hadith book logo

সুন্নাত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৪

যিকিরের ফযীলত

১. আল্লাহর সাথে সর্বদা সম্পর্ক রাখাই প্রকৃত জীবন। বিপদ-আপদ, সুস্থ-অসুস্থ সকল অবস্থায় আল্লাহর নিকট প্রার্থনার মধ্যেই রয়েছে মুক্তি। আল্লাহর নৈকট্য লাভের মধ্যেই রয়েছে তাঁর সন্তুষ্টি ও সফলতা। আর আল্লাহ তা‘আলা হতে দূরে থাকা ভ্রষ্টতা ও উভয় জাহানে নিজেকে সমূহ ক্ষতির দিকে ঠেলে দেওয়ার নামান্তর। আবদুল্লাহ ইবনে বুস্র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য ইসলামের হুকুম-আহকাম অধিক হয়ে গেছে। কাজেই আপনি আমাকে এমন একটি বিষয় বলে দিন, যেটাকে আমি শক্ত করে আঁকড়ে ধরব। তিনি বললেন, তোমার জিহবা যেন সর্বক্ষণ আল্লাহর যিকিরে ব্যস্ত থাকে। [তিরমিযী, হা/৩৩৭৫; ইবনে মাজাহ, হা/৩৭৯৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৭১৬; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৮২২; বায়হাকী, হা/৬৩১৮; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৪৯১; জামেউস সগীর, হা/১৩৫৬৮; মিশকাত, হা/২২৭৯।]

২. মুমিন ও মুনাফিকের মধ্যে পার্থক্যকারী বস্তুই হল আল্লাহর যিকির। মুমিন বান্দা আল্লাহর যিকির করে আর মুনাফিক আল্লাহর যিকির করে না।

৩. শয়তান কোন মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। তবে যখন মানুষ আল্লাহর যিকির হতে গাফেল হয় তখন মানুষকে শয়তান বিপথগামী করে।

৪. ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্য অর্জনের পথ হল আল্লাহর যিকির।

৫. যিকিরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এটি সদা-সর্বদা করার সুযোগ রয়েছে। জান্নাতবাসী কোন কিছুর জন্যই আফসোস করবে না; তবে সে সময়টুকুর জন্য আফসোস করবে, যে সময়টুকু তাদের দুনিয়ার জীবনে আল্লাহর যিকির ছাড়া কেটেছে। সদা সর্বদা যিকির করা মানে সদা-সর্বদা আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা।

ঋতুবতী মহিলা ও প্রসূতি নারী এবং যাদের উপর গোসল ফরয হয়েছে অথবা ওযুর প্রয়োজন হয়েছে তাদের সবার জন্য চুপে চুপে অথবা আওয়াজ করে আল্লাহর যিকির বা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর উপর দরূদ পড়তে পারেন। এমনকি দু‘আও করতে পারবেন।

আল্লাহর ইবাদাতের মূল ভিত্তিই হল যিকির। কেননা সবসময় ও সর্বাবস্থায় আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্কের পরিচয় হল যিকির। আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ ﷺ সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাআলার যিকির করতেন। [সহীহ মুসলিম, হা/১১৭, ৩৭৩।]

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার বান্দা আমার সম্বন্ধে যে রকম ধারণা করে, আমি ঠিক সে রকম। সে যখন আমাকে স্মরণ করে, তখন আমি তার সাথে থাকি। সে যদি মনে মনে আমাকে স্মরণ করে, আমিও মনে মনে তাকে স্মরণ করি। আর সে যদি কোন মজলিসে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমিও তার চেয়ে উত্তম মজলিসে তাকে স্মরণ করি, অর্থাৎ ফেরেশতাদের মজলিসে। আর বান্দা যদি আমার দিকে এক বিগত পরিমাণ অগ্রসর হয়, তবে আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই। আর বান্দা যদি আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়, তবে আমি তার দিকে দুই হাত অগ্রসর হই। আর বান্দা যদি আমার দিকে হেটে অগ্রসর হয়, তবে আমি তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই। [সহীহ বুখারী, হা/৭৪০৫; সহীহ মুসলিম, হা/৬৯৮১, ৭০০৮, ৭১২৮; তিরমিযী, হা/৩৬০৩; ইবনে মাজাহ, হা/৩৮২২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৪১৬; মিশকাত, হা/২২৬৪।]

পৃথিবীর রাজা বাদশাদের কেউ যদি কোন মানুষের কথা তার রাজদরবারে আলোচনা করে এবং তার প্রশংসা করে, তাহলে সে সীমাহীন খুশি হয়, তাহলে যিনি মালিকুলমুলক, রাজাধিরাজ তিনি যদি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম দরবারে কারো প্রশংসাসূচক আলোচনা করেন তাহলে তার খুশির কি কোন সীমা থাকার কথা?