১
রমযানের বিষয়ভিত্তিক হাদীস শিক্ষা ও মাসায়েল
লেখকঃ ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ আল-হাকীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪০
৩৭. সিয়ামের ফযীলত
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«الصِّيَامُ جُنَّة» .
“সিয়াম ঢাল”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং বুখারি: (১৭৯৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৫১)] মুসনাদে আহমদের এক বর্ণনায় আছে:
«الصِّيَامُ جُنَّةٌ وحِصْنٌ حَصِينٌ من النَّار» .
“সিয়াম ঢাল ও জাহান্নাম থেকে সুরক্ষার মজবুত কিল্লা”। [আহমদ: (২/৪০২)]
জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«إنَّ الصِّيامَ جُنَّـةٌ يَستَجِنُّ بها العَبدُ من النَّارِ» .
“নিশ্চয় সিয়াম ঢাল, বান্দা এর দ্বারা জাহান্নাম থেকে সুরক্ষা লাভ করবে”। [আহমদ: (৩/৩৯৬)]
উসমান ইবন আবুল আস সাকাফি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
«الصِّيامُ جُنَّـةٌ مِنَ النَّارِ كَجُنَّةِ أَحَدِكُم من القِتَال» .
“সিয়াম জাহান্নাম থেকে ঢাল, তোমাদের কারো যুদ্ধের ময়দানের ঢালের ন্যায়”। [আহমদ: (৪/২২); নাসাঈ: (৪/১৬৭; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৬৩৯; সহীহ ইবন খুযাইমাহ, হাদীস নং ২১২৫; সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৩৬৪৯।]
আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
«الصَّومُ جُنَّـةٌ ما لم يَخْرِقْهَا» .
“সওম ঢাল, যতক্ষণ না তা ভাঙ্গা হয়”। [নাসাঈ: (৪/১৬৭); আহমদ: (১/১৯৫); তায়ালিসি, হাদীস নং ২২৭; আবু ইয়ালা, হাদীস নং ৮৭৮; দারামি, হাদীস নং ১৭৩২; মুনযিরি হাদীসটি হাসান বলেছেন: (২/৯৪০), হাদীস নং ১৬৪৩, শাইখ আহমদ শাকের হাদীসটি সহীহ বলেছেন: (১৬৯০), এ হাদীসের সনদে বাশ্শার ইবন আবু ইয়াসূফ আল-জুরমি রয়েছেন, যাকে ইবন হিব্বান ব্যতীত কেউ গ্রহণ যোগ্য বলেন নি, দায়িফে সুনান নাসাঈতে আলবানি হাদীসটি দুর্বল বলেছেন, তিনি হয়তো এ কারণে হাদীসটি দুর্বল বলেছেন, তবে অন্যান্য হাদীস দ্বারা এটি শক্তিশালী হয়। ইমাম কুরতুবি সাওম সুরক্ষা ও ঢাল এর ব্যাখ্যায় বলেন:ক. সাওম প্রকৃত পক্ষে ঢাল, তাই সাওম পালনকারীর কর্তব্য এ ঢালের হিফাজত করা, এ দিকে ইশারা করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «فلا يرفثْ ...».খ. সাওম উপকারিতার ভিত্তিতে ঢাল স্বরূপ, অর্থাৎ প্রবৃত্তিকে দুর্বল করে -এ হিসেবে। এদিকে ইশারা করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «يذر شهوته وطعامه من أجلي» “সে তার প্রবৃত্তি ও খানা আমার জন্য ত্যাগ করে”।গ. সাওম সওয়াবের হিসেবে ঢাল স্বরূপ, এ দিকে ইশারা করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «من صام يوماً في سبيل الله باعد الله وجهه عن النار سبعين خريفاً» .“আল্লাহর রাস্তায় যে একদিন সাওম পালন করল, আল্লাহ তার চেহারা জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে নিয়ে যাবেন”।]
الجُنَّةُ শব্দের অর্থ: সুরক্ষা ও পর্দা। অর্থাৎ সিয়াম জাহান্নামের আগুন থেকে সুরক্ষা ও পর্দাস্বরূপ। []
শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. সিয়াম কু-প্রবৃত্তিকে বশীভূত করে, যে কু-প্রবৃত্তি ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যায়। এ জন্য সাওম জাহান্নামের ঢালস্বরূপ। ইরাকি বলেন, “সওম জাহান্নামের ঢাল, কারণ, সে প্রবৃত্ত থেকে বিরত রাখে, আর জাহান্নাম প্রবৃত্তি দ্বারা আবৃত”। [দেখুন: তারহুত তাসরিব ফি শারহিত তাকরিব: (৪/৯০)।]
দুই. সাওম ফযীলত পূর্ণ, মুসলিমদের উচিৎ অধিক পরিমাণ নফল সাওম পালন করা, যদি সে তার ক্ষমতা রাখে ও তার চেয়ে উত্তম আমলের প্রতিবন্ধক না হয়, যেমন জিহাদ ইত্যাদি।
তিন. সে সাওম জাহান্নামের ঢাল স্বরূপ, যে সাওমে সাওয়াব হ্রাসকারী বা সাওম বিনষ্টকারী কথা বা কর্ম সংঘটিত হয়নি, যেমন গীবত, নামীমা, মিথ্যা ও গালি। কারণ, আবু উবাইদার বর্ণনা এসেছে: “সওম ঢাল, যতক্ষণ না সে তা ভেঙ্গে ফেলে”। সাওম ভঙ্গ হয় হারাম কর্ম দ্বারা, অতএব, সাওম পালনকারীর উচিৎ তার সাওমকে সাওয়াব বিনষ্টকারী অথবা সাওয়াব হ্রাসকারী কর্মকাণ্ড থেকে হিফজত করা, যেন তার সাওম তার জন্য জাহান্নামের ঢাল হয়।
চার. সাওমের উদ্দেশ্য নফসকে পবিত্র করা ও অন্তর সংশোধন করা, শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকা নয়।
«الصِّيَامُ جُنَّة» .
“সিয়াম ঢাল”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং বুখারি: (১৭৯৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৫১)] মুসনাদে আহমদের এক বর্ণনায় আছে:
«الصِّيَامُ جُنَّةٌ وحِصْنٌ حَصِينٌ من النَّار» .
“সিয়াম ঢাল ও জাহান্নাম থেকে সুরক্ষার মজবুত কিল্লা”। [আহমদ: (২/৪০২)]
জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«إنَّ الصِّيامَ جُنَّـةٌ يَستَجِنُّ بها العَبدُ من النَّارِ» .
“নিশ্চয় সিয়াম ঢাল, বান্দা এর দ্বারা জাহান্নাম থেকে সুরক্ষা লাভ করবে”। [আহমদ: (৩/৩৯৬)]
উসমান ইবন আবুল আস সাকাফি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
«الصِّيامُ جُنَّـةٌ مِنَ النَّارِ كَجُنَّةِ أَحَدِكُم من القِتَال» .
“সিয়াম জাহান্নাম থেকে ঢাল, তোমাদের কারো যুদ্ধের ময়দানের ঢালের ন্যায়”। [আহমদ: (৪/২২); নাসাঈ: (৪/১৬৭; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৬৩৯; সহীহ ইবন খুযাইমাহ, হাদীস নং ২১২৫; সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৩৬৪৯।]
আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
«الصَّومُ جُنَّـةٌ ما لم يَخْرِقْهَا» .
“সওম ঢাল, যতক্ষণ না তা ভাঙ্গা হয়”। [নাসাঈ: (৪/১৬৭); আহমদ: (১/১৯৫); তায়ালিসি, হাদীস নং ২২৭; আবু ইয়ালা, হাদীস নং ৮৭৮; দারামি, হাদীস নং ১৭৩২; মুনযিরি হাদীসটি হাসান বলেছেন: (২/৯৪০), হাদীস নং ১৬৪৩, শাইখ আহমদ শাকের হাদীসটি সহীহ বলেছেন: (১৬৯০), এ হাদীসের সনদে বাশ্শার ইবন আবু ইয়াসূফ আল-জুরমি রয়েছেন, যাকে ইবন হিব্বান ব্যতীত কেউ গ্রহণ যোগ্য বলেন নি, দায়িফে সুনান নাসাঈতে আলবানি হাদীসটি দুর্বল বলেছেন, তিনি হয়তো এ কারণে হাদীসটি দুর্বল বলেছেন, তবে অন্যান্য হাদীস দ্বারা এটি শক্তিশালী হয়। ইমাম কুরতুবি সাওম সুরক্ষা ও ঢাল এর ব্যাখ্যায় বলেন:ক. সাওম প্রকৃত পক্ষে ঢাল, তাই সাওম পালনকারীর কর্তব্য এ ঢালের হিফাজত করা, এ দিকে ইশারা করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «فلا يرفثْ ...».খ. সাওম উপকারিতার ভিত্তিতে ঢাল স্বরূপ, অর্থাৎ প্রবৃত্তিকে দুর্বল করে -এ হিসেবে। এদিকে ইশারা করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «يذر شهوته وطعامه من أجلي» “সে তার প্রবৃত্তি ও খানা আমার জন্য ত্যাগ করে”।গ. সাওম সওয়াবের হিসেবে ঢাল স্বরূপ, এ দিকে ইশারা করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «من صام يوماً في سبيل الله باعد الله وجهه عن النار سبعين خريفاً» .“আল্লাহর রাস্তায় যে একদিন সাওম পালন করল, আল্লাহ তার চেহারা জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে নিয়ে যাবেন”।]
الجُنَّةُ শব্দের অর্থ: সুরক্ষা ও পর্দা। অর্থাৎ সিয়াম জাহান্নামের আগুন থেকে সুরক্ষা ও পর্দাস্বরূপ। []
শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. সিয়াম কু-প্রবৃত্তিকে বশীভূত করে, যে কু-প্রবৃত্তি ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যায়। এ জন্য সাওম জাহান্নামের ঢালস্বরূপ। ইরাকি বলেন, “সওম জাহান্নামের ঢাল, কারণ, সে প্রবৃত্ত থেকে বিরত রাখে, আর জাহান্নাম প্রবৃত্তি দ্বারা আবৃত”। [দেখুন: তারহুত তাসরিব ফি শারহিত তাকরিব: (৪/৯০)।]
দুই. সাওম ফযীলত পূর্ণ, মুসলিমদের উচিৎ অধিক পরিমাণ নফল সাওম পালন করা, যদি সে তার ক্ষমতা রাখে ও তার চেয়ে উত্তম আমলের প্রতিবন্ধক না হয়, যেমন জিহাদ ইত্যাদি।
তিন. সে সাওম জাহান্নামের ঢাল স্বরূপ, যে সাওমে সাওয়াব হ্রাসকারী বা সাওম বিনষ্টকারী কথা বা কর্ম সংঘটিত হয়নি, যেমন গীবত, নামীমা, মিথ্যা ও গালি। কারণ, আবু উবাইদার বর্ণনা এসেছে: “সওম ঢাল, যতক্ষণ না সে তা ভেঙ্গে ফেলে”। সাওম ভঙ্গ হয় হারাম কর্ম দ্বারা, অতএব, সাওম পালনকারীর উচিৎ তার সাওমকে সাওয়াব বিনষ্টকারী অথবা সাওয়াব হ্রাসকারী কর্মকাণ্ড থেকে হিফজত করা, যেন তার সাওম তার জন্য জাহান্নামের ঢাল হয়।
চার. সাওমের উদ্দেশ্য নফসকে পবিত্র করা ও অন্তর সংশোধন করা, শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকা নয়।