১
রমযানের বিষয়ভিত্তিক হাদীস শিক্ষা ও মাসায়েল
লেখকঃ ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ আল-হাকীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৪
৫১. সাতাশে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করা
যির ইবন হুবাইশ রহ. বলেন, “আমি উবাই ইবন কা‘বকে জিজ্ঞাসা করে বলি: তোমার ভাই ইবন মাসউদ বলেন, যে ব্যক্তি সারা বছর রাতে কিয়াম করবে সে লাইলাতুল কদর লাভ করবে। তিনি বললেন: আল্লাহ তার ওপর রহম করুন, তার উদ্দেশ্য মানুষ যেন অলস না হয়, অন্যথায় তিনি ভালো করে জানেন যে, লাইলাতুল কদর রমযানে, বিশেষ করে শেষ দশকে, বরং সাতাশে। অতঃপর তিনি শপথ করে বলেন, এতে সন্দেহ নেই লাইলাতুল কদর সাতাশে। আমি বললাম: আপনি তা কীভাবে বলেন, হে আবু আব্দুর রহমান, তিনি বললেন: নিদর্শন দেখে অথবা রাসূলের বাতলানো আলামত দেখে:
«أَنَّها تَطْلُعُ يَوْمَئذٍ لا شُعَاعَ لها»
“সেদিন সূর্য উদিত হবে যে, তার কিরণ থাকবে না”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৬২; আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩৭৮; তিরমিযী, হাদীস নং ৩৩৫১; আহমদ: (৫/১৩০)।]
ইমাম আহমদের এক বর্ণনায় আছে:
«أَنَّ الشَّمْسَ تَطْلُعُ غَدَاةَ إِذْ كَأَنَّها طَسْتٌ لَيْسَ لَها شُعَاعٌ»
“সেদিন সকালে সূর্য উদিত হবে, যেন তা গামলা, যার কোনো আলো নেই”। [আহমদ: (৫/১৩০), ইবন হিব্বান এ হাদীস সহীহ বলেছেন, হাদীস নং ৩৬৯০।]
তিরমিযীর এক বর্ণনায় আছে, উবাই বলেছেন: “আল্লাহর শপথ ইবন মাসউদ নিশ্চিত জানে যে, লাইলাতুল রমযানে এবং তা সাতাশে, কিন্তু তিনি তোমাদেরকে সংবাদ দিতে চান নি, যেন তোমরা অলস বসে না থাক”। [তিরমিযী, হাদীস নং ৭৯৩। তিনি হাদীসটি হাসান ও সহীহ বলেছেন।]
মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«لَيْلَةُ القَدْرِ لَيْلَةُ سَبْعٍ وعِشْرينَ» .
“লাইলাতুল কদর হচ্ছে সাতাশের রাত”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩৮৬; ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৩৬৮০। আলবানি তা সহীহ বলেছেন।]
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে জিজ্ঞাসা করে হে আল্লাহর নবী, আমি খুব বৃদ্ধ ও অসুস্থ লোক, আমার দ্বারা দাঁড়িয়ে থাকা খুব কঠিন, অতএব আমাকে এমন এক রাতের কথা বলুন, যেন সে রাতে আল্লাহ আমাকে লাইলাতুল কদর দান করেন, তিনি বললেন: তোমার উচিৎ সাতাশ আঁকড়ে ধরা”। [আহমদ: (১/২৪০); বায়হাকি: (৪/৩১২); তাবরানি ফিল কাবির: (১১/৩১১), হাদীস নং ১১৮৩৬; হায়সামি ফি মাজমাউয যাওয়ায়েদ’: (৩/১৭৬) গ্রন্থে বলেন: হাদীসটি ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন, এর সকল বর্ণনাকারী সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী। শাইখ আহমদ শাকের হাদীসটি সহীহ বলেছেন, (২১৪৯)।]
শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. আমাদের পূর্বসূরীগণ কল্যাণের প্রতি আগ্রহী ছিলেন, তারা ইবাদতে মগ্ন থাকার জন্য ফযীলতপূর্ণ সময় অনুসন্ধান করতেন।
দুই. কারণবশতঃ কোনো বিষয় না বলা আলিমের জন্য বৈধ। যেমন, মানুষের অলসতা ও নেক আমলে ত্রুটির সম্ভাবনা ইত্যাদি।
তিন. নিশ্চিত জ্ঞান বা প্রবল ধারণার ওপর কসম করা বৈধ।
চার. কিরণহীন সাদা-উজ্জ্বলতা নিয়ে সকালে সূর্যের উদয় হওয়া, লাইলাতুল কদরের আলামত।
পাঁচ. মুসলিমদের উচিৎ ফযীলতপূর্ণ মৌসুমের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা, যেমন লাইলাতুল কদর অন্বেষণে রমযানের শেষ দশক, যেন অল্প আমলে তার অধিক কল্যাণ অর্জন হয়।
ছয়. আলিমদের বিশুদ্ধ মত হচ্ছে: লাইলাতুল কদর পরিবর্তনশীল, তবে সাতাশের রাত অধিক সম্ভাবনাময়, যেমন উবাই ইবন কা‘ব শপথ করে বলেছেন।
সাত. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৃদ্ধ লোককে লাইলাতুল কদর সাতাশে বলা অন্যান্য হাদীসের পরিপন্থী নয়, যেখানে অন্যরাতে লাইলাতুল কদর বলা হয়েছে, কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সে বছরের কথা বলেছেন, যে বছর সে জিজ্ঞাসা করেছে। লাইলাতুল কদর সম্পর্কে সব হাদীসের মধ্যে সমতা রক্ষার জন্য এ ব্যাখ্যার বিকল্প ব্যাখ্যা নেই।
«أَنَّها تَطْلُعُ يَوْمَئذٍ لا شُعَاعَ لها»
“সেদিন সূর্য উদিত হবে যে, তার কিরণ থাকবে না”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৬২; আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩৭৮; তিরমিযী, হাদীস নং ৩৩৫১; আহমদ: (৫/১৩০)।]
ইমাম আহমদের এক বর্ণনায় আছে:
«أَنَّ الشَّمْسَ تَطْلُعُ غَدَاةَ إِذْ كَأَنَّها طَسْتٌ لَيْسَ لَها شُعَاعٌ»
“সেদিন সকালে সূর্য উদিত হবে, যেন তা গামলা, যার কোনো আলো নেই”। [আহমদ: (৫/১৩০), ইবন হিব্বান এ হাদীস সহীহ বলেছেন, হাদীস নং ৩৬৯০।]
তিরমিযীর এক বর্ণনায় আছে, উবাই বলেছেন: “আল্লাহর শপথ ইবন মাসউদ নিশ্চিত জানে যে, লাইলাতুল রমযানে এবং তা সাতাশে, কিন্তু তিনি তোমাদেরকে সংবাদ দিতে চান নি, যেন তোমরা অলস বসে না থাক”। [তিরমিযী, হাদীস নং ৭৯৩। তিনি হাদীসটি হাসান ও সহীহ বলেছেন।]
মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«لَيْلَةُ القَدْرِ لَيْلَةُ سَبْعٍ وعِشْرينَ» .
“লাইলাতুল কদর হচ্ছে সাতাশের রাত”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ১৩৮৬; ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৩৬৮০। আলবানি তা সহীহ বলেছেন।]
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে জিজ্ঞাসা করে হে আল্লাহর নবী, আমি খুব বৃদ্ধ ও অসুস্থ লোক, আমার দ্বারা দাঁড়িয়ে থাকা খুব কঠিন, অতএব আমাকে এমন এক রাতের কথা বলুন, যেন সে রাতে আল্লাহ আমাকে লাইলাতুল কদর দান করেন, তিনি বললেন: তোমার উচিৎ সাতাশ আঁকড়ে ধরা”। [আহমদ: (১/২৪০); বায়হাকি: (৪/৩১২); তাবরানি ফিল কাবির: (১১/৩১১), হাদীস নং ১১৮৩৬; হায়সামি ফি মাজমাউয যাওয়ায়েদ’: (৩/১৭৬) গ্রন্থে বলেন: হাদীসটি ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন, এর সকল বর্ণনাকারী সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী। শাইখ আহমদ শাকের হাদীসটি সহীহ বলেছেন, (২১৪৯)।]
শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. আমাদের পূর্বসূরীগণ কল্যাণের প্রতি আগ্রহী ছিলেন, তারা ইবাদতে মগ্ন থাকার জন্য ফযীলতপূর্ণ সময় অনুসন্ধান করতেন।
দুই. কারণবশতঃ কোনো বিষয় না বলা আলিমের জন্য বৈধ। যেমন, মানুষের অলসতা ও নেক আমলে ত্রুটির সম্ভাবনা ইত্যাদি।
তিন. নিশ্চিত জ্ঞান বা প্রবল ধারণার ওপর কসম করা বৈধ।
চার. কিরণহীন সাদা-উজ্জ্বলতা নিয়ে সকালে সূর্যের উদয় হওয়া, লাইলাতুল কদরের আলামত।
পাঁচ. মুসলিমদের উচিৎ ফযীলতপূর্ণ মৌসুমের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা, যেমন লাইলাতুল কদর অন্বেষণে রমযানের শেষ দশক, যেন অল্প আমলে তার অধিক কল্যাণ অর্জন হয়।
ছয়. আলিমদের বিশুদ্ধ মত হচ্ছে: লাইলাতুল কদর পরিবর্তনশীল, তবে সাতাশের রাত অধিক সম্ভাবনাময়, যেমন উবাই ইবন কা‘ব শপথ করে বলেছেন।
সাত. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৃদ্ধ লোককে লাইলাতুল কদর সাতাশে বলা অন্যান্য হাদীসের পরিপন্থী নয়, যেখানে অন্যরাতে লাইলাতুল কদর বলা হয়েছে, কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সে বছরের কথা বলেছেন, যে বছর সে জিজ্ঞাসা করেছে। লাইলাতুল কদর সম্পর্কে সব হাদীসের মধ্যে সমতা রক্ষার জন্য এ ব্যাখ্যার বিকল্প ব্যাখ্যা নেই।