১
রমযানের বিষয়ভিত্তিক হাদীস শিক্ষা ও মাসায়েল
লেখকঃ ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ আল-হাকীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮
৫. ফরয সাওমের নিয়ত
হাফসা বিনতে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«مَنْ لم يُجْمِعِ الصِّيامَ قَبلَ الفَجْرِ فَلا صِيامَ لَه»
“যে ফজরের পূর্বে সাওমের নিয়ত করল না, তার সাওম নেই”। ইমাম নাসাঈ এভাবে বর্ণনা করেছেন:
«مَنْ لم يُبَيِّتْ الصِّيامَ قَبْلَ الفَجْرِ فَلا صِيامَ لَهُ» .
“যে ফজরের পূর্বে রাত থেকে সাওম আরম্ভ করল না, তার সাওম নেই”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ২৪৫৪; তিরমিযী, হাদীস নং ৭৩০; নাসাঈ: (৪/১৯৬); ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৭০০; আহমদ: (৬/২৮৭); সহীহ ইবন খুযাইমাহ, হাদীস নং ১৯৩৩, এ হাদীসটি মওকুফ ও মারফূ উভয়ভাবে বর্ণিত আছে, তবে মওকূফ বর্ণনা অধিক বিশুদ্ধ।] আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলতেন:
«لا يَصُومُ إِلَّا مَنْ أَجْمَعَ الصِّيامَ قَبْلَ الفَجْرِ» .
“সাওম রাখবে না, তবে যে ফজরের পূর্ব থেকে সাওম আরম্ভ করেছে”। [মুয়াত্তা মালেক: (১/২৮৮)।]
রাত থেকে সাওম আরম্ভ করার অর্থ হচ্ছে: রাত থেকে সাওমের দৃঢ় ও চূড়ান্ত নিয়ত করা, যে ফজরের পূর্বে সাওমের দৃঢ় নিয়ত করল না, তার সাওম হবে না। [তুহফাতুল আহওয়াযি: (৩/৩৫২)।]
ইমাম তিরমিযী রহ. বলেন, আলিমদের নিকট এ হাদীসের অর্থ হচ্ছে: রমযান মাসে ফজরের পূর্বে যে সাওম আরম্ভ করল না অথবা রমযানের কাযা অথবা মান্নতের সাওমে যে রাত থেকে নিয়ত করল না, তার সাওম শুদ্ধ হবে না। হ্যাঁ, নফল সাওমের নিয়ত ভোর হওয়ার পর বৈধ। এটা ইমাম শাফেঈ, আহমদ ও ইসহাকের অভিমত। [জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৩/১০৮)।]
শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. সিয়ামে ইবাদতের নিয়ত করা জরুরি, যদি কেউ স্বাস্থ্য রক্ষা, ডাক্তারের পরামর্শ, পানাহারের প্রতি অনীহা বা অন্য কারণে খাদ্য ও স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাকে, তার এ বিরত থাকা শর‘ঈ সাওম গণ্য হবে না, সে এ কারণে সাওয়াব পাবে না।
দুই. নিয়ত অন্তরের আমল। অতএব, যার অন্তরে এ ধারণা হলো যে, আগামীকাল সে সওম রাখবে, সে নিয়ত করল।
তিন. ওয়াজিব সাওম যেমন রমযান, মানত ও কাফ্ফারার ক্ষেত্রে পূর্ণ দিন তথা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সাওমের নিয়তে থাকা জরুরি। যে ব্যক্তি দিনের কোনো অংশে সাওমের নিয়ত করল, তার সাওম পূর্ণ দিন ব্যাপী হলো না, তাই তার সাওম শুদ্ধ হবে না। এ জন্য ওয়াজিব সাওমে সুবহে সাদিকের পূর্ব থেকে নিয়ত করা জরুরি।
চার. রাতের যে কোনো অংশে ফরয বা নফল সাওমের নিয়ত করা বৈধ। নিয়ত করার পর সাওম পরিপন্থী কোনো কাজ করলে নিয়ত নষ্ট হবে না, নতুন নিয়তের প্রয়োজন নেই।
«مَنْ لم يُجْمِعِ الصِّيامَ قَبلَ الفَجْرِ فَلا صِيامَ لَه»
“যে ফজরের পূর্বে সাওমের নিয়ত করল না, তার সাওম নেই”। ইমাম নাসাঈ এভাবে বর্ণনা করেছেন:
«مَنْ لم يُبَيِّتْ الصِّيامَ قَبْلَ الفَجْرِ فَلا صِيامَ لَهُ» .
“যে ফজরের পূর্বে রাত থেকে সাওম আরম্ভ করল না, তার সাওম নেই”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ২৪৫৪; তিরমিযী, হাদীস নং ৭৩০; নাসাঈ: (৪/১৯৬); ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৭০০; আহমদ: (৬/২৮৭); সহীহ ইবন খুযাইমাহ, হাদীস নং ১৯৩৩, এ হাদীসটি মওকুফ ও মারফূ উভয়ভাবে বর্ণিত আছে, তবে মওকূফ বর্ণনা অধিক বিশুদ্ধ।] আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলতেন:
«لا يَصُومُ إِلَّا مَنْ أَجْمَعَ الصِّيامَ قَبْلَ الفَجْرِ» .
“সাওম রাখবে না, তবে যে ফজরের পূর্ব থেকে সাওম আরম্ভ করেছে”। [মুয়াত্তা মালেক: (১/২৮৮)।]
রাত থেকে সাওম আরম্ভ করার অর্থ হচ্ছে: রাত থেকে সাওমের দৃঢ় ও চূড়ান্ত নিয়ত করা, যে ফজরের পূর্বে সাওমের দৃঢ় নিয়ত করল না, তার সাওম হবে না। [তুহফাতুল আহওয়াযি: (৩/৩৫২)।]
ইমাম তিরমিযী রহ. বলেন, আলিমদের নিকট এ হাদীসের অর্থ হচ্ছে: রমযান মাসে ফজরের পূর্বে যে সাওম আরম্ভ করল না অথবা রমযানের কাযা অথবা মান্নতের সাওমে যে রাত থেকে নিয়ত করল না, তার সাওম শুদ্ধ হবে না। হ্যাঁ, নফল সাওমের নিয়ত ভোর হওয়ার পর বৈধ। এটা ইমাম শাফেঈ, আহমদ ও ইসহাকের অভিমত। [জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৩/১০৮)।]
শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. সিয়ামে ইবাদতের নিয়ত করা জরুরি, যদি কেউ স্বাস্থ্য রক্ষা, ডাক্তারের পরামর্শ, পানাহারের প্রতি অনীহা বা অন্য কারণে খাদ্য ও স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাকে, তার এ বিরত থাকা শর‘ঈ সাওম গণ্য হবে না, সে এ কারণে সাওয়াব পাবে না।
দুই. নিয়ত অন্তরের আমল। অতএব, যার অন্তরে এ ধারণা হলো যে, আগামীকাল সে সওম রাখবে, সে নিয়ত করল।
তিন. ওয়াজিব সাওম যেমন রমযান, মানত ও কাফ্ফারার ক্ষেত্রে পূর্ণ দিন তথা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সাওমের নিয়তে থাকা জরুরি। যে ব্যক্তি দিনের কোনো অংশে সাওমের নিয়ত করল, তার সাওম পূর্ণ দিন ব্যাপী হলো না, তাই তার সাওম শুদ্ধ হবে না। এ জন্য ওয়াজিব সাওমে সুবহে সাদিকের পূর্ব থেকে নিয়ত করা জরুরি।
চার. রাতের যে কোনো অংশে ফরয বা নফল সাওমের নিয়ত করা বৈধ। নিয়ত করার পর সাওম পরিপন্থী কোনো কাজ করলে নিয়ত নষ্ট হবে না, নতুন নিয়তের প্রয়োজন নেই।