hadith book logo

রমযানের বিষয়ভিত্তিক হাদীস শিক্ষা ও মাসায়েল

লেখকঃ ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ আল-হাকীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৬

৫৩. যে ই‘তিকাফ করার মানত করেছে

উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “হে আল্লাহর রাসূল, আমি জাহেলি যুগে মানত করেছি, একরাত মসজিদে হারামে ই‘তিকাফ করব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: তুমি তোমার মানত পূর্ণ কর, অতঃপর তিনি একরাত ই‘তিকাফ করেন”। [সহীহ বুখারী ও মুসলিম।]

মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে, উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু‎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছেন “জি‘রানা” নামক স্থানে, তায়েফ থেকে ফিরে। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি জাহেলি যুগে মানত করেছি মসজিদে হারামে একরাত ই‘তিকাফ করব, আপনার সিদ্ধান্ত কী? তিনি বললেন: যাও, একদিন ই‘তিকাফ কর”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৩৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬৫৬।]

অপর বর্ণনায় রয়েছে, “আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি বলেছেন: তুমি তোমার মানত পূর্ণ কর”। [বায্‌যার, হাদীস নং ১৪০; বায়হাকি : (১০/৭৬৩)।]

শিক্ষা ও মাসায়েল:‎

এক. জাহেলি যুগে ই‘তিকাফ ও মানত প্রচলিত ছিল।

দুই. ইসলাম পূর্বের মানত ইসলাম গ্রহণ করার পর পূর্ণ করা বৈধ, কেউ তা পূর্ণ করা ওয়াজিব বলেছেন।

তিন. উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর জাহেলি যুগের মানত থেকে দায় মুক্ত হওয়ার আগ্রহ, এটা তার তাকওয়া ও পরহেযগারী প্রমাণ করে।

চার. ওয়াদা পূর্ণ করার গুরুত্ব, কখনো তার খেলাফ করা বৈধ নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমারকে তা পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছেন, অথচ তা জাহেলি যুগের ওয়াদা ছিল। [শরহু ইবন বাত্তাল : (৪/১৬৮)।]

পাঁচ. এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, একদিন অথবা একরাত ই‘তিকাফ করা বৈধ।

ছয়. এ হাদীস তাদের দলীল, যারা বলে সাওম ব্যতীত ই‘তিকাফ বৈধ। কারণ, রাত সাওমের স্থান নয়। [ইতিকাফে যারা সাওম র্শত বলেন, তাদের মধ্যে ইবন ওমর, ইবন আব্বাস, মালেক, শাবি, আওযায়ি, সাওরি, আহনাফ এবং এটা আহমদের এক ফাতাওয়া। ইমাম কুরতুবি ও ইবনুল কাইয়্যেম এ অভিমতকে শক্তিশালী করেছেন। আর যারা বলেছেন ইতিকাফে সাওমের শর্ত করা না হলে, সাওম জরুরী নয়, তাদের মধ্যে আলি, ইবন মাসউদ, হাসান বসরি, আতা ইবন আবি রাবাহ, ওমর ইবন আব্দুল আযিয ও ইবন উসাইমিন রয়েছেন। লাজনায়ে দায়েমার ফাতাওয়া এর ওপর। দেখুন: আল-ইস্তেযকার: (১০/২৯১-২৯৩); তাহযিবুস সুনান: (৭/১০৫-১০৯); শারহুন নববী: (১১/১২৪-১২৬); আল-মুফহিম: (৪/২৪১); শারহু ইবনল মুলাক্কিন আলাল উমদাহ: (৫/৪৪৬); তুহফাতুল আহওয়াযি: (১৫/১১৯); আল-ইফহাম ফি শারহি বুলুগুল মারাম: (১/৩৭২); শারহুল মুমতি: (৬/৫০৬-৫০৭); ফাতাওয়া লাজনায়ে দায়েমা: (৬৭১৮)।]

সাত. যারা বলেছেন সাওম ব্যতীত ই‘তিকাফ শুদ্ধ, আলিমদের দু’ধরণের বক্তব্য থেকে তাদের কথা সঠিক। এ কারণে রোগী ই‘তিকাফ করতে পারবে, যে রোগের জন্য সাওম ভঙ্গ করছে”। [দেখুন: শারহুল মুমতি: (৬/৫০৭)।]

আট. অজানা বিষয় আলিমদের নিকট জিজ্ঞাসা করা, যেমন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তার মানত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছেন। অনুরূপ যাকে প্রশ্ন করা হয়, তার ওয়াজিব বলা, গোপন না করা। [শারহু ইবনল মুলাক্কিন আলাল উমদাহ: (৫/৪৪৬)।]

নয়. কেউ যদি তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও ই‘তিকাফের মানত করে, আর সেখানে পৌঁছতে দীর্ঘ সফরের প্রয়োজন হয়, তাহলে সে মানত পূর্ণ জায়েয নয়। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তিনটি মসজিদ ব্যতীত সফর করা যাবে না”। তবে যদি সফরের প্রয়োজন না হলে জায়েয আছে। [ফাতাওয়া সাদিয়া : (২৩১-২৩২)।]