hadith book logo

নির্বাচিত হাদীস পঞ্চম খণ্ড

লেখকঃ ডক্টর মুহাম্মাদ মর্তুজা বিন আয়েশ মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪০

সন্ধ্যার সময় মহান আল্লাহর পঠনীয় জিকির

36 - عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ كان رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَمْسَى قَالَ : " أَمْسَيْـنَا وَأَمْسَـى الْمُـلْكُ لِلَّهِ، وَالحَمْدُ لِلَّهِ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ، لاَ شَرِيْكَ لَهُ، اَللَّهُمََّ ! إِنِّيْ أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ اللَّيْلَةِ وخَـيْرِ مَا فِيْهَا، وَأَعـوْذُ بِكَ مِنْ شَـرِّها وَشَرِّ مَا فِيْهَـا، اَللَّهُمََّ ! إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ، وَالْهَرَمِ، وَسُوْءِ الْكِبَرِ، وَفِتْنَةِ الدُّنْيَا، وَعَذَابِ الْقَبْرِ ".

( صحيح مسلم، رقم الحديث 76 - (2723)، ).

36 - অর্থ: আব্দুল্লাহ [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যখন সন্ধ্যায় উপনীত হতেন তখন বলতেন:

" أَمْسَيْـنَا وَأَمْسَـى الْمُـلْكُ لِلَّهِ، وَالحَمْدُ لِلَّهِ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ، لاَ شَرِيْكَ لَهُ، اَللَّهُمََّ ! إِنِّيْ أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ اللَّيْلَةِ وخَـيْرِ مَا فِيْهَا، وَأَعـوْذُ بِكَ مِنْ شَـرِّها وَشَرِّ مَا فِيْهَـا، اَللَّهُمََّ ! إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ، وَالْهَرَمِ، وَسُوْءِ الْكِبَرِ، وَفِتْنَةِ الدُّنْيَا، وَعَذَابِ الْقَبْرِ ".

অর্থ: “আমরা মহান আল্লাহর জন্য ও তাঁর নিয়ন্ত্রণে সন্ধ্যায় উপনীত হলাম। এবং মহান আল্লাহর রাজত্বের সকল বিষয় তাঁর জন্য ও তাঁর নিয়ন্ত্রণে সন্ধ্যায় উপনীত হলো। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি এই রাতের কল্যাণ এবং এই রাতের মধ্যে যা কিছু কল্যাণ আছে সেই কল্যাণও আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি। আর আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি এই রাতের অমঙ্গল থেকে এবং এই রাতে যা কিছু অমঙ্গল আছে তাতে থেকেও আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আরো আশ্রয় প্রার্থনা করি আলস্য, বার্ধক্যের অমঙ্গল, ভীমরতি, দুনিয়ার অকল্যাণ এবং কবরের আজাব থেকে”।

[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 76 - (2723)]।

* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয় পূর্বে 2 নং হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।

* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

1। মুসলিম ব্যক্তির উচিত যে, সে যেন রাত এবং দিনে উপনীত হয় আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে। এবং সে যেন রাত এবং দিন শেষও করে আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে। কেননা এরই উপর নির্ভর করে মানুষের স্বাস্থ্য, সুখ, শান্তি এবং অনাময় ও সুস্থতা। তাই মুসলিম ব্যক্তি যেন প্রতিদিন সকাল এবং সন্ধ্যার সময় পঠনীয় জিকিরগুলি পাঠ করে।

2। সন্ধ্যার পঠনীয় জিকিরগুলি সন্ধ্যার সময় পাঠ করতে হয়। আর সকালের পঠনীয় জিকিরগুলি প্রভাতে পাঠ করতে হয়।

3। সন্ধাবেলায় পঠনীয় জিকিরগুলি পাঠ করার সময়ের ব্যাপারে কতকগুলি উক্তি রয়েছে। সেই উক্তিগুলির মধ্যে থেকে একটি উক্তি হলো এই যে, সন্ধাবেলায় পঠনীয় জিকিরগুলি পাঠ করার সময় হলো সূর্যাস্তের পর। মনে হচ্ছে এই উক্তিটিই বেশি সঠিক যেহেতু উল্লিখিত জিকিরটির মধ্যে বলা হয়েছে “এই রাতের” কথা। অর্থাৎ

هَذِهِ اللَّيْلَةِ

বলা হয়েছে: এই রাতের, সুতরাং “এই ” শব্দটি নির্দেশকারী বা নির্দেশক সর্বনাম। “এই ” শব্দটির দ্বারা একটি নির্দিষ্ট বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়। কেননা নির্দেশকারী বা নির্দেশক সর্বনামের দ্বারা কোনো একটি নির্দিষ্ট বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়। এবং সেই বস্তুটি বর্তমানে উপস্থিত আছে বলে তার অবস্থা উল্লেখ করা হয়। যেমন বলা হয়: এটি আল্লাহর উষ্ট্রী। এই ব্যাকরণটির মাধ্যমে বুঝা যায় যে, উল্লিখিত জিকিরটি ওই সময় পাঠ করতে হবে, যে সময় সন্ধাবেলার সূচনা হয়ে যাবে বা দিবাভাগ শেষ হয়ে যাবে এবং রাত্রি শুরু হয়ে যাবে ও উপস্থিত হয়ে যাবে। এই অর্থের সমর্থনে একটি বর্ণনায় এসেছে আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] একজন সাহাবীকে বলেছেন: “তুমি যখন রমাজান মাসে উপস্থিত হয়ে যাবে, তখন রোজা রাখবে। এবং যখন সন্ধাবেলায় উপনীত হয়ে যাবে তখন রোজা ইফতার করবে। [দেখতে পারা যায় আল্লামা আল হাজিমির কিতাব: আল ইতিবার ফী আন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার, রোজার অধ্যায়, সুবহু সদিকের পর সাহারী খাওয়ার পরিচ্ছেদ]। উক্ত হাদীসে সন্ধাবেলায় উপনীত হওয়ার পর রোজা ইফতার করার উপদেশ এসেছে। তাই এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সন্ধা বলা হয় ওই সময়কে যে সময়ে সূর্যাস্তের পরে রাত্রির আরম্ভ হয়। এই বিষয়ে মহান আল্লাহই অধিক জানেন।