hadith book logo

সুন্নাত

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২

সুন্নাতের গুরম্নত্ব কতটুকু?

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلٰى رَسُوْلِه مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى اٰلِه وَصَحْبِه اَجْمَعِيْنَ

প্রতিটি গুরম্নত্বপূর্ণ কাজে বিশ্ব নবী মুহাম্মাদ ﷺ এর সুন্নাত রয়েছে। এসব সুন্নাতের অনুসরণ করা আমাদের জন্য একান্ত জরম্নরি। নবী ﷺ কঠিনভাবে আমাদেরকে সুন্নাতের অনুসরণ করার তাকিদ করে গেছেন। হাদীসে রয়েছে,

عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ مَنْ يَّعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِىْ فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيْرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِىْ وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّيْنَ الرَّاشِدِيْنَ تَمَسَّكُوْا بِهَا وَعَضُّوْا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُوْرِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ

ইরবায ইবনে সারিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, তোমাদের মধ্যে যারা আমার মৃত্যুর পরে জীবিত থাকবে তারা অনেক মতবিরোধ দেখবে। তখন তোমাদের জন্য আবশ্যক হলো আমার সুন্নাত ও আমার খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত (আদর্শ) মেনে চলা। তোমরা ওটাকে শক্তভাবে ধারণ করো এবং তোমাদের মাড়ির দাঁত দিয়ে আঁকড়ে ধরো। খবরদার! ইবাদাতের নামে তৈরি করা সকল নতুন কাজ থেকে বিরত থাকো। কেননা সকল নবোদ্ভাবিত ইবাদাত বিদআত। আর সকল বিদআত গোমরাহী। [সহীহ মুসলিম, হা/৪৬০৯; সুনানে ইবনে মাজাহ, হা/৪২; মুসনাদে আহমদ, হা/১৭১৪৫।]

আমাদের প্রতিটি আমল নবী ﷺ Gi mybœvZ I ZixKv Abyhvqx nIqv cÖ‡qvRb| Avgv‡`i Avgjm~nI mnxn `jxj Øviv cÖgvwYZ n‡Z n‡e| wKš—y Avd‡mv‡mi welq n‡jv, আমাদের দেশে পাঞ্জেগানা ওযীফা নামে কিছু বই বাজারে রয়েছে। সরলমনা মুসলিম ভাই-বোনেরা নেকীর আশায় এসব বই পড়ে থাকেন। অথচ এসব বইয়ে অনেক ভিত্তিহীন আমলের কথা রয়েছে, এমনও অনেক আমল আছে যা স্পষ্ট বিদআত। যেমন- দু‘আয়ে গঞ্জল আরশ, দু‘আয়ে হাবীব, দরূদে তাজ, দরূদে হাজারী, আহাদনামা ইত্যাদি। এসবের কোন সহীহ দলীল নেই।

আর শরীয়তের একটি মূলনীতি হলো- সব জিনিসই হালাল, তবে সেটাই হারাম হবে যেটা হারাম হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট দলীল রয়েছে। আর সব আমলই বাতিল, কেবল ঐ আমল ব্যতীত যে আমল করার পক্ষে সহীহ দলীল রয়েছে।

অনেকে বলে থাকেন, এ আমল করতে তো নিষেধ করা হয়নি। তাই সমস্যা কী। না, শরীয়তের মূলনীতি এ রকম নয়। কোন আমল তখনই ইবাদাত বলে গণ্য হবে যখন সেটা কুরআন-সুন্নার দলীল দ্বারা প্রমাণিত হবে।

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ : مَنْ اَحْدَثَ فِي اَمْرِنَا هٰذَا مَا لَيْسَ فِيْهِ فَهُوَ رَدٌّ

আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনে নতুন কিছু (আমল) সংযোজন করবে, যা মূলত তাতে নেই, তা পরিত্যাজ্য (বাতিল) হবে। [সহীহ বুখারী, হা/২৬৯৭; সহীহ মুসলিম, হা/৪৫৮৯।]

অতএব আমলের ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে এবং দলীলভিত্তিক সহীহ বই পড়ে আমল করতে হবে।

এ বইয়ে কুরআন ও সহীহ হাদীস থেকে প্রমাণিত কিছু আমল এবং আমাদের দৈনন্দিন অত্যাবশ্যকীয় বিভিন্ন কাজে নবী ﷺ এর সুন্নাত কেমন ছিল তা বর্ণনা করা হয়েছে।

আল্লাহ তা‘আলার কাছে এ প্রার্থনাই করছি যে, তিনি যেন আমাদের এ শ্রমকে কবুল করেন। সেই সাথে আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নাত ও আদর্শ অনুযায়ী জীবন গঠন করার তাওফীক দান করেন। আমীন!

যারা এখনো দ্বীনের সঠিক জ্ঞান পায়নি তাদের কাছে দ্রুত দাওয়াত পৌঁছানো আমাদের উপর জরম্নরি। তাই সামর্থ অনুযায়ী আমরা সবাই দাওয়াতী কাজে অংশগ্রহণ করি। হাদীসে এসেছে,

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيَّ قَالَ : ‏‏ بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْاٰ يَةً

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেন, ‘‘আমার কথা লোকদের নিকট পৌঁছিয়ে দাও, তা একটি আয়াত (বাণী) হলেও।’’ [সহীহ বুখারী, হা/৩৪৬১।]