১
রমযানের বিষয়ভিত্তিক হাদীস শিক্ষা ও মাসায়েল
লেখকঃ ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ আল-হাকীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৮
৩৫. নফল সাওমের ফযীলত
আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«أتيتُ رسُولَ الله صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ : مُرْني بأَمْرٍ آخُذُهُ عَنْكَ، قَالَ : عَلَيْكَ بالصَّومِِ فَإِنَّهُ لا مِثْلَ لَه» .
“আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমন করি, অতঃপর তাকে বলি: আপনি আমাকে একটি কাজের নির্দেশ দিন, যা আমি আপনার থেকে গ্রহণ করব, তিনি বললেন: তুমি সাওম আঁকড়ে ধর। কারণ, তার সমকক্ষ কিছু নেই”।
হাদীসটি অন্য শব্দে এভাবে এসেছে: আবু উমামা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেন:
«أَيُّ العَمَل أَفْضَلُ؟ قَالَ : عَلَيْكَ بالصَّومِِ فَإِنَّهُ لا عِدْلَ لَهُ» .
“কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি বলেন, তুমি সাওম আঁকড়ে ধর। কারণ, তার সমকক্ষ কিছু নেই”।
অপর বর্ণনায় এসেছে: আবু উমামা বলেছেন: “হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে একটি জিনিসের নির্দেশ দিন, যার মাধ্যমে আমি জান্নাতে প্রবেশ করব, তিনি বললেন: তুমি সাওম আঁকড়ে ধর।কারণ, সাওমের কোনো তুলনা নেই। বর্ণনাকারী বলেন, আবু উমামার বাড়িতে মেহমান আগমন ব্যতীত দিনে কখনো ধোঁয়া দেখা যেত না। যদি তারা ধোঁয়া দেখত, মনে করত আজ তার বাড়িতে মেহমান এসেছে”।
অপর বর্ণনায় এসেছে: আমি বললাম: “হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে একটি আমলের নির্দেশ দিন, তিনি বললেন: তুমি সাওম আঁকড়ে ধর। কারণ, তার কোনো তুলনা নেই। বর্ণনাকারী বলেন, আবু উমামা, তার স্ত্রী ও খাদেমদের সাওম ব্যতীত দেখা যেত না। তাদের বাড়িতে দিনে আগুন দেখলে বলা হত মেহমান এসেছে, কোনো আগন্তুক এসেছে। বর্ণনাকারী বলেন, এভাবে সে এক দীর্ঘ সময় অতিক্রম করে। অতঃপর আমি তার কাছে এসে বলি: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাদেরকে সাওমের নির্দেশ দিয়েছেন, আশা করি আল্লাহ তাতে আমাদেরকে বরকত দান করেছেন। হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে আরেকটি আমলের নির্দেশ দেন, তিনি বলেন, জেনে রাখ, তোমার এমন কোনো সেজদা নেই, যার দ্বারা আল্লাহ তোমার মর্তবা বৃদ্ধি করেন না ও তোমার পাপ মোচন করেন না”। [দেখুন: নাসাঈ: (৪/১৬৫); আহমদ: (৫/২৪৮); ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৩৪২৫; ইবন খুযাইমাহ, হাদীস নং ১৮৯৩; হাকেম: (১/৫৮২; হাফেয ইবন হাজার ফিল ফাতহ: (৪/১০৪)। প্রথম দু’টি বর্ণনা নাসাঈ থেকে নেওয়া, তৃতীয় বর্ণনা ইবন হিব্বান থেকে নেওয়া, চতুর্থ বর্ণনা আহমদ থেকে নেওয়া।]
শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. সাহাবীদের আখিরাতের আমল জানার আগ্রহ।
দুই. সাওম সর্বোত্তম আমল, এ হাদীস তাই প্রমাণ করে, অপর হাদীসে এসেছে যে, সালাত সর্বোত্তম ইবাদত। যেমন,
«واعلَمُوا أنَّ خيرَ أعمالِكُمُ الصَّلاة»،
“জেনে রেখ, তোমাদের সর্বোত্তম আমল সালাত”।
স্পষ্টত বুঝা যায় আমলের শ্রেষ্ঠত্ব মানুষের অবস্থার ওপর নির্ভর করে, কতক মানুষের পক্ষে সাওম উত্তম। কারণ, সাওম তাদেরকে হারাম প্রবৃত্তি থেকে বিরত রাখে, তাদের অন্তঃকরণকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য পরিশুদ্ধ করে। আবার কারো পক্ষে সালাত উত্তম, কারণ, তাদের শরীর সাওম পালনে সক্ষম নয় বা সাওমের কারণে অন্যান্য কর্তব্যে ত্রুটি হবে। ইব্নুল কাইয়্যিম রহ. বলেন, “নারীর প্রতি যার আগ্রহ বেশি, তার জন্য সাওম উত্তম অন্যান্য ইবাদত থেকে”।
তিন. সাওম মানুষের প্রবৃত্তিকে নষ্ট করে, যা অনেক পাপ সংঘটিত করে ও ইবাদত থেকে বিরত রাখে। যেসব যুবকরা বিবাহের সামর্থ্য রাখে না, কিন্তু তারা পাপের আশঙ্কা করে, তাদেরকে সাওম পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এ দিক থেকে সাওমের কোনো তুলনা বা সমকক্ষ নেই”।
চার. আবু উমামা ও তার পরিবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাওমের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন, এখান থেকে বুঝা যায় যে, সাহাবায়ে কেরাম শরী‘আতের আদেশ দ্রুত ও যথাযথ বাস্তবায়ন করতেন।
পাঁচ. মেহমানের সম্মান করা ইসলামি বিধান, তার সম্মানে নফল সাওম ত্যাগ করা বৈধ।
«أتيتُ رسُولَ الله صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ : مُرْني بأَمْرٍ آخُذُهُ عَنْكَ، قَالَ : عَلَيْكَ بالصَّومِِ فَإِنَّهُ لا مِثْلَ لَه» .
“আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমন করি, অতঃপর তাকে বলি: আপনি আমাকে একটি কাজের নির্দেশ দিন, যা আমি আপনার থেকে গ্রহণ করব, তিনি বললেন: তুমি সাওম আঁকড়ে ধর। কারণ, তার সমকক্ষ কিছু নেই”।
হাদীসটি অন্য শব্দে এভাবে এসেছে: আবু উমামা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেন:
«أَيُّ العَمَل أَفْضَلُ؟ قَالَ : عَلَيْكَ بالصَّومِِ فَإِنَّهُ لا عِدْلَ لَهُ» .
“কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি বলেন, তুমি সাওম আঁকড়ে ধর। কারণ, তার সমকক্ষ কিছু নেই”।
অপর বর্ণনায় এসেছে: আবু উমামা বলেছেন: “হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে একটি জিনিসের নির্দেশ দিন, যার মাধ্যমে আমি জান্নাতে প্রবেশ করব, তিনি বললেন: তুমি সাওম আঁকড়ে ধর।কারণ, সাওমের কোনো তুলনা নেই। বর্ণনাকারী বলেন, আবু উমামার বাড়িতে মেহমান আগমন ব্যতীত দিনে কখনো ধোঁয়া দেখা যেত না। যদি তারা ধোঁয়া দেখত, মনে করত আজ তার বাড়িতে মেহমান এসেছে”।
অপর বর্ণনায় এসেছে: আমি বললাম: “হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে একটি আমলের নির্দেশ দিন, তিনি বললেন: তুমি সাওম আঁকড়ে ধর। কারণ, তার কোনো তুলনা নেই। বর্ণনাকারী বলেন, আবু উমামা, তার স্ত্রী ও খাদেমদের সাওম ব্যতীত দেখা যেত না। তাদের বাড়িতে দিনে আগুন দেখলে বলা হত মেহমান এসেছে, কোনো আগন্তুক এসেছে। বর্ণনাকারী বলেন, এভাবে সে এক দীর্ঘ সময় অতিক্রম করে। অতঃপর আমি তার কাছে এসে বলি: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাদেরকে সাওমের নির্দেশ দিয়েছেন, আশা করি আল্লাহ তাতে আমাদেরকে বরকত দান করেছেন। হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে আরেকটি আমলের নির্দেশ দেন, তিনি বলেন, জেনে রাখ, তোমার এমন কোনো সেজদা নেই, যার দ্বারা আল্লাহ তোমার মর্তবা বৃদ্ধি করেন না ও তোমার পাপ মোচন করেন না”। [দেখুন: নাসাঈ: (৪/১৬৫); আহমদ: (৫/২৪৮); ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৩৪২৫; ইবন খুযাইমাহ, হাদীস নং ১৮৯৩; হাকেম: (১/৫৮২; হাফেয ইবন হাজার ফিল ফাতহ: (৪/১০৪)। প্রথম দু’টি বর্ণনা নাসাঈ থেকে নেওয়া, তৃতীয় বর্ণনা ইবন হিব্বান থেকে নেওয়া, চতুর্থ বর্ণনা আহমদ থেকে নেওয়া।]
শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. সাহাবীদের আখিরাতের আমল জানার আগ্রহ।
দুই. সাওম সর্বোত্তম আমল, এ হাদীস তাই প্রমাণ করে, অপর হাদীসে এসেছে যে, সালাত সর্বোত্তম ইবাদত। যেমন,
«واعلَمُوا أنَّ خيرَ أعمالِكُمُ الصَّلاة»،
“জেনে রেখ, তোমাদের সর্বোত্তম আমল সালাত”।
স্পষ্টত বুঝা যায় আমলের শ্রেষ্ঠত্ব মানুষের অবস্থার ওপর নির্ভর করে, কতক মানুষের পক্ষে সাওম উত্তম। কারণ, সাওম তাদেরকে হারাম প্রবৃত্তি থেকে বিরত রাখে, তাদের অন্তঃকরণকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য পরিশুদ্ধ করে। আবার কারো পক্ষে সালাত উত্তম, কারণ, তাদের শরীর সাওম পালনে সক্ষম নয় বা সাওমের কারণে অন্যান্য কর্তব্যে ত্রুটি হবে। ইব্নুল কাইয়্যিম রহ. বলেন, “নারীর প্রতি যার আগ্রহ বেশি, তার জন্য সাওম উত্তম অন্যান্য ইবাদত থেকে”।
তিন. সাওম মানুষের প্রবৃত্তিকে নষ্ট করে, যা অনেক পাপ সংঘটিত করে ও ইবাদত থেকে বিরত রাখে। যেসব যুবকরা বিবাহের সামর্থ্য রাখে না, কিন্তু তারা পাপের আশঙ্কা করে, তাদেরকে সাওম পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এ দিক থেকে সাওমের কোনো তুলনা বা সমকক্ষ নেই”।
চার. আবু উমামা ও তার পরিবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাওমের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন, এখান থেকে বুঝা যায় যে, সাহাবায়ে কেরাম শরী‘আতের আদেশ দ্রুত ও যথাযথ বাস্তবায়ন করতেন।
পাঁচ. মেহমানের সম্মান করা ইসলামি বিধান, তার সম্মানে নফল সাওম ত্যাগ করা বৈধ।