১
নির্বাচিত হাদীস পঞ্চম খণ্ড
লেখকঃ ডক্টর মুহাম্মাদ মর্তুজা বিন আয়েশ মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫
বৈধ ও পবিত্র উপায়ে উপার্জিত মাল দান প্রদানের মর্যাদা
1 -عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ تَصَدَّقَ بِعَدْلِ تَمْرَةٍ مِنْ كَسْبٍ طَيِّبٍ، وَلاَ يَقْبَلُ اللهُ إِلاَّ الطَّيِّبَ؛ فَإِنَّ اللهَ يَتَقَبَّلُهَا بِيَمِينِهِ، ثُمَّ يُرَبِّيهَا لِصَاحِبِهِ، كَمَا يُرَبِّيْ أَحَدُكُمْ فَلُوَّهُ حَتَّى تَكُوْنَ مِثْلَ الْجَبَلِ ".
( صحيح البخاري، رقم الحديث 1410 ، واللفظ له، وصحيح مسلم، رقم الحديث 63 - (1014)،).
1 - অর্থ: আবু হুরায়রা [রাদিয়াল্লাহু আনহু] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: “যে ব্যক্তি প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা মেতাবেক বৈধ ও পবিত্র উপায়ের হালাল ও পবিত্র উপার্জন থেকে একটি খেজুর পরিমাণ বস্তু দান প্রদান করবে, (এবং মহান আল্লাহ বৈধ পবিত্র হালাল উপার্জনের মাল ছাড়া অবৈধ মালের দান প্রদান কবুল করেন না।) মহান আল্লাহ তাঁর ডান হাত দ্বারা তা অত্যন্ত সমাদরের সহিত কবুল করবেন। অতঃপর আল্লাহ উক্ত দান প্রদানকারীর কল্যাণার্থে তা প্রতিপালন করবেন। যেমন তোমাদের মধ্যে থেকে কোনো ব্যক্তি অশ্বশাবক বা ঘোড়ার বাচ্চা কিংবা উট অথবা গরুর দুধ ছাড়ানো বাচ্চার প্রতিপালন করে থাকে, অবশেষে সেই দানটি বিশাল একটি পাহাড় সমতুল্য হয়ে যাবে”।
[সহীহ বুখারী, হাদীস নং 1410 এবং সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 63 -(1014), তবে হাদীসের শব্দগুলি সহীহ বুখারী থেকে নেওয়া হয়েছে]।
* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:
আবু হুরায়রা আব্দুর রহমান বিন সাখার আদ্দাওসী আল ইয়ামানী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] । তিনি আল্লাহর রাসূলের সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবী। তাঁর কুনিয়াত (ডাকনাম) আবু হুরায়রা হিসেবে বিখ্যাত। এর কারণ হলো যে, তিনি বিড়াল নিয়ে খেলা করতেন ও কতকগুলি লোকের ছাগল চরাতেন। সপ্তম হিজরীতে খায়বার বিজয়ের সময় তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি 4 বছর পর্যন্ত নাবী কারীম [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সান্নিধ্যে অতিবাহিত করেন, তাই আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যেখানে অবস্থান করতেন তিনিও সেখানে থাকতেন। আবু হুরায়রা [রাদিয়াল্লাহু আনহু] হাদীসের জ্ঞান লাভ করার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে অসাধারণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন। এই কারণে তিনি নাবী কারীম [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর কাছ থেকে প্রচুর জ্ঞানার্জন করে, সাহাবীগণের মধ্যে সবচাইতে বেশী হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর উপাধি লাভ করেছেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা হলো 5374 টি। সন 57 হিজরীতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং মাদীনার প্রসিদ্ধ কবরস্থান আল বাকীতে তাঁকে দাফন করা হয় [রাদিয়াল্লাহু আনহু] ।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1। সকল প্রকারের ইবাদত উপাসনার মতই নিষ্ঠাবান হয়ে যে কোনো দান প্রদানের প্রধান উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য স্থির করতে হবে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ। এবং তাতে যেন কুপ্রবৃত্তির কোনো প্রকার প্রভাব না থাকে তার খেয়াল রাখা অপরিহার্য।
2। মুসলিম ব্যক্তির উচিত যে, সে যেন অবৈধ ও হারাম মাল উপার্জন করা হতে নিজেকে রক্ষা করে। কেননা অবৈধ ও হারাম মাল উপার্জন করার মাধ্যমে উপস্থিত হয় মহান আল্লাহর ক্রোধানল এবং মানুষের মানসিক মহারোগ। যেমন মনের মধ্যে প্রবল লোভ বিরাজ করা, কোনো জিনিসকে পাওয়ার জন্য অন্তরে তীব্র বাসনা সৃষ্টি হওয়া, আত্যন্তিক আত্মম্ভরিতা, স্বার্থপরতা, অতৃপ্ত ও বাসনা অপূর্ণ থাকায় অশান্ত হওয়া, কৃপণতা, কষ্ট, অস্বস্তি এবং অশান্তির অনুভূতি সৃষ্টি হওয়া।
3। এই হাদীসটির মধ্যে মহান আল্লাহর পবিত্র ডান হাতের কথা উল্লিখিত হয়েছে; কেননা ডান হাতের দ্বারাই কল্যাণময় জিনিস সাধারণ ভাবে গ্রহণ করা হয়। পবিত্র কুরআন এবং নির্ভরযোগ্য হাদীসের আলোকে মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলির প্রতি সঠিক ভাবে অন্তরে ঈমান স্থাপন করা অপরিহার্য। এবং তাতে কোনো প্রকার বিকৃত, পরিবর্তন, পরিবর্ধন, অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান, সাদৃশ্য বর্ণনা বা দৃষ্টান্ত স্থাপন করা এবং স্বরূপ নির্ধারণ করা চলবে না।
( صحيح البخاري، رقم الحديث 1410 ، واللفظ له، وصحيح مسلم، رقم الحديث 63 - (1014)،).
1 - অর্থ: আবু হুরায়রা [রাদিয়াল্লাহু আনহু] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: “যে ব্যক্তি প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা মেতাবেক বৈধ ও পবিত্র উপায়ের হালাল ও পবিত্র উপার্জন থেকে একটি খেজুর পরিমাণ বস্তু দান প্রদান করবে, (এবং মহান আল্লাহ বৈধ পবিত্র হালাল উপার্জনের মাল ছাড়া অবৈধ মালের দান প্রদান কবুল করেন না।) মহান আল্লাহ তাঁর ডান হাত দ্বারা তা অত্যন্ত সমাদরের সহিত কবুল করবেন। অতঃপর আল্লাহ উক্ত দান প্রদানকারীর কল্যাণার্থে তা প্রতিপালন করবেন। যেমন তোমাদের মধ্যে থেকে কোনো ব্যক্তি অশ্বশাবক বা ঘোড়ার বাচ্চা কিংবা উট অথবা গরুর দুধ ছাড়ানো বাচ্চার প্রতিপালন করে থাকে, অবশেষে সেই দানটি বিশাল একটি পাহাড় সমতুল্য হয়ে যাবে”।
[সহীহ বুখারী, হাদীস নং 1410 এবং সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 63 -(1014), তবে হাদীসের শব্দগুলি সহীহ বুখারী থেকে নেওয়া হয়েছে]।
* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:
আবু হুরায়রা আব্দুর রহমান বিন সাখার আদ্দাওসী আল ইয়ামানী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] । তিনি আল্লাহর রাসূলের সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবী। তাঁর কুনিয়াত (ডাকনাম) আবু হুরায়রা হিসেবে বিখ্যাত। এর কারণ হলো যে, তিনি বিড়াল নিয়ে খেলা করতেন ও কতকগুলি লোকের ছাগল চরাতেন। সপ্তম হিজরীতে খায়বার বিজয়ের সময় তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি 4 বছর পর্যন্ত নাবী কারীম [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সান্নিধ্যে অতিবাহিত করেন, তাই আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যেখানে অবস্থান করতেন তিনিও সেখানে থাকতেন। আবু হুরায়রা [রাদিয়াল্লাহু আনহু] হাদীসের জ্ঞান লাভ করার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে অসাধারণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন। এই কারণে তিনি নাবী কারীম [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর কাছ থেকে প্রচুর জ্ঞানার্জন করে, সাহাবীগণের মধ্যে সবচাইতে বেশী হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর উপাধি লাভ করেছেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা হলো 5374 টি। সন 57 হিজরীতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং মাদীনার প্রসিদ্ধ কবরস্থান আল বাকীতে তাঁকে দাফন করা হয় [রাদিয়াল্লাহু আনহু] ।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1। সকল প্রকারের ইবাদত উপাসনার মতই নিষ্ঠাবান হয়ে যে কোনো দান প্রদানের প্রধান উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য স্থির করতে হবে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ। এবং তাতে যেন কুপ্রবৃত্তির কোনো প্রকার প্রভাব না থাকে তার খেয়াল রাখা অপরিহার্য।
2। মুসলিম ব্যক্তির উচিত যে, সে যেন অবৈধ ও হারাম মাল উপার্জন করা হতে নিজেকে রক্ষা করে। কেননা অবৈধ ও হারাম মাল উপার্জন করার মাধ্যমে উপস্থিত হয় মহান আল্লাহর ক্রোধানল এবং মানুষের মানসিক মহারোগ। যেমন মনের মধ্যে প্রবল লোভ বিরাজ করা, কোনো জিনিসকে পাওয়ার জন্য অন্তরে তীব্র বাসনা সৃষ্টি হওয়া, আত্যন্তিক আত্মম্ভরিতা, স্বার্থপরতা, অতৃপ্ত ও বাসনা অপূর্ণ থাকায় অশান্ত হওয়া, কৃপণতা, কষ্ট, অস্বস্তি এবং অশান্তির অনুভূতি সৃষ্টি হওয়া।
3। এই হাদীসটির মধ্যে মহান আল্লাহর পবিত্র ডান হাতের কথা উল্লিখিত হয়েছে; কেননা ডান হাতের দ্বারাই কল্যাণময় জিনিস সাধারণ ভাবে গ্রহণ করা হয়। পবিত্র কুরআন এবং নির্ভরযোগ্য হাদীসের আলোকে মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলির প্রতি সঠিক ভাবে অন্তরে ঈমান স্থাপন করা অপরিহার্য। এবং তাতে কোনো প্রকার বিকৃত, পরিবর্তন, পরিবর্ধন, অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান, সাদৃশ্য বর্ণনা বা দৃষ্টান্ত স্থাপন করা এবং স্বরূপ নির্ধারণ করা চলবে না।