hadith book logo

রমযানের বিষয়ভিত্তিক হাদীস শিক্ষা ও মাসায়েল

লেখকঃ ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ আল-হাকীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৬

২৩. রমযানে পানাহার করার শাস্তি‎

আবু উমামা বাহেলি রাদিয়াল্লাহু আনহু‎ বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ‎

«بينَا أنَا نَائِمٌ إذْ أَتَاني رَجُلانِ فأخَذَا بضَبْعِي - أي : عَضُدِي - فَأَتَيَا بي جَبَلاً وَعْراً فَقَالَا لي : اصْعَدْ، فقلت : إني لا أُطِيقُه، فقَالَا : إنا سَنُسَهِّلُه لك، فَصَعَدتُ حتى إذا كُنتُ في سَواءِ الجَبَل إذا أنا بِأصْواتٍ شدِيدَةٍ، فَقُلْتُ : مَا هَذهِ الأَصْواتُ؟ قَالَوا : هَذا عِوى أَهْلِ النَّارِ، ثمَّ انْطُلِقَ بي فَإِذا أَنا بِقَومٍ مُعَلَّقِين بِعَرَاقِيبهِم، مُشَقَّقَةٍ أَشْدَاقُهُم تَسِيلُ أشْداقُهُم دَماً، قَالَ : قُلتُ : مَن هَؤُلاءِ؟ قَالَ : هؤُلاءِ الَّذين يُفطِرُون قَبلَ تَحِلَّة صَوْمِهِم»

“একদা আমি ঘুমিয়ে ছিলাম, সহসা দু’জন লোক এসে আমার বাহু ধরে আমাকেসহ তারা এক দুর্গম পাহাড়ে আগমন করল। তারা আমাকে বলল: আরোহন কর, আমি বললাম: আমি আরোহণ করতে পারি না। তারা ‎ বলল: আমরা তোমাকে সাহায্য করব। আমি ওপরে আরোহণ করলাম। যখন পাহাড়ের চূড়ায় ‎‎ পৌঁছলাম, বিভিন্ন বিকট শব্দের সম্মুখীন হলাম। আমি বললাম: এ আওয়াজ কিসের? তারা ‎ বলল: এগুলো জাহান্নামীদের ঘেউ ঘেউ আর্তনাদ। অতঃপর তারা আমাকে নিয়ে রওনা করল, আমি এমন লোকদের সম্মুখীন হলাম, যাদেরকে হাঁটুতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, তাদের চোয়াল ‎‎ ক্ষতবিক্ষত, অবিরত রক্ত ঝরছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি বললাম: এরা কারা? তারা বলল: এরা ‎ হচ্ছে সেসব লোক, যারা সাওম পূর্ণ হওয়ার আগে ইফতার করত”।‎ [নাসাঈ ফিল কুবরা, হাদীস নং ৩২৮৬; তাবরানি ফিল কাবির: (৮/১৫৭), হাদীস নং ৭৬৬৭; মুসনাদে শামিদীস নং ৫৭৭; বায়হাকি: (৪/২১৬), এ হাদীস সহীহ বলেছেন। ইবন খুযাইমাহ, হাদীস নং ১৯৮৬; ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৭৪৬১; হাকেম: (১/৫৯৫), তিনি বলেছেন মুসলিমের শর্ত মোতাবেক, ইমাম যাহাবি তার সমর্থন করেছেন।]

শিক্ষা ও মাসায়েল:

‎এক. এ হাদীসে কবরের আযাবের প্রমাণ রয়েছে। কবরের আযাব কুরআন, সুন্নাহ ও উম্মতের ইজমা দ্বারা প্রমাণিত। ইমাম আহমদ রহ. বলেন, কবরের আযাব সত্য, গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট ব্যতীত কেউ তা অস্বীকার করতে পারে না”। [আর-রূহ লি ইব্‌নিল কাইয়্যেম: (৫৭); দেখুন: আস-সুন্নাহ, লিল লালেকায়ি: (৬/১১২৭); ইসবাতু আযাবিল কাবর লিল বায়হাকি: (১/১১০)।] ‎ ‎ ‎

দুই. কবরের আযাব শরীর ও রূহ উভয়ের ওপর ঘটে, যার স্বরূপ আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। ইবনুল কাইয়্যেম রহ. বলেন, “এ উম্মতের পূর্বসূরি ও ইমামদের অভিমত হচ্ছে, মৃত ব্যক্তি যখন মারা যায়, ‎‎ নেয়ামত বা আযাবে অবস্থান করে, যা তার শরীর ও রূহ উভয় ভোগ ‎ করে। শরীর থেকে আলাদা হওয়ার পর রূহ আরামে বা আযাবে অবস্থান ‎ করে। কখনো সে শরীরের সাথে মিলিত হয়, তখন সে তার সাথে আযাব বা নেওয়ামত ভোগ করে। অতঃপর যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে, তখন সব রূহ শরীরে ‎ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আর তারা সবাই কবর থেকে আল্লাহর সমীপে উপস্থিত হবে”। [আর-রূহ লি ইবন কাইয়্যিম: (৫২); দেখুন: মাজমু ফাতাওয়া: (৪/২৮২)।]‎

তিন. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে কবর আযাবের কতক নমুনা দেখানো হয়েছে। নবীদের স্বপ্ন ‎ সত্য ও অহীর অংশ।

চার. এতে কবর আযাবের কঠিন চিত্র ফুটে উঠেছে, মুসলিমদের উচিৎ কবর আযাব ভয় করা, তার উপকরণ থেকে বেচে থাকা ও তা থেকে সুরক্ষার আসবাব গ্রহণ করা।

পাঁচ. রমযানে যে ব্যক্তি জেনে ও ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কারণ ব্যতীত সময় হওয়ার পূর্বে ইফতার করে, তার জন্য কঠোর হুশিয়ারি রয়েছে এ হাদীসে। এটা কবিরা গুনাহ, যার জন্য রয়েছে কঠিন ‎ শাস্তি।‎

ছয়. সূর্যাস্তের পূর্বে ইফতারে যদি এ শাস্তি হয়, তাহলে যে রমযানে সাওম রাখে না অথবা কোনো কারণ, ব্যতীত কয়েক রমযান ইফতার করে, সে এরূপ বা তার চেয়ে কঠিন শাস্তি ভোগ করবে সন্দেহ নেই। অতএব যার থেকে এরূপ ঘটে তার কর্তব্য দ্রুত তওবা করা, যেন তাকে কবরের এ আযাব স্পর্শ না করে।

‎