hadith book logo

সুন্নাত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৮

মসজিদে যাওয়ার সুন্নাতসমূহ

১. দেরী না করে আগে আগে মসজিদে যাওয়া :

প্রথম কাতারে সালাত আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যদি লোকেরা জানত যে, আযান দেয়া এবং প্রথম কাতারে সালাত আদায়ের মধ্যে কী পরিমাণ সওয়াব রয়েছে তাহলে তারা লটারী করে হলেও উক্ত আমলগুলো করত। আর যদি তারা জানত যে, আগে সালাতে যাওয়ার মধ্যে কী পরিমাণ সওয়াব রয়েছে, তাহলে তারা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আগে যাওয়ার চেষ্টা করত। আর যদি লোকেরা জানত যে, এশা ও ফজরের জামাআতের মধ্যে কী পরিমাণ সওয়াব রয়েছে তাহলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে অর্থাৎ হাত ও হাঁটুর উপর ভর দিয়ে হলেও মসজিদে যেত। [মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/১৪৯; সহীহ বুখারী, হা/৬১৫; সহীহ মুসলিম, হা/১০০৯।]

২. মসজিদে যাওয়ার সময় এ দু‘আ পড়া :

ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ সালাতের উদ্দেশ্যে বের হলেন। তিনি তখন এ দু‘আটি পাঠ করছিলেন।

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ فِىْ قَلْبِىْ نُوْرًا وَّ فِىْ بَصَرِىْ نُوْرًا وَّ فِىْ سَمْعِىْ نُوْرًا وَّ عَنْ يَّمِيْنِىْ نُورًا وَّ عَنْ يَّسَارِىْ نُوْرًا وَّ فَوْقِىْ نُوْرًا وَّ تَحْتِىْ نُوْرًا وَّ أَمَامِىْ نُوْرًا وَّ خَلْفِىْ نُوْرًا وَّ عَظِّمْ لِىْ نُوْرًا

আল্লা-হুম্মাজ‘আল ফী ক্বালবী নূরাও ওয়াফী বাসারী নূরাও ওয়াফী সাম‘য়ী নূরাও ওয়া ‘আন ইয়ামীনী নূরাও ওয়া ‘আন ইয়াসা-রী নূরাও ওয়া ফাউক্বী নূরাও ওয়া তাহ্তী নূরাও ওয়াআমা-মী নূরাও ওয়াখালফী নূরাও ওয়া ‘আয্যিম লী নূরা।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমার অন্তরে, চোখে, কানে এবং আমার ডানে-বামে, উপরে-নিচে, সামনে-পেছনে নূর দান করো এবং আমাকে অধিক নূর দান করো। [সহীহ বুখারী, হা/৬৩১৬; সহীহ মুসলিম, হা/১৮২৪; মিশকাত, হা/১১৯৫।]

৩. ধীরস্থিরভাবে মসজিদে যাওয়া :

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তোমরা যখন সালাতের একামত শুনবে তখন ধীরস্থিরভাবে প্রশান্তচিত্তে সালাতের দিকে গমন করবে। তাড়াহুড়া করবে না, যতটুকু জামাআতের সাথে পাবে, তা পড়ে নিবে। আর যেটুকু ছুটে যাবে তা আদায় করে নিবে। [সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১৬৪৪।]

আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী ﷺ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ঘরে অথবা বাজারে (একা একা) সালাত আদায়ের চেয়ে জামাআতের সাথে সালাত আদায় করার সওয়াব পঁচিশ গুণ বেশি। কেননা তোমাদের কেউ যখন অযু করে এবং ভালোভাবে অযু করে, তারপর শুধু সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে আসে, তাহলে সে মসজিদে প্রবেশ করা পর্যন্ত যত কদম হাঁটবে, প্রত্যেক কদমের পরিবর্তে আল্লাহ তার একটি মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন এবং একটি গোনাহ ক্ষমা করবেন। আর মসজিদে প্রবেশ করার পর যতক্ষণ পর্যন্ত সে মসজিদে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতে আছে বলেই গণ্য হবে। আর যতক্ষণ সে অযু অবস্থায় সালাত আদায়ের স্থানে অবস্থান করে ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতাগণ (তার জন্য) এ বলে দু‘আ করতে থাকে- ‘‘হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা করো। হে আল্লাহ! তুমি তার প্রতি রহমত করো।’’ [সহীহ বুখারী, হা/৪৭৭; সহীহ মুসলিম, হা/১৫৩৮; আবু দাউদ, হা/৫৫৯; মিশকাত, হা/৭০২।]

৪. ডান পা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করা।

৫. ইতেকাফের নিয়ত করা।

৬. বিসমিল্লাহ বলা।

৭. রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রতি দরূদ ও সালাম পেশ করা।

৮. মসজিদে প্রবেশের দু‘আ পড়া।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, যখন কোন ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশের এ দু‘আ পাঠ করে তখন শয়তান বলে, সারাদিনের জন্য সে আমার থেকে নিরাপত্তা লাভ করল। এ দু‘আটি পড়লে কয়েকটি সুন্নাতের উপর আমল হয়ে যায়।

اَعُوْذُ بِاللهِ الْعَظِيْمِ وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيْمِ وَ سُلْطَانِهِ الْقَدِيْمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ ‐ بِسْمِ اللهِ وَ الصَّلَاةُ وَ السَّلَامُ عَلٰى رَسُوْلِ اللهِ ‐ اَللّٰهُمَّ افْتَحْ لِىْ أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ

আ‘ঊযুবিল্লা-হিল ‘আযীম, ওয়া বিওয়াজ্হিহিল কারীম, ওয়া সুলত্বা-নিহিল ক্বাদীম, মিনাশ শাইত্বা-নির রাজীম, বিসমিল্লা-হি ওয়াসসালা-তু ওয়াসসালা-মু ‘আলা রাসূলিল্লা-হ্। আল্লা-হুম্মাফ্তাহ্লী আব্ওয়া-বা রাহমাতিক।

অর্থ : আমি মহান আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে তাঁর সম্মানিত চেহারার মাধ্যমে এবং তাঁর চিরন্তন প্রতাপের মাধ্যমে আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহর নামে প্রবেশ করছি। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি। হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন। [আবু দাঊদ, হা/৪৬৬; বায়হাকী, হা/৬৭।]

১০. প্রথমে তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়া :

মসজিদে ঢুকে বসার পূর্বে দু’রাক‘আত তাহিয়্যাতুল মসজিদ সালাত আদায় করে নিতে হবে। কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমাদের যে কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে সে যেন দু’রাক‘আত সালাত আদায় করে বসে। [সহীহ বুখারী, হা/৪৪৪; সহীহ মুসলিম, হা/১৬৮৭; তিরমিযী, হা/৩১৬; নাসাঈ, হা/৭৩০।]