১
রমযানের বিষয়ভিত্তিক হাদীস শিক্ষা ও মাসায়েল
লেখকঃ ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ আল-হাকীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৮
১৫. সাওম পালনকারীকে ইফতার করানোর ফযীলত
জায়েদ ইবন খালেদ জুহানি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«مَن فَطَّرَ صَائماً كَانَ له مِثْلُ أَجْرِهِ غَيْرَ أَنَّهُ لا يَنقُصُ مِن أَجْرِ الصَّائِمِ شَيئاً»
“যে সাওম পালনকারীকে ইফতার করাল, তার সাওম পালনকারীর ন্যায় সাওয়াব হবে, তবে সাওম পালনকারীর নেকি বিন্দুমাত্র কমানো হবে না”। [তিরমিযী, হাদীস নং ৮০৭; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৭৪৬; নাসাঈ ফিল কুবরা, হাদীস নং ৩৩৩০-৩৩৩১; সহীহ ইবন খুযাইমাহ, হাদীস নং ২০৬৪; ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৩৪২৯। নাসাঈ আয়েশা থেকে মওকুফ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন, দেখুন: নাসাঈ ফিল কুবরা, হাদীস নং ৩৩৩২; আব্দুর রায্যাক আবু হুরায়রা থেকে মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, দেখুন: আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৭৯০৬।] অপর বর্ণনায় আছে :
«مَنْ فَطَّر صَائماً أَطعَمَهُ وسَقَاهُ كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنقُصَ مِنْ أَجْرِهِ شَيء» .
“যে সাওম পালনকারীকে ইফতার করাল, তাকে পানাহার করাল, তার সাওম পালনকারীর সমান সাওয়াব হবে, তবে তার নেকি থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না”। [আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৭৯০৫; তাবরানি ফিল কাবির: (৫/২৫৬), হাদীস নং ৫২৬৯।]
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তাকে এক মহিলা ইফতারের জন্য দাওয়াত করল, তিনি তাতে সাড়া দিলেন এবং বললেন: “আমি তোমাকে বলছি, যে গৃহবাসী কোনো সাওম পালনকারীকে ইফতার করাবে, তাদের জন্য তার অনুরূপ সাওয়াব হবে। মহিলা বলল: আমি চাই আপনি ইফতারের জন্য আমার কাছে কিছুক্ষণ অবস্থান করুন, বা এ জাতীয় কিছু বলেছে। তিনি বললেন: আমি চাই এ নেকি আমার পরিবার হাসিল করুক। [মুসান্নাফ ইবন আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৭৯০৮।]
শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. আল্লাহ তা‘আলার অসীম অনুগ্রহ যে, তিনি কল্যাণের নানা ক্ষেত্র উন্মুক্ত করেছেন। যেমন তিনি মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করার আহ্বান জানিয়ে মহান সওয়াবের ঘোষণা দিয়েছেন। [আরেযাতুল আহওয়াযি: (৪/২১)।]
দুই. সাওম পালনকারীকে ইফতার করানো একটি ফযীলতপূর্ণ আমল, যে সাওম পালনকারীকে ইফতার করাবে সে তার ন্যায় নেকি লাভ করবে।
তিন. সাওম পালনকারীকে ইফতার করালে তার বদলা আল্লাহ নিজের পক্ষ থেকে প্রদান করেন, সাওম পালনকারীর পক্ষ থেকে নয়। অতএব সাওম পালনকারীর সামান্য নেকি হ্রাস হবে না, এটা আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহের আলামত। [ফায়যুল কাদির: (৬/১৮৭)।]
চার. এ থেকে বুঝা যায় ইফতারের দাওয়াত গ্রহণ করা বৈধ, বুজুর্গি দেখিয়ে বা নেকি কমার আশঙ্কায় তা প্রত্যাখ্যান করা বাড়াবাড়ি। কারণ, অপরের নিকট ইফতার করলে সাওম পালনকারীর পুণ্য কমে না। তবে শুধু মিসকিনদের জন্য ইফতারের দাওয়াত হলে, সেখানে ধনীদের যাওয়া ঠিক নয়।
পাঁচ. আত্মীয়দের সঙ্গে সদাচার ও তাদের খুশির জন্য দাওয়াতে সাড়া দেওয়া ও ইফতার করা বৈধ, যেন তাদের পুণ্য হাসিল হয়, যেমন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু করেছেন।
ছয়. যে ইফতার করাবে, সে নেকি ও অপরের প্রতি ইহসানের নিয়ত করবে, বিশেষ করে সাওম পালনকারী যদি গরিব হয়।
সাত. সাওম পালনকারীকে বাসায় নিয়ে আপ্যায়ন করা, বা খাবার প্রস্তুত করে তার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া ইফতার করানোর শামিল, তবে অপচয় না করা, বিশেষ করে রকমারি ইফতারের এ যুগে।
আট. কেউ যদি গরিবকে টাকা দেয়, যার কিছু দিয়ে সে ইফতার করল, বাকিটা সংগ্রহে রেখে দিল, বাহ্যত তা ইফতার করানোর হাদীসের অন্তর্ভুক্ত হবে, অধিকন্তু সে আর্থিকভাবে উপকৃত হলো।
«مَن فَطَّرَ صَائماً كَانَ له مِثْلُ أَجْرِهِ غَيْرَ أَنَّهُ لا يَنقُصُ مِن أَجْرِ الصَّائِمِ شَيئاً»
“যে সাওম পালনকারীকে ইফতার করাল, তার সাওম পালনকারীর ন্যায় সাওয়াব হবে, তবে সাওম পালনকারীর নেকি বিন্দুমাত্র কমানো হবে না”। [তিরমিযী, হাদীস নং ৮০৭; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৭৪৬; নাসাঈ ফিল কুবরা, হাদীস নং ৩৩৩০-৩৩৩১; সহীহ ইবন খুযাইমাহ, হাদীস নং ২০৬৪; ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৩৪২৯। নাসাঈ আয়েশা থেকে মওকুফ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন, দেখুন: নাসাঈ ফিল কুবরা, হাদীস নং ৩৩৩২; আব্দুর রায্যাক আবু হুরায়রা থেকে মওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, দেখুন: আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৭৯০৬।] অপর বর্ণনায় আছে :
«مَنْ فَطَّر صَائماً أَطعَمَهُ وسَقَاهُ كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنقُصَ مِنْ أَجْرِهِ شَيء» .
“যে সাওম পালনকারীকে ইফতার করাল, তাকে পানাহার করাল, তার সাওম পালনকারীর সমান সাওয়াব হবে, তবে তার নেকি থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না”। [আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৭৯০৫; তাবরানি ফিল কাবির: (৫/২৫৬), হাদীস নং ৫২৬৯।]
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তাকে এক মহিলা ইফতারের জন্য দাওয়াত করল, তিনি তাতে সাড়া দিলেন এবং বললেন: “আমি তোমাকে বলছি, যে গৃহবাসী কোনো সাওম পালনকারীকে ইফতার করাবে, তাদের জন্য তার অনুরূপ সাওয়াব হবে। মহিলা বলল: আমি চাই আপনি ইফতারের জন্য আমার কাছে কিছুক্ষণ অবস্থান করুন, বা এ জাতীয় কিছু বলেছে। তিনি বললেন: আমি চাই এ নেকি আমার পরিবার হাসিল করুক। [মুসান্নাফ ইবন আব্দুর রায্যাক, হাদীস নং ৭৯০৮।]
শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. আল্লাহ তা‘আলার অসীম অনুগ্রহ যে, তিনি কল্যাণের নানা ক্ষেত্র উন্মুক্ত করেছেন। যেমন তিনি মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করার আহ্বান জানিয়ে মহান সওয়াবের ঘোষণা দিয়েছেন। [আরেযাতুল আহওয়াযি: (৪/২১)।]
দুই. সাওম পালনকারীকে ইফতার করানো একটি ফযীলতপূর্ণ আমল, যে সাওম পালনকারীকে ইফতার করাবে সে তার ন্যায় নেকি লাভ করবে।
তিন. সাওম পালনকারীকে ইফতার করালে তার বদলা আল্লাহ নিজের পক্ষ থেকে প্রদান করেন, সাওম পালনকারীর পক্ষ থেকে নয়। অতএব সাওম পালনকারীর সামান্য নেকি হ্রাস হবে না, এটা আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহের আলামত। [ফায়যুল কাদির: (৬/১৮৭)।]
চার. এ থেকে বুঝা যায় ইফতারের দাওয়াত গ্রহণ করা বৈধ, বুজুর্গি দেখিয়ে বা নেকি কমার আশঙ্কায় তা প্রত্যাখ্যান করা বাড়াবাড়ি। কারণ, অপরের নিকট ইফতার করলে সাওম পালনকারীর পুণ্য কমে না। তবে শুধু মিসকিনদের জন্য ইফতারের দাওয়াত হলে, সেখানে ধনীদের যাওয়া ঠিক নয়।
পাঁচ. আত্মীয়দের সঙ্গে সদাচার ও তাদের খুশির জন্য দাওয়াতে সাড়া দেওয়া ও ইফতার করা বৈধ, যেন তাদের পুণ্য হাসিল হয়, যেমন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু করেছেন।
ছয়. যে ইফতার করাবে, সে নেকি ও অপরের প্রতি ইহসানের নিয়ত করবে, বিশেষ করে সাওম পালনকারী যদি গরিব হয়।
সাত. সাওম পালনকারীকে বাসায় নিয়ে আপ্যায়ন করা, বা খাবার প্রস্তুত করে তার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া ইফতার করানোর শামিল, তবে অপচয় না করা, বিশেষ করে রকমারি ইফতারের এ যুগে।
আট. কেউ যদি গরিবকে টাকা দেয়, যার কিছু দিয়ে সে ইফতার করল, বাকিটা সংগ্রহে রেখে দিল, বাহ্যত তা ইফতার করানোর হাদীসের অন্তর্ভুক্ত হবে, অধিকন্তু সে আর্থিকভাবে উপকৃত হলো।