১
নির্বাচিত হাদীস পঞ্চম খণ্ড
লেখকঃ ডক্টর মুহাম্মাদ মর্তুজা বিন আয়েশ মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৭
পানি না পাওয়ার কারণে তায়াম্মুম করে নামাজ পড়ার পর পানি প্রাপ্ত হলে কি করা উচিত?
43 - عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ اَلْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ : خَرَجَ رَجُلاَنِ فِيْ سَفَرٍ؛ فَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ وَلَيْسَ مَعهُمَا مَاءٌ؛ فَتَيَمَّمَا صَعِيْداً طَيِّباً؛ فَصَلَّيَا، ثُمَّ وَجَدَا الْماءَ فِي الْوقْتِ؛ فَأَعَادَ أحَدُهُمَا الصَّلاَةَ وَالوُضُوْءَ، وَلَمْ يُعِدِ الآخَرُ، ثُمَّ أتَيَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؛ فَذَكَرَا ذَلِكَ لَـهُ؛ فَقَالَ لِلَّذِيْ لَمْ يُعِدْ : " أصَبْتَ السُّنَّةَ وَأَجْزأَتْكَ صَلاَتُكَ " ، وقَالَ لِلآخَرِ : " لَكَ الأجْرُ مَرَّتَيْنِ ".
( سنن أبي داود، رقم الحديث 338 ، واللفظ له، وسنن النسائي، رقم الحديث 433 ، وصححه الألباني ).
43 - অর্থ: আবু সাঈদ আলখুদরী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: একদা দুই ব্যক্তি সফরে বের হয়। পথের মধ্যে নামাজের সময় উপনীত হয়। তারা পানি না পাওয়ার কারণে তায়াম্মুম করে নামাজ পড়েছিলো। অতঃপর উক্ত নামাজের সময়ের মধ্যেই তারা পানি প্রাপ্ত হওয়ায় তাদের একজন ওজু করে পুনরায় নামাজ পড়ে। এবং অন্য ব্যক্তি ওজু করে পুনরায় নামাজ পড়া হতে বিরত থাকে। অতঃপর উভয়েই আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর কাছে হাজির হয়ে এই ঘটনা বর্ণনা করে। আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] ওই ব্যক্তিকে বলেন, যে ব্যক্তি পুনরায় ওজু করে নামাজ পড়েনি: “তুমি প্রকৃত ইসলামের নিয়ম মোতাবেক সঠিক কাজ করেছো এবং এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট”। আর যে ব্যক্তি ওজু করে পুনরায় নামাজ পড়েছে তার বিষয়ে বলেন: “তুমি দ্বিগুণ পুণ্যের অধিকারী হয়েছো”।
[সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং 338 এবং সুনান নাসায়ী, হাদীস নং 433, তবে হাদীসের শব্দগুলি সুনান আবু দাউদ থেকে নেওয়া হয়েছে। আল্লামা নাসেরুদ্দিন আল্ আলবাণী এই হাদীসটিকে সহীহ (সঠিক) বলেছেন]।
* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:
আবু সাঈদ আল্ খুদরী হলেন সায়াদ বিন মালেক বিন সিনান আল্ খাজরাজী আল্ আনসারী। তিনি একজন মহাবিখ্যাত সাহাবী। খন্দকের যুদ্ধে তিনি সর্ব প্রথমে অংশগ্রহণ করেন। আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সাথে তিনি 12টি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা হলো 1170 টি।
আবু সাঈদ আল্ খুদরী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] মাদীনায় সন 74 হিজরীতে 86 বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন, এই বিষয়ে অন্য উক্তিও রয়েছে। তাঁকে আল বাকী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1। প্রকৃত ইসলাম হলো সুখদায়ক এবং উদারপন্থার ধর্ম। তাই এই ধর্মে কোনো প্রকারের জটিলতা নেই। সুতরাং যখন কোনো জটিলতা দেখা দিবে, তখনই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সহজ বিষয় পাওয়া যাবে, যাতে মহান আল্লাহর ইবাদত উপাসনার সমস্ত বিষয় সহজ হয়ে যায়। আর মুসলিম ব্যক্তি আনন্দের সহিত সন্তুষ্টচিত্তে ইবাদত উপাসনার কাজ সম্পাদন করতে পারে।
2। এই হাদীসটির দ্বারা এটা প্রমাণিত হয় যে, যে ব্যক্তি নামাজের প্রথম সময়ে পানি না পাওয়ার কারণে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করে নামাজ পড়বে। অতঃপর নামাজ পড়ে নেওয়ার পর যদি সে নামাজের সময়ের মধ্যেই পানি প্রাপ্ত হয়, তাহলে ওজু করে পুনরায় নামাজ পড়া তার প্রতি অপরিহার্য বিষয় নয়। তবে প্রথম সময়ে পানি না পাওয়ার কারণে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করে নামাজ পড়ার অবস্থায় যদি সে পানি প্রাপ্ত হয়, তাহলে সেই পানির দ্বারা ওজু করেই নামাজ পড়ে নিবে। এটাই তার প্রতি অপরিহার্য বিষয়। যেহেতু মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের মধ্যে বলেছেন:
( فَلَمْ تَجِدُواْ مَاء فَتَيَمَّمُواْ صَعِيداً طَيِّباً )، ( سورة المائدة، جزء من الآية 6).
ভাবার্থের অনুবাদ: “অতঃপর তোমরা যদি পানি না পাও, তাহলে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নিবে অর্থাৎ, স্বীয় মুখমণ্ডল ও হস্তদ্বয় মাটি দ্বারা মুছে নিবে”। (সূরা আল মায়িদা, আয়াত নং 6 এর অংশবিশেষ)।
( سنن أبي داود، رقم الحديث 338 ، واللفظ له، وسنن النسائي، رقم الحديث 433 ، وصححه الألباني ).
43 - অর্থ: আবু সাঈদ আলখুদরী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: একদা দুই ব্যক্তি সফরে বের হয়। পথের মধ্যে নামাজের সময় উপনীত হয়। তারা পানি না পাওয়ার কারণে তায়াম্মুম করে নামাজ পড়েছিলো। অতঃপর উক্ত নামাজের সময়ের মধ্যেই তারা পানি প্রাপ্ত হওয়ায় তাদের একজন ওজু করে পুনরায় নামাজ পড়ে। এবং অন্য ব্যক্তি ওজু করে পুনরায় নামাজ পড়া হতে বিরত থাকে। অতঃপর উভয়েই আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর কাছে হাজির হয়ে এই ঘটনা বর্ণনা করে। আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] ওই ব্যক্তিকে বলেন, যে ব্যক্তি পুনরায় ওজু করে নামাজ পড়েনি: “তুমি প্রকৃত ইসলামের নিয়ম মোতাবেক সঠিক কাজ করেছো এবং এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট”। আর যে ব্যক্তি ওজু করে পুনরায় নামাজ পড়েছে তার বিষয়ে বলেন: “তুমি দ্বিগুণ পুণ্যের অধিকারী হয়েছো”।
[সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং 338 এবং সুনান নাসায়ী, হাদীস নং 433, তবে হাদীসের শব্দগুলি সুনান আবু দাউদ থেকে নেওয়া হয়েছে। আল্লামা নাসেরুদ্দিন আল্ আলবাণী এই হাদীসটিকে সহীহ (সঠিক) বলেছেন]।
* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:
আবু সাঈদ আল্ খুদরী হলেন সায়াদ বিন মালেক বিন সিনান আল্ খাজরাজী আল্ আনসারী। তিনি একজন মহাবিখ্যাত সাহাবী। খন্দকের যুদ্ধে তিনি সর্ব প্রথমে অংশগ্রহণ করেন। আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সাথে তিনি 12টি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা হলো 1170 টি।
আবু সাঈদ আল্ খুদরী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] মাদীনায় সন 74 হিজরীতে 86 বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন, এই বিষয়ে অন্য উক্তিও রয়েছে। তাঁকে আল বাকী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1। প্রকৃত ইসলাম হলো সুখদায়ক এবং উদারপন্থার ধর্ম। তাই এই ধর্মে কোনো প্রকারের জটিলতা নেই। সুতরাং যখন কোনো জটিলতা দেখা দিবে, তখনই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সহজ বিষয় পাওয়া যাবে, যাতে মহান আল্লাহর ইবাদত উপাসনার সমস্ত বিষয় সহজ হয়ে যায়। আর মুসলিম ব্যক্তি আনন্দের সহিত সন্তুষ্টচিত্তে ইবাদত উপাসনার কাজ সম্পাদন করতে পারে।
2। এই হাদীসটির দ্বারা এটা প্রমাণিত হয় যে, যে ব্যক্তি নামাজের প্রথম সময়ে পানি না পাওয়ার কারণে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করে নামাজ পড়বে। অতঃপর নামাজ পড়ে নেওয়ার পর যদি সে নামাজের সময়ের মধ্যেই পানি প্রাপ্ত হয়, তাহলে ওজু করে পুনরায় নামাজ পড়া তার প্রতি অপরিহার্য বিষয় নয়। তবে প্রথম সময়ে পানি না পাওয়ার কারণে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করে নামাজ পড়ার অবস্থায় যদি সে পানি প্রাপ্ত হয়, তাহলে সেই পানির দ্বারা ওজু করেই নামাজ পড়ে নিবে। এটাই তার প্রতি অপরিহার্য বিষয়। যেহেতু মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের মধ্যে বলেছেন:
( فَلَمْ تَجِدُواْ مَاء فَتَيَمَّمُواْ صَعِيداً طَيِّباً )، ( سورة المائدة، جزء من الآية 6).
ভাবার্থের অনুবাদ: “অতঃপর তোমরা যদি পানি না পাও, তাহলে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নিবে অর্থাৎ, স্বীয় মুখমণ্ডল ও হস্তদ্বয় মাটি দ্বারা মুছে নিবে”। (সূরা আল মায়িদা, আয়াত নং 6 এর অংশবিশেষ)।