hadith book logo

নির্বাচিত হাদীস পঞ্চম খণ্ড

লেখকঃ ডক্টর মুহাম্মাদ মর্তুজা বিন আয়েশ মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

মানব সমাজকে দেখানো ও শুনানোর উদ্দেশ্যে সৎ কর্ম সম্পাদন করা হতে সতর্কীকরণ

6 - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُماَ، قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ سَمََّعَ، سَمََّعَ اللَّهُ بِهِ، وَمَنْ رَاءَى، رَاءَى اللَّهُ بِهِ ".

( صحيح مسلم، رقم الحديث 47 - (2986) ، واللفظ له، وصحيح البخاري، رقم الحديث 6499).

6 - অর্থ: আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস [রাদিয়াল্লাহু আনহুমা] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: “যে ব্যক্তি একনিষ্ঠতা বর্জন করে মানব সমাজকে শুনানোর জন্য কোনো সৎ কর্ম সম্পাদন করবে, তার সৎ কর্মের প্রতিদান হিসেবে মহান আল্লাহ পরকালে অন্যদেরকে শুনিয়ে দিবেন যে, এই লোকটি শুধু মানব সমাজকে শুনানোর জন্যই সৎ কর্ম সম্পাদন করতো। এবং যে ব্যক্তি একনিষ্ঠতা বর্জন করে মানব সমাজকে দেখানোর জন্য কোনো সৎ কর্ম সম্পাদন করবে, তার সৎ কর্মের প্রতিদান হিসেবে মহান আল্লাহ পরকালে অন্যদেরকে দেখিয়ে দিবেন যে, এই লোকটি শুধু মানব সমাজকে দেখানোর জন্যই সৎ কর্ম সম্পাদন করতো”।

[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 47 -(2986) এবং সহীহ বুখারী, হাদীস নং 6499 তবে হাদীসের শব্দগুলি সহীহ মুসলিম থেকে নেওয়া হয়েছে]।

* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:

আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস [রাদিয়াল্লাহু আনহুমা] একজন বিশিষ্ট ও প্রসিদ্ধ সাহাবী। তাঁর কুনিয়াত (ডাকনাম) আবুল আব্বাস। ইমামুত্‌ তাফসীর হিসেবে তিনি উপাধি লাভ করেছেন। তিনি আল্লাহর রাসূলের চাচাতো ভাই। হিজরতের তিন বছর পূর্বে তিনি মাক্কাতে শেবে আবু তালেব নামক স্থানে জন্ম গ্রহণ করেন, হাশিম বংশের লোকেরা উক্ত স্থান থেকে বেরিয়ে আসার আগেই। অতঃপর নাবী কারীম [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সান্নিধ্যে থেকে জ্ঞানার্জন করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা হলো 1660 টি। আল্লাহর রাসূলের মৃত্যুবরণের সময় তাঁর বয়স ছিল 13 বছর। আলী বিন আবু তালেব [রাদিয়াল্লাহু আনহুমা] তাঁকে বাসরা শহরের আমীর নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি সন 68 হিজরীতে তায়েফ শহরে 70 বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন, এই বিষয়ে অন্য উক্তিও রয়েছে। [রাদিয়াল্লাহু আনহু]

* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

1। কোনো মুসলিম ব্যক্তির একনিষ্ঠতা বর্জন করে, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের লক্ষ্যটিকে ত্যাগ করে মানব সমাজের সন্তুষ্টি ও প্রশংসা লাভের উদ্দেশ্যে কোনো সৎ কর্ম সম্পাদন করাকে রিয়া বা প্রদর্শনী বলা হয়, অর্থাৎ মানব সমাজকে দেখানো।

কোনো মুসলিম ব্যক্তির একনিষ্ঠতার সহিত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের লক্ষ্যটিকে সামনে রেখে কোনো সৎ কর্ম সম্পাদন করার পর, আবার মানব সমাজের সম্মান ও প্রশংসা লাভের উদ্দেশ্যে লোকের সামনে তার কোনো সৎ কর্ম সম্পাদন করার বিষয়টিকে প্রকাশ করার নাম হলো সুময়া, অর্থাৎ মানব সমাজকে শুনানো।

2- এই হাদীসটি মানব সমাজকে দেখানো ও শুনানোর উদ্দেশ্যে কোনো সৎ কর্ম সম্পাদন করা হতে সতর্ক করে। তাই মুসলিম ব্যক্তির জন্য সৎ কর্ম একনিষ্ঠতার সহিত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের লক্ষ্যে সম্পাদন করা অপরিহার্য। সুতরাং কোনো মুসলিম ব্যক্তি যেন সৎ কর্ম সম্পাদন করার দ্বারা মানব সমাজের সন্তুষ্টি ও প্রশংসা লাভের উদ্দেশ্যটিকে তার অন্তরে স্থাপন না করে।

3- মানব সমাজকে দেখানো অথবা মানব সমাজকে শুনানোর বিষয়টির দ্বারা মহান আল্লাহর কাছে সমস্ত প্রকারের সৎ কর্ম নিষ্ফল ও নষ্ট হয়ে যায়।

আর সব চেয়ে বেশি ঘৃণিত রিয়া বা প্রদর্শনীর বিষয় হলো আসল ঈমানের ক্ষেত্রে, যেমন মোনাফেকদের অবস্থা। এই রিয়া বা প্রদর্শনীর বিষয়টির পরের স্থান হলো সৎ কর্ম সম্পাদন করার বিষয়ে রিয়া বা প্রদর্শনীর বিষয় যেমন, ফরজ ইবাদত উপাসনার বিষয়ে রিয়া বা প্রদর্শনী। যেমন কতকগুলি এমন লোক আছে যে, তারা নিরিবিলিতে কিংবা নির্জনে সৎ কর্ম সম্পাদন করার বিষয়টিকে অথবা ফরজ ইবাদত উপাসনার বিষয়টিকে পরিত্যাগ করবে এবং মানুষের সামনে সৎ কর্ম সম্পাদন করার বিষয়টিকে অথবা ফরজ ইবাদত উপাসনার বিষয়টিকে পালন করবে এবং মেনে চলবে, যাতে মানুষের সামনে তাদের বদনাম ও দুর্নাম না হয়।