল কদর শেষ সাতে তালাশ কর”। এর অর্থ: এটা সে বছরের ঘটনা, যে বছর তাদের স্বপ্ন পরস্পর অভিন্ন ছিল, অর্থাৎ তেইশের রাত। কারণ, তিনি আবু সায়িদের হাদীসে বলেছেন: “তোমরা লাইলাতুল কদর শেষ দশের বেজোড় রাতে তালাশ কর, আমি দেখছি আমি মাটি ও পানিতে সাজদাহ করছি। (আবু সাঈদ বলেন:) আমাদের উপর একুশের রাতে বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছিল। এ হিসেবে দেখা যায় আবু সাঈদের হাদীসে লাইলাতুল কদর শেষ সাতে ছিল না। ইমাম তাহাভি বলেন: এ ব্যাখ্যা হিসেবে হাদীসের মধ্যে কোনো বৈপরিত্ব থাকে না”।]
সাত. লাইলাতুল কদর কতককে স্বপ্নে অথবা জাগ্রত অবস্থায় দেখানো হয়, সে তার আলামত দেখতে পায় অথবা স্বপ্নে কাউকে দেখে, যে তাকে বলে: এটা লাইলাতুল কদর। কখনো আল্লাহ তার বান্দার অন্তরে এমন নিদর্শন প্রকাশ করেন, যার দ্বারা সে লাইলাতুল কদর স্পষ্ট বুঝতে পারে। [দেখুন: মজমুউল ফাতাওয়া: (২৫/২৮৬)।]
«أَرَى رُؤْيَاكُمْ قَدْ تَوَاطَأَتْ في السَّبْعِ الأَوَاخِرِ، فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِيْها فَلْيَتَحَرَاها في السَّبْع الأَوَاخِر» .
“আমি দেখছি তোমাদের সবার স্বপ্ন শেষ সাতের ব্যাপারে অভিন্ন, অতএব যে লাইলাতুল কদর তালাশ করতে চায়, সে যেন তা শেষ সাতে তালাশ করে”। [সহীহ বুখারী ও মুসলিম।]
অপর বর্ণনায় আছে:
«التَمِسُوهَا في العَشْرِ الأَوَاخِر، فَإِنْ ضَعُفَ أَحَدُكُمْ أَوْ عَجَزَ فَلا يُغْلَبَنَّ على السَّبْع البَواقِي» .
“তোমরা শেষ দশে লাইলাতুল কদর তালাশ কর, যদি তোমাদের কেউ দুর্বল হয় অথবা অপারগ হয়, তবে শেষ সাতে যেন তা অন্বেষণ করা ত্যাগ না করে”। অপর বর্ণনায় আছে:
«تَحَرُّوا لَيْلَةَ القَدْرِ في السَّبْعِ الأَوَاخِر» .
“তোমরা লাইলাতুল কদর শেষ সাতে তালাশ কর”। [দেখুন: সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯১১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৬৫। শেষের দুইটি বর্ণনা মুসলিমের।]
শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. এ উম্মতের সম্মিলিত বর্ণনা, সিদ্ধান্ত ও স্বপ্ন নির্ভুল। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে তাদের অভিন্ন স্বপ্নকে গ্রহণ করেছেন। [দেখুন: ইলামুল মুয়াক্কিয়িন: (১/৮৪); আর-রূহ: (১৩৬); ফাতহুল কাদির: (১২/৩৮০)।]
দুই. লাইলাতুল কদর তালাশ করা ও তাতে রাত জাগা জরুরি। কারণ, তাতে রয়েছে ফযীলত, বরকত ও কল্যাণ, তবে এটা ওয়াজিব নয়, সুন্নাত। [দেখুন: আল-ইস্তেযকার: (৩/৪১৬)।]
তিন. এ হাদীস স্বপ্নের গুরুত্ব প্রমাণ করে, সম্ভাব্য ঘটমান বিষয়ে তার ওপর নির্ভর করা বৈধ, যদি শরী‘আতের নির্দেশের বিপরীত না হয়। [দেখুন: ফাতহুল বারি: (৪/২৫৭); শারহু ইবনল মুলাক্কিন আলাল উমদাহ: (৫/৪১১)।] তবে স্বপ্নের ওপর অধিক নির্ভর করা ঠিক নয়, যা মূল উদ্দেশ্যে বিচ্যুত ঘটার কারণ, হয়।
চার. স্বপ্ন কখনো আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, কখনো হয় মনের ধারণা ও কল্পনাপ্রসূত, আবার কখনো হয় শয়তানের পক্ষ থেকে। কোনো বিষয়ে যদি মুমিনদের স্বপ্ন অভিন্ন হয়, তাহলে সেটা সত্য, যেমন তাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ও বর্ণনা সত্য। কারণ, একজনের বর্ণনা অথবা সিদ্ধান্তে অসৎ উদ্দেশ্য গোপন থাকতে পারে, কিন্তু এ ব্যাপারে সকল মুসলিম একমত হতে পারে না। [দেখুন: মিনহাজুজ সুন্নাহ নববীয়াহ: (৩/৫০০); মাদারেজুস সালেকিন: (১/৫১)।]
পাঁচ. এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, অধিকাংশের কথার ওপর আমল করা যায়, যদি কুরআন-হাদীস, ইজমা ও স্পষ্ট কিয়াসের বিরোধী না হয়। [দেখুন: শারহু ইবনল মুলাক্কিন আলাল উমদাহ: (৫/৪১৪)।]
ছয়. সাহাবীদের স্বপ্ন এ ক্ষেত্রে অভিন্ন যে, রমযানের শেষ সাতে লাইলাতুল কদর বিদ্যমান, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে বছর তাদেরকে শেষ সাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব, এ রাতগুলো অধিক সম্ভাবনাময়। [ইবন বাত্তাল রহ. তার বুখারির ব্যাখ্যা গ্রন্থে ইবন উমারের হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন: “লাইলাতুল কদর শেষ সাতে তালাশ কর”। এর অর্থ: এটা সে বছরের ঘটনা, যে বছর তাদের স্বপ্ন পরস্পর অভিন্ন ছিল, অর্থাৎ তেইশের রাত। কারণ, তিনি আবু সায়িদের হাদীসে বলেছেন: “তোমরা লাইলাতুল কদর শেষ দশের বেজোড় রাতে তালাশ কর, আমি দেখছি আমি মাটি ও পানিতে সাজদাহ করছি। (আবু সাঈদ বলেন:) আমাদের উপর একুশের রাতে বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছিল। এ হিসেবে দেখা যায় আবু সাঈদের হাদীসে লাইলাতুল কদর শেষ সাতে ছিল না। ইমাম তাহাভি বলেন: এ ব্যাখ্যা হিসেবে হাদীসের মধ্যে কোনো বৈপরিত্ব থাকে না”।]
সাত. লাইলাতুল কদর কতককে স্বপ্নে অথবা জাগ্রত অবস্থায় দেখানো হয়, সে তার আলামত দেখতে পায় অথবা স্বপ্নে কাউকে দেখে, যে তাকে বলে: এটা লাইলাতুল কদর। কখনো আল্লাহ তার বান্দার অন্তরে এমন নিদর্শন প্রকাশ করেন, যার দ্বারা সে লাইলাতুল কদর স্পষ্ট বুঝতে পারে। [দেখুন: মজমুউল ফাতাওয়া: (২৫/২৮৬)।]