১
রমযানের বিষয়ভিত্তিক হাদীস শিক্ষা ও মাসায়েল
লেখকঃ ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ আল-হাকীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৮
৫৫. সাওয়াব পরিপূর্ণ যদিও মাস অসম্পূর্ণ হয়
আবু বাকরা রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:
«شَهْرانِ لا يَنْقُصَانِ : شَهْرا عِيدِ رَمضَانَ وذُو الحِجَّة» .
“দু’টি মাস কম হয় না: রমযানের ঈদ ও যিলহজের মাস”।
অপর বর্ণনায় আছে:
«شَهْرا عِيدٍ لا يَنْقُصَانِ : رَمضَانُ وذُو الحِجَّةَ» .
“দুই ঈদের মাস কম হয় না: রমযান ও যিলহজ”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮১৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০৮৯।]
এ হাদীসের অর্থ কেউ বলেছেন: এ দু’টি মাস: রমযান ও যিলহজ, একবছর একসঙ্গে অসম্পূর্ণ হয় না। একমাস অসম্পূর্ণ হলে অপর মাস পূর্ণ হয়। সাধারণত এমন হয়।
আবার কেউ বলেছেন: এ দু’মাসের সাওয়াব কম হয় না, যদিও তার সংখ্যা কম হয়। এটা অধিক গ্রহণযোগ্য। [ইকমালুল মুয়াল্লিম লিল কাদি ইয়াদ: (৪/২৪); আল-মুফহিম: (৩/১৪৫-১৪৬)।]
শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. রমযান ও যিলহজ এ দু’মাসকে ইসলাম বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করেছে। কারণ, এর সাথে সিয়াম ও হজ সম্পৃক্ত। [ফাতহুল বারি: (৪/১২৫)।]
দুই. ঈদুল ফিতরকে রমযান মাসের সাথ সম্পৃক্ত করা বৈধ, অথচ তা শাওয়ালের প্রথম তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। ইমাম আহমদ রহ. কর্তৃক বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে:
«شَهْرَانِ لا يَنْقُصَانِ في كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُما عِيدٌ : رَمَضَانُ وذُو الحِجَّة» .
“দু’টি মাস অসম্পূর্ণ হয় না, যার প্রত্যেকটিতে ঈদ রয়েছে: রমযান ও যিলহজ”। [আহমদ: (৫/৪৭), আইনি উমদাতুল কারিতে এ হাদীস বিশুদ্ধ বলেছেন: (১০/২৮৫)।]
তিন. মাস আরম্ভের ক্ষেত্রে ভুল হওয়া স্বাভাবিক, তবে এতে কোনো সমস্যা নেই যদি লোকেরা বৈধভাবে চাঁদ দেখে অথবা চাঁদ দেখা অসম্ভব হলে ত্রিশ দিন পূর্ণ করার উপর আমল করে।
চার. রমযান ও যিলহজ মাসের ফযীলত ও বিধান বান্দাগণ অবশ্যই লাভ করবে, রমযান ত্রিশ দিন হোক অথবা ঊনত্রিশ দিনের, নবম দিন ওকুফে আরাফ হোক বা না অন্যদিনে, যদি তারা যথাযথ চাঁদ দেখার দায়িত্ব পালন করে। [শারহুন নববী: (৭/১৯৯); ফাতহুল বারি: (৪/১২৬); উমদাতুল কারি: (১০/২৮৫)।]
পাঁচ. এ হাদীসের শিক্ষা: এসব হাদীসে তার মনের অতৃপ্তি ও অন্তরের সন্দেহ দূর করা হয়েছে, যে ঊনত্রিশ দিন সিয়াম পালন করল অথবা ভুলে গায়রে আরাফার দিন ওকুফ করল, যেমন কেউ যিলহজ মাসের চাঁদ দেখার মিথ্যা সাক্ষী দিল, ফলে লোকেরা আট তারিখে ওকুফে আরাফা করল, এতে কোনো সমস্যা নেই, ইবাদত বিশুদ্ধ ও সাওয়াব পরিপূর্ণ হবে ইনশাআল্লাহ। [ফাতহুল বারি: (২/১২৬)।]
ছয়. এ হাদীস প্রমাণ করে যে, আমলের সাওয়াব সর্বদা কষ্টের ওপর নির্ভর করে না, বরং কখনো আল্লাহ অসম্পূর্ণ মাসকে পূর্ণ মাসের সাথে যুক্ত করে পরিপূর্ণ সাওয়াব প্রদান করেন। [হাফেয ইবন হাজার ফাতহুল বারিতে: (৪/১২৬) উল্লেখ করেছেন, কতক মালেকি আলিম এ হাদীস দ্বারা তার দলিল পেশ করেছেন।]
সাত. এ হাদীস তাদের দলীল, যারা বলে রমযানের জন্য এক নিয়ত যথেষ্ট। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা পূর্ণ মাসকে এক ইবাদত গণ্য করেছেন।
«شَهْرانِ لا يَنْقُصَانِ : شَهْرا عِيدِ رَمضَانَ وذُو الحِجَّة» .
“দু’টি মাস কম হয় না: রমযানের ঈদ ও যিলহজের মাস”।
অপর বর্ণনায় আছে:
«شَهْرا عِيدٍ لا يَنْقُصَانِ : رَمضَانُ وذُو الحِجَّةَ» .
“দুই ঈদের মাস কম হয় না: রমযান ও যিলহজ”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮১৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০৮৯।]
এ হাদীসের অর্থ কেউ বলেছেন: এ দু’টি মাস: রমযান ও যিলহজ, একবছর একসঙ্গে অসম্পূর্ণ হয় না। একমাস অসম্পূর্ণ হলে অপর মাস পূর্ণ হয়। সাধারণত এমন হয়।
আবার কেউ বলেছেন: এ দু’মাসের সাওয়াব কম হয় না, যদিও তার সংখ্যা কম হয়। এটা অধিক গ্রহণযোগ্য। [ইকমালুল মুয়াল্লিম লিল কাদি ইয়াদ: (৪/২৪); আল-মুফহিম: (৩/১৪৫-১৪৬)।]
শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. রমযান ও যিলহজ এ দু’মাসকে ইসলাম বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করেছে। কারণ, এর সাথে সিয়াম ও হজ সম্পৃক্ত। [ফাতহুল বারি: (৪/১২৫)।]
দুই. ঈদুল ফিতরকে রমযান মাসের সাথ সম্পৃক্ত করা বৈধ, অথচ তা শাওয়ালের প্রথম তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। ইমাম আহমদ রহ. কর্তৃক বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে:
«شَهْرَانِ لا يَنْقُصَانِ في كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُما عِيدٌ : رَمَضَانُ وذُو الحِجَّة» .
“দু’টি মাস অসম্পূর্ণ হয় না, যার প্রত্যেকটিতে ঈদ রয়েছে: রমযান ও যিলহজ”। [আহমদ: (৫/৪৭), আইনি উমদাতুল কারিতে এ হাদীস বিশুদ্ধ বলেছেন: (১০/২৮৫)।]
তিন. মাস আরম্ভের ক্ষেত্রে ভুল হওয়া স্বাভাবিক, তবে এতে কোনো সমস্যা নেই যদি লোকেরা বৈধভাবে চাঁদ দেখে অথবা চাঁদ দেখা অসম্ভব হলে ত্রিশ দিন পূর্ণ করার উপর আমল করে।
চার. রমযান ও যিলহজ মাসের ফযীলত ও বিধান বান্দাগণ অবশ্যই লাভ করবে, রমযান ত্রিশ দিন হোক অথবা ঊনত্রিশ দিনের, নবম দিন ওকুফে আরাফ হোক বা না অন্যদিনে, যদি তারা যথাযথ চাঁদ দেখার দায়িত্ব পালন করে। [শারহুন নববী: (৭/১৯৯); ফাতহুল বারি: (৪/১২৬); উমদাতুল কারি: (১০/২৮৫)।]
পাঁচ. এ হাদীসের শিক্ষা: এসব হাদীসে তার মনের অতৃপ্তি ও অন্তরের সন্দেহ দূর করা হয়েছে, যে ঊনত্রিশ দিন সিয়াম পালন করল অথবা ভুলে গায়রে আরাফার দিন ওকুফ করল, যেমন কেউ যিলহজ মাসের চাঁদ দেখার মিথ্যা সাক্ষী দিল, ফলে লোকেরা আট তারিখে ওকুফে আরাফা করল, এতে কোনো সমস্যা নেই, ইবাদত বিশুদ্ধ ও সাওয়াব পরিপূর্ণ হবে ইনশাআল্লাহ। [ফাতহুল বারি: (২/১২৬)।]
ছয়. এ হাদীস প্রমাণ করে যে, আমলের সাওয়াব সর্বদা কষ্টের ওপর নির্ভর করে না, বরং কখনো আল্লাহ অসম্পূর্ণ মাসকে পূর্ণ মাসের সাথে যুক্ত করে পরিপূর্ণ সাওয়াব প্রদান করেন। [হাফেয ইবন হাজার ফাতহুল বারিতে: (৪/১২৬) উল্লেখ করেছেন, কতক মালেকি আলিম এ হাদীস দ্বারা তার দলিল পেশ করেছেন।]
সাত. এ হাদীস তাদের দলীল, যারা বলে রমযানের জন্য এক নিয়ত যথেষ্ট। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা পূর্ণ মাসকে এক ইবাদত গণ্য করেছেন।