১
নির্বাচিত হাদীস পঞ্চম খণ্ড
লেখকঃ ডক্টর মুহাম্মাদ মর্তুজা বিন আয়েশ মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯১
রোজাদারকে ইফতার করানোর মর্যাদা
87 - عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ غَيْرَ أَنَّهُ لاَ يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِ الصَّائِمِ شَيْئًا ".
( جامع الترمذي، رقم الحديث 807 ، واللفظ له، وسنن ابن ماجه، رقم الحديث 1746 ، وقال الإمام الترمذي عن هذا الحديث بأنه : حسن صحيح، وصححه الألباني ).
87 - অর্থ: জ্যাইদ বিন খালেদ আলজুহানী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: “যে ব্যক্তি রোজাদারকে ইফতার করাবে সে রোজাদারের সমান সওয়াব পাবে এবং রোজাদারের সওয়াবও কোনো ক্ষেত্রে কম হবে না”।
[জামে তিরমিযী, হাদীস নং 807, এবং সুনান ইবনু মাজাহ, হাদীস নং 1746, তবে হাদীসের শব্দগুলি জামে তিরমিযী থেকে নেওয়া হয়েছে। ইমাম তিরমিযী এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ (সঠিক) বলেছেন। আর আল্লামা নাসেরুদ্দিন আল্ আলবাণী হাদীসটিকে সহীহ (সঠিক) বলেছেন]।
* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:
আবু আব্দুর রহমান জ্যাইদ বিন খালেদ আলজুহানী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] হলেন এক জন সাহাবী। হুদায়বীয়ার সন্ধির ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সময় তিনি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। এবং তিনি মাক্কা বিজয়ের সময় আলজুহানী বংশের ঝাণ্ডা বহন করেছিলেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা হলো 81 টি।
তিনি মাদীনায় সন 78 হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। আবার এটাও বলা হয় যে, তিনি মিশরে মৃত্যুবরণ করেছেন। আর এটাও বলা হয় যে, তিনি কূফা শহরে মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুবরণ করার সময় তাঁর বয়স 85 বছর হয়েছিলো। এই বিষয়ে অন্য উক্তিও রয়েছে। এই বিষয়ের সঠিক জ্ঞান মহান আল্লাহ অধিক জানেন। [রাদিয়াল্লাহু আনহু] ।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1। নিশ্চয় রোজাদার ব্যক্তিদেরকে ইফতার করানো একটি উত্তম কর্ম এবং সৎ কর্ম। আর এই সৎ কর্মে মানুষের জন্য অনেক মঙ্গল নিহিত রয়েছে, তার মধ্যে হলো: মুসলিমদের মধ্যে ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় যদিও তাদের স্থান ও দেশগুলি দূর দূরান্তে ছড়িয়ে রয়েছে। তাই এই হাদীসটি রোজাদার ব্যক্তিদেরকে ইফতার করানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান করে। আর রোজাদার ব্যক্তিদেরকে ইফতার করানোর পূণ্য ও মর্যাদা বর্ণনা করে।
2। নিকটের আত্মীয়-স্বজন রোজাদার ব্যক্তিদেরকে ইফতার করানো বেশি পুণ্যের কাজ। কেননা এর দ্বারা রোজাদার ব্যক্তিদেরকে ইফতার করানো হয় এবং নিজের আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা হয়। তবে যদি দেখা যায় যে, নিকটের আত্মীয়-স্বজন চেয়ে অন্য লোক বেশি অভাবগ্রস্ত, এবং সে রোজা ইফতার করার কিছু পাচ্ছে না, তাহলে এই অবস্থায় নিকটের আত্মীয়- স্বজন ছাড়া অন্য রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতার করানোই হবে বেশি পুণ্যের কাজ। যেহেতু এর দ্বারা তার অভাব দূর করা হবে এবং তার প্রয়োজন পূরণ করা হবে।
3। মুসলিম ব্যক্তির জন্য এটা উচিত যে, সে নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী রোজাদার ব্যক্তিদেরকে রোজা ইফতার করাবে। বিশেষভাবে ওই সব রোজাদার ব্যক্তিদেরকে রোজা ইফতার করাবে, যারা রোজা ইফতার করার জন্য কোনো খাদ্যদ্রব্য পাচ্ছেনা। এবং তাদেরকে রোজা ইফতার করার জন্য কেউ কিছু দিচ্ছে না।
( جامع الترمذي، رقم الحديث 807 ، واللفظ له، وسنن ابن ماجه، رقم الحديث 1746 ، وقال الإمام الترمذي عن هذا الحديث بأنه : حسن صحيح، وصححه الألباني ).
87 - অর্থ: জ্যাইদ বিন খালেদ আলজুহানী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: “যে ব্যক্তি রোজাদারকে ইফতার করাবে সে রোজাদারের সমান সওয়াব পাবে এবং রোজাদারের সওয়াবও কোনো ক্ষেত্রে কম হবে না”।
[জামে তিরমিযী, হাদীস নং 807, এবং সুনান ইবনু মাজাহ, হাদীস নং 1746, তবে হাদীসের শব্দগুলি জামে তিরমিযী থেকে নেওয়া হয়েছে। ইমাম তিরমিযী এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ (সঠিক) বলেছেন। আর আল্লামা নাসেরুদ্দিন আল্ আলবাণী হাদীসটিকে সহীহ (সঠিক) বলেছেন]।
* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:
আবু আব্দুর রহমান জ্যাইদ বিন খালেদ আলজুহানী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] হলেন এক জন সাহাবী। হুদায়বীয়ার সন্ধির ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সময় তিনি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। এবং তিনি মাক্কা বিজয়ের সময় আলজুহানী বংশের ঝাণ্ডা বহন করেছিলেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা হলো 81 টি।
তিনি মাদীনায় সন 78 হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। আবার এটাও বলা হয় যে, তিনি মিশরে মৃত্যুবরণ করেছেন। আর এটাও বলা হয় যে, তিনি কূফা শহরে মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুবরণ করার সময় তাঁর বয়স 85 বছর হয়েছিলো। এই বিষয়ে অন্য উক্তিও রয়েছে। এই বিষয়ের সঠিক জ্ঞান মহান আল্লাহ অধিক জানেন। [রাদিয়াল্লাহু আনহু] ।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1। নিশ্চয় রোজাদার ব্যক্তিদেরকে ইফতার করানো একটি উত্তম কর্ম এবং সৎ কর্ম। আর এই সৎ কর্মে মানুষের জন্য অনেক মঙ্গল নিহিত রয়েছে, তার মধ্যে হলো: মুসলিমদের মধ্যে ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় যদিও তাদের স্থান ও দেশগুলি দূর দূরান্তে ছড়িয়ে রয়েছে। তাই এই হাদীসটি রোজাদার ব্যক্তিদেরকে ইফতার করানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান করে। আর রোজাদার ব্যক্তিদেরকে ইফতার করানোর পূণ্য ও মর্যাদা বর্ণনা করে।
2। নিকটের আত্মীয়-স্বজন রোজাদার ব্যক্তিদেরকে ইফতার করানো বেশি পুণ্যের কাজ। কেননা এর দ্বারা রোজাদার ব্যক্তিদেরকে ইফতার করানো হয় এবং নিজের আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা হয়। তবে যদি দেখা যায় যে, নিকটের আত্মীয়-স্বজন চেয়ে অন্য লোক বেশি অভাবগ্রস্ত, এবং সে রোজা ইফতার করার কিছু পাচ্ছে না, তাহলে এই অবস্থায় নিকটের আত্মীয়- স্বজন ছাড়া অন্য রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতার করানোই হবে বেশি পুণ্যের কাজ। যেহেতু এর দ্বারা তার অভাব দূর করা হবে এবং তার প্রয়োজন পূরণ করা হবে।
3। মুসলিম ব্যক্তির জন্য এটা উচিত যে, সে নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী রোজাদার ব্যক্তিদেরকে রোজা ইফতার করাবে। বিশেষভাবে ওই সব রোজাদার ব্যক্তিদেরকে রোজা ইফতার করাবে, যারা রোজা ইফতার করার জন্য কোনো খাদ্যদ্রব্য পাচ্ছেনা। এবং তাদেরকে রোজা ইফতার করার জন্য কেউ কিছু দিচ্ছে না।