১
সুন্নাত
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২
চুল রাখার সুন্নাত
তিন প্রকারে চুল রাখা সুন্নাত।
১. ওয়াফ্রা তথা কানের লতি পর্যন্ত,
২. লিম্মা তথা ঘাড় পর্যন্তত,
৩. জুম্মা তথা কাঁধ পর্যন্ত। হাদীসে এসেছে,
عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ شَعْرُ رَسُولِ اللهِ إِلَى شَحْمَةِ أُذُنَيْهِ
আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মাথার চুল দু’কানের লতি পর্যন্ত লম্বা ছিল। [আবু দাউদ, হা/৪১৮৭।]
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : كَانَ شَعْرُ رَسُولِ اللهِ فَوْقَ الْوَفْرَةِ وَدُونَ الْجُمَّةِ
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর চুল কানের নীচ থেকে ঘাড় পর্যন্ত লম্বা ছিল। [আবু দাউদ, হা/৪১৮৯।]
عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ مَا رَأَيْتُ مِنْ ذِى لِمَّةٍ أَحْسَنَ فِى حُلَّةٍ حَمْرَاءَ مِنْ رَسُولِ اللهِ - زَادَ مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ لَهُ شَعْرٌ يَضْرِبُ مَنْكِبَيْهِ .
বারা ইবনে আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কোনো ব্যক্তিকে কান পর্যন্ত বাবরিধারী, লাল ইয়েমেনী চাদরের আবরণে রাসূলুল্লাহ থেকে সুন্দর দেখিনি। রাবী মুহাম্মাদ (রহ.) অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর চুল ঘাড় পর্যন্ত লম্বা ছিল। [আবু দাউদ, হা/৪১৮৫।]
প্রথম হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মাথার চুল কানের লতি পর্যন্ত দীর্ঘ ছিল। পরের হাদীসে বলা হয়েছে, কানের নীচ তথা ঘাড় বরাবর ছিল। অন্য হাদীসে বলা হয়েছে, কাঁধ পর্যন্ত দীর্ঘ ছিল। সকল হাদীসের বক্তব্যই সঠিক। কারণ, চুল সব সময় এক অবস্থায় থাকে না। কখনো কম হয়, কখনো বেশি হয়। তিনি সর্বোচ্চ কাঁধ পর্যন্ত লম্বা করেছেন, যাকে ‘জুম্মা’ বলা হয়। আর সর্বাধিক ছোট করার পরিমাণ ছিল কানের লতি পর্যন্ত, যাকে ‘ওয়াফরা’ বলা হয়। আর এর মাঝামাঝি অবস্থানকে ‘লিম্মা’ বলা হয়। এ তিন প্রকার ছাড়া অন্যভাবেও চুল রাখা জায়েয আছে, যতক্ষণ তা অন্য কোনো জাতির সাদৃশ্য না হবে।
পুরম্নষের চুল কাঁধের নিচে যাবে না :
পুরম্নষের চুল কাঁধের নিচে লম্বা করা ঠিক নয়। হাদীসে এসেছে,
عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ قَالَ أَتَيْتُ النَّبِىَّ - - وَلِى شَعْرٌ طَوِيْلٌ فَلَمَّا رَاٰنِى رَسُولُ اللهِ - - قَالَ «ذُبَابٌ ذُبَابٌ» . قَالَ فَرَجَعْتُ فَجَزَزْتُهٗ ثُمَّ أَتَيْتُهٗ مِنَ الْغَدِ فَقَالَ : إِنِّى لَمْ أَعْنِكَ وَهٰذَا أَحْسَنُ
ওয়ায়েল ইবনে হুজ্র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী ﷺ -এর নিকট উপস্থিত হলাম, এ সময় আমার মাথার চুল খুবই লম্বা ছিল। তিনি আমাকে দেখে বললেন : অশুভ! অমঙ্গলজনক! তখন আমি ফিরে এসে চুল কেটে ফেলি। পরদিন আমি যখন তাঁর কাছে আসলাম তখন তিনি বললেন, আমি তোমার কোনো ক্ষতি করিনি, এটাই উত্তম। [আবু দাউদ-হা/৪১৯২।]
মাথার একাংশ কামিয়ে অপরাংশ রেখে দেয়া নিষেধ :
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ - - عَنِ الْقَزَعِ وَالْقَزَعُ أَنْ يُحْلَقَ رَأْسُ الصَّبِىِّ فَيُتْرَكَ بَعْضُ شَعْرِه .
ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ‘ক্বাযা’ থেকে নিষেধ করেছেন। ক্বাযা হলো বাচ্চার মাথার একাংশ কামিয়ে অপরাংশ রেখে দেয়া। [আবু দাউদ, হা/৪১৯৫।]
মাথার চুল পরিপাটি করা সুন্নাত :
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كُنْتُ أُرَجِّلُ رَأْسَ رَسُوْلِ اللهِ وَاَنَا حَائِضٌ
আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হায়েয (ঋতুবতী) অবস্থায় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মাথার চুল পরিপাটি করতাম। [মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/১৩৩; সহীহ বুখারী, হা/২৯৫; নাসাঈ, হা/২৭৭; মিশকাত, হা/৪৪১৯।]
চুল আঁচড়িয়ে পরিপাটি করে রাখতে হবে, তবে ঘন ঘন আঁচড়িয়ে ফ্যাশনে ব্যস্ত হয়ে যাওয়া সমীচীন নয়।
মেয়েদের মাথার চুল লম্বা হবে এবং চিরম্ননি দিয়ে আঁচড়িয়ে পরিপাটি করে রাখবে। কোনোভাবেই মাথার চুল বব কাটিং করা (কপাল ও চোখের উপর ফেলে রাখা) আবার চুল কাঁধ পর্যন্ত কেটে শ্যাম্পু করে রাখা সুন্নাত নয়। সুতরাং এসব পরিত্যাগ করে মেয়েরা তাদের মাথার চুলকে একটা বয়স থেকে লম্বা হতে দেবে এবং আঁচড়িয়ে পরিপাটি করে মাথায় স্কার্ফ বা বড় ওড়না ব্যবহার করবে।
১. ওয়াফ্রা তথা কানের লতি পর্যন্ত,
২. লিম্মা তথা ঘাড় পর্যন্তত,
৩. জুম্মা তথা কাঁধ পর্যন্ত। হাদীসে এসেছে,
عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ شَعْرُ رَسُولِ اللهِ إِلَى شَحْمَةِ أُذُنَيْهِ
আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মাথার চুল দু’কানের লতি পর্যন্ত লম্বা ছিল। [আবু দাউদ, হা/৪১৮৭।]
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : كَانَ شَعْرُ رَسُولِ اللهِ فَوْقَ الْوَفْرَةِ وَدُونَ الْجُمَّةِ
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর চুল কানের নীচ থেকে ঘাড় পর্যন্ত লম্বা ছিল। [আবু দাউদ, হা/৪১৮৯।]
عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ مَا رَأَيْتُ مِنْ ذِى لِمَّةٍ أَحْسَنَ فِى حُلَّةٍ حَمْرَاءَ مِنْ رَسُولِ اللهِ - زَادَ مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ لَهُ شَعْرٌ يَضْرِبُ مَنْكِبَيْهِ .
বারা ইবনে আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কোনো ব্যক্তিকে কান পর্যন্ত বাবরিধারী, লাল ইয়েমেনী চাদরের আবরণে রাসূলুল্লাহ থেকে সুন্দর দেখিনি। রাবী মুহাম্মাদ (রহ.) অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর চুল ঘাড় পর্যন্ত লম্বা ছিল। [আবু দাউদ, হা/৪১৮৫।]
প্রথম হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মাথার চুল কানের লতি পর্যন্ত দীর্ঘ ছিল। পরের হাদীসে বলা হয়েছে, কানের নীচ তথা ঘাড় বরাবর ছিল। অন্য হাদীসে বলা হয়েছে, কাঁধ পর্যন্ত দীর্ঘ ছিল। সকল হাদীসের বক্তব্যই সঠিক। কারণ, চুল সব সময় এক অবস্থায় থাকে না। কখনো কম হয়, কখনো বেশি হয়। তিনি সর্বোচ্চ কাঁধ পর্যন্ত লম্বা করেছেন, যাকে ‘জুম্মা’ বলা হয়। আর সর্বাধিক ছোট করার পরিমাণ ছিল কানের লতি পর্যন্ত, যাকে ‘ওয়াফরা’ বলা হয়। আর এর মাঝামাঝি অবস্থানকে ‘লিম্মা’ বলা হয়। এ তিন প্রকার ছাড়া অন্যভাবেও চুল রাখা জায়েয আছে, যতক্ষণ তা অন্য কোনো জাতির সাদৃশ্য না হবে।
পুরম্নষের চুল কাঁধের নিচে যাবে না :
পুরম্নষের চুল কাঁধের নিচে লম্বা করা ঠিক নয়। হাদীসে এসেছে,
عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ قَالَ أَتَيْتُ النَّبِىَّ - - وَلِى شَعْرٌ طَوِيْلٌ فَلَمَّا رَاٰنِى رَسُولُ اللهِ - - قَالَ «ذُبَابٌ ذُبَابٌ» . قَالَ فَرَجَعْتُ فَجَزَزْتُهٗ ثُمَّ أَتَيْتُهٗ مِنَ الْغَدِ فَقَالَ : إِنِّى لَمْ أَعْنِكَ وَهٰذَا أَحْسَنُ
ওয়ায়েল ইবনে হুজ্র (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী ﷺ -এর নিকট উপস্থিত হলাম, এ সময় আমার মাথার চুল খুবই লম্বা ছিল। তিনি আমাকে দেখে বললেন : অশুভ! অমঙ্গলজনক! তখন আমি ফিরে এসে চুল কেটে ফেলি। পরদিন আমি যখন তাঁর কাছে আসলাম তখন তিনি বললেন, আমি তোমার কোনো ক্ষতি করিনি, এটাই উত্তম। [আবু দাউদ-হা/৪১৯২।]
মাথার একাংশ কামিয়ে অপরাংশ রেখে দেয়া নিষেধ :
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللهِ - - عَنِ الْقَزَعِ وَالْقَزَعُ أَنْ يُحْلَقَ رَأْسُ الصَّبِىِّ فَيُتْرَكَ بَعْضُ شَعْرِه .
ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ‘ক্বাযা’ থেকে নিষেধ করেছেন। ক্বাযা হলো বাচ্চার মাথার একাংশ কামিয়ে অপরাংশ রেখে দেয়া। [আবু দাউদ, হা/৪১৯৫।]
মাথার চুল পরিপাটি করা সুন্নাত :
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كُنْتُ أُرَجِّلُ رَأْسَ رَسُوْلِ اللهِ وَاَنَا حَائِضٌ
আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হায়েয (ঋতুবতী) অবস্থায় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মাথার চুল পরিপাটি করতাম। [মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/১৩৩; সহীহ বুখারী, হা/২৯৫; নাসাঈ, হা/২৭৭; মিশকাত, হা/৪৪১৯।]
চুল আঁচড়িয়ে পরিপাটি করে রাখতে হবে, তবে ঘন ঘন আঁচড়িয়ে ফ্যাশনে ব্যস্ত হয়ে যাওয়া সমীচীন নয়।
মেয়েদের মাথার চুল লম্বা হবে এবং চিরম্ননি দিয়ে আঁচড়িয়ে পরিপাটি করে রাখবে। কোনোভাবেই মাথার চুল বব কাটিং করা (কপাল ও চোখের উপর ফেলে রাখা) আবার চুল কাঁধ পর্যন্ত কেটে শ্যাম্পু করে রাখা সুন্নাত নয়। সুতরাং এসব পরিত্যাগ করে মেয়েরা তাদের মাথার চুলকে একটা বয়স থেকে লম্বা হতে দেবে এবং আঁচড়িয়ে পরিপাটি করে মাথায় স্কার্ফ বা বড় ওড়না ব্যবহার করবে।