১
রমযানের বিষয়ভিত্তিক হাদীস শিক্ষা ও মাসায়েল
লেখকঃ ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ আল-হাকীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৪
২১. আযান ও সাহরির মাঝে ব্যবধান
আনাস ইবন মালিক রহ., যায়েদ ইবন সাবেত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
«تَسَحَّرْنَا مَعَ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَامَ إِلى الصَّلاةِ، قَلْتُ : كَمْ كَانَ بَينَ الأَذَانِ والسَّحُورِ؟ قَالَ : قَدْرُ خَمْسِينَ آيَةً» .
“আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাহরি খেলাম, অতঃপর তিনি সালাতের জন্য দাঁড়ালেন। আমি বললাম: আযান ও সাহরির মধ্যে ব্যবধান কি ছিল? তিনি বললেন: পঞ্চাশ আয়াত পরিমাণ”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮২১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০৯৭; তিরমিযী, হাদীস নং ৭০৩; নাসাঈ: (৪/১৩৪; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৬৯৪।]
সহীহ বুখারীর অপর বর্ণনায় আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত:
«أَنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم وَزَيْدَ بنَ ثَابِتٍ تَسَحَّرا فَلَما فَرَغَا مِنْ سَحُورِهِمَا قَامَ نَبيُّ الله صلى الله عليه وسلم إِلى الصَّلاةِ فَصَلَّى، قُلْنَا لأَنَسٍ : كَمْ كَانَ بَيْنَ فَراغِهِما مِنْ سَحُورِهِمَا وَدُخُولهما في الصَّلاةِ؟ قَالَ : قَدْرُ مَا يَقْرَأُ الرَجُلُ خَمسينَ آيَةً» .
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও জায়েদ ইবন সাবেত এক সঙ্গে সাহরি খান, যখন তারা সাহরি থেকে ফারেগ হলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের জন্য দাঁড়ালেন ও সালাত আদায় করলেন। আমরা আনাসকে বললাম: তাদের সাহরি ও সালাত আরম্ভের মধ্যে ব্যবধান কি ছিল? তিনি বললেন: যতটুকু সময়ে একজন ব্যক্তি পঞ্চাশ আয়াত পড়ে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৫১।]
শিক্ষা ও মাসায়েল [শারহুন নববী আলা মুসলিম, হাদীস নং ৭/২০৭-২০৮), ফাতহুল বারি: (৪/১৩৮-১৩৯), তুহফাতুল আহওয়াযি: (৩/৩১৭); শারহু ইবন মুলাক্কিন আলাল উমদাহ: (১৯৩-১৯৪); ইযাহুল মাসালেক ইলা মুয়াত্তা ইমাম মালেক, লিল কান্দলভী: (৫/৫৮); যাখিরাতুল উকবা: (২০/৩৫৭-৩৭৭)।]:
এক. সাহরিতে বিলম্ব করা সুন্নাত। এতে যেমন সাওমের শক্তি অর্জন হয়, তেমন কিতাবিদের সুস্পষ্ট বিরোধিতা হয়।
দুই. সাহাবীদের সময় ইবাদতে পরিপূর্ণ ছিল, এ জন্য যায়েদ কুরআন তিলাওয়াতের পরিমাণ দ্বারা সময়ের পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন।
তিন. শারীরিক কর্ম দ্বারা সময় পরিমাপ করা বৈধ, যেমন আরবরা বলত: বকরির দুধ দোহনের পরিমাণ, উটের বাচ্চা নহর করার পরিমাণ ইত্যাদি।
চার. সাহরি ও আযানের ব্যবধান মধ্যম গতির তিলাওয়াতে স্বাভাবিক পর্যায়ের পঞ্চাশ আয়াত পরিমাণ। [দেখুন: ফাতহুল বারি: (৪/১৩৮); তুহফাতুল আহওয়াযি: (৩/৩১৭)।]
পাঁচ. সাহরি বিলম্ব করা সুন্নাত, তবে সাহরির শেষ পর্যন্ত স্ত্রীগমন তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তার দ্বারা সাওমের শক্তি অর্জন হয় না, বরং তাতে কাফ্ফারা ওয়াজিব ও সাওম বিনষ্টের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, কখনো এমন হবে, ফজর উদিত হচ্ছে, কিন্তু সে উত্তেজনার কারণে রমন ক্রিয়া বন্ধ করতে পারছে না।
ছয়. ইলম অর্জন করা, মাসায়েল জানা, সুন্নাত অনুসন্ধান করা, ইবাদতের সময় জানা ও তদনুরূপ আমল করা জরুরি। কারণ, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: “সাহরি ও আযানের ব্যবধান কী ছিল”? যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: “পঞ্চাশ আয়াত পরিমাণ”।
সাত. উম্মতের ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দয়া যে, সিয়ামের শক্তির জন্য সাহরির বিধান দেন, অতঃপর তিনি স্বেচ্ছায় তা বিলম্ব করেন, যেন সাহাবীরা এতে তার অনুসরণ করে। তিনি সাহরি না খেলে তার অনুসরণ করা তাদের জন্য কষ্টকর ছিল, আবার প্রথম রাত বা মধ্য রাতে সাহরি খেলে সাহরির অনেক উদ্দেশ্য বিফল হত।
আট. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে শিষ্টাচার ও আদব রক্ষা করা জরুরি। এখানে যেমন যায়েদ বলেছেন: “আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাহরি খেয়েছি”। তিনি বলেন নি: “আমরা ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহরি খেয়েছি”। কারণ, সাথীত্ব আনুগত্যের প্রমাণ বহন করে।
«تَسَحَّرْنَا مَعَ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَامَ إِلى الصَّلاةِ، قَلْتُ : كَمْ كَانَ بَينَ الأَذَانِ والسَّحُورِ؟ قَالَ : قَدْرُ خَمْسِينَ آيَةً» .
“আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাহরি খেলাম, অতঃপর তিনি সালাতের জন্য দাঁড়ালেন। আমি বললাম: আযান ও সাহরির মধ্যে ব্যবধান কি ছিল? তিনি বললেন: পঞ্চাশ আয়াত পরিমাণ”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮২১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০৯৭; তিরমিযী, হাদীস নং ৭০৩; নাসাঈ: (৪/১৩৪; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৬৯৪।]
সহীহ বুখারীর অপর বর্ণনায় আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত:
«أَنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم وَزَيْدَ بنَ ثَابِتٍ تَسَحَّرا فَلَما فَرَغَا مِنْ سَحُورِهِمَا قَامَ نَبيُّ الله صلى الله عليه وسلم إِلى الصَّلاةِ فَصَلَّى، قُلْنَا لأَنَسٍ : كَمْ كَانَ بَيْنَ فَراغِهِما مِنْ سَحُورِهِمَا وَدُخُولهما في الصَّلاةِ؟ قَالَ : قَدْرُ مَا يَقْرَأُ الرَجُلُ خَمسينَ آيَةً» .
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও জায়েদ ইবন সাবেত এক সঙ্গে সাহরি খান, যখন তারা সাহরি থেকে ফারেগ হলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের জন্য দাঁড়ালেন ও সালাত আদায় করলেন। আমরা আনাসকে বললাম: তাদের সাহরি ও সালাত আরম্ভের মধ্যে ব্যবধান কি ছিল? তিনি বললেন: যতটুকু সময়ে একজন ব্যক্তি পঞ্চাশ আয়াত পড়ে”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৫১।]
শিক্ষা ও মাসায়েল [শারহুন নববী আলা মুসলিম, হাদীস নং ৭/২০৭-২০৮), ফাতহুল বারি: (৪/১৩৮-১৩৯), তুহফাতুল আহওয়াযি: (৩/৩১৭); শারহু ইবন মুলাক্কিন আলাল উমদাহ: (১৯৩-১৯৪); ইযাহুল মাসালেক ইলা মুয়াত্তা ইমাম মালেক, লিল কান্দলভী: (৫/৫৮); যাখিরাতুল উকবা: (২০/৩৫৭-৩৭৭)।]:
এক. সাহরিতে বিলম্ব করা সুন্নাত। এতে যেমন সাওমের শক্তি অর্জন হয়, তেমন কিতাবিদের সুস্পষ্ট বিরোধিতা হয়।
দুই. সাহাবীদের সময় ইবাদতে পরিপূর্ণ ছিল, এ জন্য যায়েদ কুরআন তিলাওয়াতের পরিমাণ দ্বারা সময়ের পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন।
তিন. শারীরিক কর্ম দ্বারা সময় পরিমাপ করা বৈধ, যেমন আরবরা বলত: বকরির দুধ দোহনের পরিমাণ, উটের বাচ্চা নহর করার পরিমাণ ইত্যাদি।
চার. সাহরি ও আযানের ব্যবধান মধ্যম গতির তিলাওয়াতে স্বাভাবিক পর্যায়ের পঞ্চাশ আয়াত পরিমাণ। [দেখুন: ফাতহুল বারি: (৪/১৩৮); তুহফাতুল আহওয়াযি: (৩/৩১৭)।]
পাঁচ. সাহরি বিলম্ব করা সুন্নাত, তবে সাহরির শেষ পর্যন্ত স্ত্রীগমন তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তার দ্বারা সাওমের শক্তি অর্জন হয় না, বরং তাতে কাফ্ফারা ওয়াজিব ও সাওম বিনষ্টের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, কখনো এমন হবে, ফজর উদিত হচ্ছে, কিন্তু সে উত্তেজনার কারণে রমন ক্রিয়া বন্ধ করতে পারছে না।
ছয়. ইলম অর্জন করা, মাসায়েল জানা, সুন্নাত অনুসন্ধান করা, ইবাদতের সময় জানা ও তদনুরূপ আমল করা জরুরি। কারণ, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: “সাহরি ও আযানের ব্যবধান কী ছিল”? যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: “পঞ্চাশ আয়াত পরিমাণ”।
সাত. উম্মতের ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দয়া যে, সিয়ামের শক্তির জন্য সাহরির বিধান দেন, অতঃপর তিনি স্বেচ্ছায় তা বিলম্ব করেন, যেন সাহাবীরা এতে তার অনুসরণ করে। তিনি সাহরি না খেলে তার অনুসরণ করা তাদের জন্য কষ্টকর ছিল, আবার প্রথম রাত বা মধ্য রাতে সাহরি খেলে সাহরির অনেক উদ্দেশ্য বিফল হত।
আট. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে শিষ্টাচার ও আদব রক্ষা করা জরুরি। এখানে যেমন যায়েদ বলেছেন: “আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাহরি খেয়েছি”। তিনি বলেন নি: “আমরা ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহরি খেয়েছি”। কারণ, সাথীত্ব আনুগত্যের প্রমাণ বহন করে।