১
নির্বাচিত হাদীস পঞ্চম খণ্ড
লেখকঃ ডক্টর মুহাম্মাদ মর্তুজা বিন আয়েশ মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪১
সৎলোকদের নিদর্শন
37 -عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَ : قِيْلَ لِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَيُّ النَّاسِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : " كُلُّ مَخْمُوْمِ الْقَلْبِ صَدُوْقِ اللِّسَانِ " ، قَالُوْا : صَدُوْقُ اللِّسَانِ نَعْرِفُهُ، فَمَا مَخْمُوْمُ الْقَلْبِ؟ قَالَ : " هُوَ التَّقِيُّ النَّقِيُّ، لاَ إِثمَ فِيْهِ، وَلاَ بَغْيَ، وَلاَ غِلَّ، وَلاَ حَسَدَ ".
( سنن ابن ماجه، رقم الحديث 4216 ، وصححه الألباني ).
37 - অর্থ: আব্দুল্লাহ বিন আমর [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো যে, সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ কাকে বলা হয়? আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] উত্তর দিয়ে বলেছিলেন: “প্রত্যেক শুদ্ধহৃদয় ও সত্যভাষী ব্যক্তি”। কতকগুলি সাহাবী বললেন: সত্যভাষীর অর্থ আমরা জানি। কিন্তু শুদ্ধহৃদয় ব্যক্তি কাকে বলে তা তো আমরা জানি না। তাই আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] জবাবে বললেন: “সে হলো আল্লাহর প্রকৃত অনুগত ও বিশুদ্ধ অন্তরের সজ্জন, তার মধ্যে কোনো পাপ থাকবে না, কোনো অন্যায় থাকবে না, কোনো অনিষ্টাচরণের ইচ্ছা বা বিদ্বেষ থাকবে না এবং কোনো হিংসাও থাকবে না”।
[সুনান ইবনু মাজাহ, হাদীস নং 4216, আল্লামা নাসেরুদ্দিন আল্ আলবাণী হাদীসটিকে সহীহ (সঠিক) বলেছেন]।
* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:
আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস আল কোরাশী আসসাহমী একজন সম্মানিত সাহাবী, তিনি তাঁর পিতা আমর ইবনুল আস [রাযিয়াল্লাহু আনহু] এর পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি সাহাবীগণের মধ্যে প্রসিদ্ধ আলেম এবং ইবাদত ও পরহেজগারিতায় ছিলেন অনুকরণীয় সাহাবী। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা হলো 700 টি।
তিনি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সাথে অনেক যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপরিচালনার দিক দিয়ে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও তিনি বিশেষ দক্ষতা রাখতেন; তাই মোয়াবিয়া [রাযিয়াল্লাহু আনহু] তাঁকে কুফা শহরের আমীর নিযুক্ত করেছিলেন একটি নির্দিষ্ট কালের জন্য।
তিনি মিশর দেশের জামে আল্ ফুস্তাতে আমর ইবনুল আস মাসজিদে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] হতে হাদীস বর্ণনা করতেন; তাই তাঁর কাছ থেকে মিশর, শামদেশ এবং মাক্কা-মাদীনার বহু শিষ্য হাদীসের জ্ঞানার্জন করেছেন।
তিনি মিশরে সন 65 হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে তাঁর ঘরেই তাঁকে দাফন করা হয়। এই বিষয়ে অন্য উক্তিও রয়েছে। সুতরাং বলা হয়েছে যে, তিনি শামদেশে অথবা মাক্কা শহরে মৃত্যুবরণ করেছেন।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1। এই হাদীসটির দ্বারা এই বিষয়টি প্রমাণিত হয় যে, বিশুদ্ধ অন্তর ও প্রশান্তচিত্তের কতকগুলি উপকরণ রয়েছে, সেই উপকরণগুলির অন্তর্ভুক্ত বিষয় হলা: ভক্তিসহকারে মহান আল্লাহর অনুগত ভক্ত হওয়া, সদাসর্বদা সততা অবলম্বন করা, পাপাচার পরিত্যাগ করা, অন্যায়, অত্যাচার, ঘৃণা এবং হিংসা পরিহার করা।
2। তাকওয়া বা আল্লাহকে ভক্তিসহকারে ভয় করে তাঁর সঠিক অনুগত ভক্ত হওয়ার ভাবার্থ হলো এই যে, মহান আল্লাহর ভয়, ভালোবাসা এবং অতিশয় শ্রদ্ধাসহকারে তাঁর আনুগত্য করা, তাঁর জন্য সতর্ক থাকা এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকা।
3। প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা মোতাবেক মহান আল্লাহর প্রতি প্রকৃত ঈমান মানুষকে সৎলোক করে দেয়; সুতরাং তার গুণাবলি হয় ভালো, তার কর্ম হয় কল্যাণদায়ক, তার কথা হয় মঙ্গলদায়ক অতঃপর সে নিজেও হয়ে যায় সর্বোত্তম মানুষ।
( سنن ابن ماجه، رقم الحديث 4216 ، وصححه الألباني ).
37 - অর্থ: আব্দুল্লাহ বিন আমর [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো যে, সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ কাকে বলা হয়? আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] উত্তর দিয়ে বলেছিলেন: “প্রত্যেক শুদ্ধহৃদয় ও সত্যভাষী ব্যক্তি”। কতকগুলি সাহাবী বললেন: সত্যভাষীর অর্থ আমরা জানি। কিন্তু শুদ্ধহৃদয় ব্যক্তি কাকে বলে তা তো আমরা জানি না। তাই আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] জবাবে বললেন: “সে হলো আল্লাহর প্রকৃত অনুগত ও বিশুদ্ধ অন্তরের সজ্জন, তার মধ্যে কোনো পাপ থাকবে না, কোনো অন্যায় থাকবে না, কোনো অনিষ্টাচরণের ইচ্ছা বা বিদ্বেষ থাকবে না এবং কোনো হিংসাও থাকবে না”।
[সুনান ইবনু মাজাহ, হাদীস নং 4216, আল্লামা নাসেরুদ্দিন আল্ আলবাণী হাদীসটিকে সহীহ (সঠিক) বলেছেন]।
* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:
আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস আল কোরাশী আসসাহমী একজন সম্মানিত সাহাবী, তিনি তাঁর পিতা আমর ইবনুল আস [রাযিয়াল্লাহু আনহু] এর পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি সাহাবীগণের মধ্যে প্রসিদ্ধ আলেম এবং ইবাদত ও পরহেজগারিতায় ছিলেন অনুকরণীয় সাহাবী। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা হলো 700 টি।
তিনি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সাথে অনেক যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপরিচালনার দিক দিয়ে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও তিনি বিশেষ দক্ষতা রাখতেন; তাই মোয়াবিয়া [রাযিয়াল্লাহু আনহু] তাঁকে কুফা শহরের আমীর নিযুক্ত করেছিলেন একটি নির্দিষ্ট কালের জন্য।
তিনি মিশর দেশের জামে আল্ ফুস্তাতে আমর ইবনুল আস মাসজিদে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] হতে হাদীস বর্ণনা করতেন; তাই তাঁর কাছ থেকে মিশর, শামদেশ এবং মাক্কা-মাদীনার বহু শিষ্য হাদীসের জ্ঞানার্জন করেছেন।
তিনি মিশরে সন 65 হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে তাঁর ঘরেই তাঁকে দাফন করা হয়। এই বিষয়ে অন্য উক্তিও রয়েছে। সুতরাং বলা হয়েছে যে, তিনি শামদেশে অথবা মাক্কা শহরে মৃত্যুবরণ করেছেন।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1। এই হাদীসটির দ্বারা এই বিষয়টি প্রমাণিত হয় যে, বিশুদ্ধ অন্তর ও প্রশান্তচিত্তের কতকগুলি উপকরণ রয়েছে, সেই উপকরণগুলির অন্তর্ভুক্ত বিষয় হলা: ভক্তিসহকারে মহান আল্লাহর অনুগত ভক্ত হওয়া, সদাসর্বদা সততা অবলম্বন করা, পাপাচার পরিত্যাগ করা, অন্যায়, অত্যাচার, ঘৃণা এবং হিংসা পরিহার করা।
2। তাকওয়া বা আল্লাহকে ভক্তিসহকারে ভয় করে তাঁর সঠিক অনুগত ভক্ত হওয়ার ভাবার্থ হলো এই যে, মহান আল্লাহর ভয়, ভালোবাসা এবং অতিশয় শ্রদ্ধাসহকারে তাঁর আনুগত্য করা, তাঁর জন্য সতর্ক থাকা এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকা।
3। প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা মোতাবেক মহান আল্লাহর প্রতি প্রকৃত ঈমান মানুষকে সৎলোক করে দেয়; সুতরাং তার গুণাবলি হয় ভালো, তার কর্ম হয় কল্যাণদায়ক, তার কথা হয় মঙ্গলদায়ক অতঃপর সে নিজেও হয়ে যায় সর্বোত্তম মানুষ।