১
রমযানের বিষয়ভিত্তিক হাদীস শিক্ষা ও মাসায়েল
লেখকঃ ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ আল-হাকীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৮
২৫. মুসাফির, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারীর সিয়াম ভঙ্গ করা
আনাস ইবন মালিক আল-কা‘বি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাহিনী আমার কাওমের উপর আক্রমণ করেছিল। তখন আমি তার নিকট এলাম, তিনি খানা খাচ্ছিলেন। তিনি বললেন: কাছে আস, খাও। আমি বললাম: আমি সাওম পালনকারী। তিনি বললেন: বস, আমি তোমাকে সাওম অথবা সিয়াম সম্পর্কে বলছি। আল্লাহ তা‘আলা মুসাফির থেকে অর্ধেক সালাত হ্রাস করেছেন, মুসাফির, গর্ভবতী ও স্তন্য-দানকারী থেকে সাওম অথবা সিয়াম স্থগিত করেছেন। হায় আফসোস! সেদিন যদি আমি রাসূলের খানা থেকে কিছু ভক্ষণ করতাম! [আবু দাউদ, হাদীস নং ২৪০৮; আহমদ: (৪/৩৪৭); তিরমিযী, হাদীস নং ৭১৫, তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান। ইবন মাজাহ: (১৬৬৭) তাবরানি ফিল কাবির: (১/২৬৩) হাদীস নং ৭৬৫; বায়হাকি: (৪/২৩১) সহীহ আবু দাউদ লিল আলবানি। শাইখ ইবন বাযও তার ফাতাওয়ায় হাদীসটি সহীহ বলেছেন: (১৫/২২৪)।]
শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. বান্দার ওপর আল্লাহর দয়া যে, তিনি অক্ষম ব্যক্তিদের থেকে কতক আহকাম স্থগিত করে দিয়েছেন, যারা তা পালনে অপারগ বা তা আদায়ে কষ্ট ও ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুই. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সদাচরণ যে তিনি আনাসকে খানার জন্য আহ্বান করেছেন। তিনি উম্মতের কল্যাণে ছিলেন অতি আগ্রহী, তাই প্রয়োজনীয় জিনিস তাদের বাতলে দিতেন।
তিন. মুসাফিরের জন্য ইফতার ও কসর করা বৈধ, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে রুখসত, আল্লাহ যেমন আজিমত পছন্দ করেন, তেমন তিনি রুখসত পছন্দ করেন।
চার. গর্ভবতীর জন্য আল্লাহ রমযানে সিয়াম সাধনা স্থগিত করে দিয়েছেন। কারণ, গর্ভে বিদ্যমান বাচ্চা মায়ের খাদ্য থেকে খাবার গ্রহণ করে, যদি মা সিয়াম পালন করে, তবে তার কষ্ট হতে পারে বা তার ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে, তাই আল্লাহ তার থেকে সিয়াম স্থগিত করে দিয়েছেন।
পাঁচ. স্তন্য-দানকারীর ওপর আল্লাহ সিয়াম স্থগিত করে দিয়েছেন, কারণ, স্তন্য দানকারী মায়ের বারবার খাবার গ্রহণ করা জরুরি, অন্যথায় তার বা তার বাচ্চার ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
ছয়. জ্বলন্ত ব্যক্তিকে বাঁচানো, পানিতে নিমজ্জিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা বা নিষ্পাপ শিশুকে মুক্ত করার জন্য যার সিয়াম ভঙ্গ করা জরুরি হয়, সে এর অন্তর্ভুক্ত। [দেখুন: আশ-শারহুল মুমতি: (৬/৩৫০-৩৫১); মুনতাকা মিন ফাতাওয়া শাইখ ইবন বায: (৩/১৪১)।]
সাত. গর্ভবতী ও স্তন্য দানকারী যদি নিজের জানের ভয় অথবা নিজের ও বাচ্চার ক্ষতির ভয়ে সিয়াম ভঙ্গ করে, তাহলে তাদের শুধু কাযা করাই যথেষ্ট, এতে কারো দ্বিমত নেই। কারণ, তারা অসুস্থ ব্যক্তিদের ন্যায়, অতএব তাদের মত তারা সুবিধা ভোগ করবে। [আল-মুগনি: (৪/৩৯৩-৩৯৪); যাখিরাতুল উকবা: (২১১/২১৪)।] আর মায়েরা যদি শুধু বাচ্চার আশঙ্কায় সাওম ভঙ্গ করে, তাহলে এতে আলিমদের দ্বিমত রয়েছে। তবে যার ওপর ফাতওয়া, ইনশাআল্লাহ তাই বিশুদ্ধ যে, তাদের শুধু কাযা করতে হবে। কারণ, তারা অসুস্থ ব্যক্তিদের ন্যায়। দ্বিতীয়ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওম স্থগিত করার ব্যাপারে মুসাফির ও তাদেরকে একসাথে উল্লেখ করেছেন, এটা সর্বজন বিদিত যে, মুসাফির কাযা করবে, তার উপর খাদ্যদান জরুরি নয়, অনুরূপ গর্ভবতী ও দুগ্ধ দানকারী।
শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. বান্দার ওপর আল্লাহর দয়া যে, তিনি অক্ষম ব্যক্তিদের থেকে কতক আহকাম স্থগিত করে দিয়েছেন, যারা তা পালনে অপারগ বা তা আদায়ে কষ্ট ও ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুই. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সদাচরণ যে তিনি আনাসকে খানার জন্য আহ্বান করেছেন। তিনি উম্মতের কল্যাণে ছিলেন অতি আগ্রহী, তাই প্রয়োজনীয় জিনিস তাদের বাতলে দিতেন।
তিন. মুসাফিরের জন্য ইফতার ও কসর করা বৈধ, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে রুখসত, আল্লাহ যেমন আজিমত পছন্দ করেন, তেমন তিনি রুখসত পছন্দ করেন।
চার. গর্ভবতীর জন্য আল্লাহ রমযানে সিয়াম সাধনা স্থগিত করে দিয়েছেন। কারণ, গর্ভে বিদ্যমান বাচ্চা মায়ের খাদ্য থেকে খাবার গ্রহণ করে, যদি মা সিয়াম পালন করে, তবে তার কষ্ট হতে পারে বা তার ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে, তাই আল্লাহ তার থেকে সিয়াম স্থগিত করে দিয়েছেন।
পাঁচ. স্তন্য-দানকারীর ওপর আল্লাহ সিয়াম স্থগিত করে দিয়েছেন, কারণ, স্তন্য দানকারী মায়ের বারবার খাবার গ্রহণ করা জরুরি, অন্যথায় তার বা তার বাচ্চার ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
ছয়. জ্বলন্ত ব্যক্তিকে বাঁচানো, পানিতে নিমজ্জিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা বা নিষ্পাপ শিশুকে মুক্ত করার জন্য যার সিয়াম ভঙ্গ করা জরুরি হয়, সে এর অন্তর্ভুক্ত। [দেখুন: আশ-শারহুল মুমতি: (৬/৩৫০-৩৫১); মুনতাকা মিন ফাতাওয়া শাইখ ইবন বায: (৩/১৪১)।]
সাত. গর্ভবতী ও স্তন্য দানকারী যদি নিজের জানের ভয় অথবা নিজের ও বাচ্চার ক্ষতির ভয়ে সিয়াম ভঙ্গ করে, তাহলে তাদের শুধু কাযা করাই যথেষ্ট, এতে কারো দ্বিমত নেই। কারণ, তারা অসুস্থ ব্যক্তিদের ন্যায়, অতএব তাদের মত তারা সুবিধা ভোগ করবে। [আল-মুগনি: (৪/৩৯৩-৩৯৪); যাখিরাতুল উকবা: (২১১/২১৪)।] আর মায়েরা যদি শুধু বাচ্চার আশঙ্কায় সাওম ভঙ্গ করে, তাহলে এতে আলিমদের দ্বিমত রয়েছে। তবে যার ওপর ফাতওয়া, ইনশাআল্লাহ তাই বিশুদ্ধ যে, তাদের শুধু কাযা করতে হবে। কারণ, তারা অসুস্থ ব্যক্তিদের ন্যায়। দ্বিতীয়ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওম স্থগিত করার ব্যাপারে মুসাফির ও তাদেরকে একসাথে উল্লেখ করেছেন, এটা সর্বজন বিদিত যে, মুসাফির কাযা করবে, তার উপর খাদ্যদান জরুরি নয়, অনুরূপ গর্ভবতী ও দুগ্ধ দানকারী।