১
নির্বাচিত হাদীস পঞ্চম খণ্ড
লেখকঃ ডক্টর মুহাম্মাদ মর্তুজা বিন আয়েশ মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬৬
ইসলাম ধর্মে বলপূর্বকভাবে লোকের ভূমি ও সম্পত্তি দখল করা হারাম
62 - عَنْ سَعِيْدِ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ : " مَنْ ظَلَمَ مِنَ الْأَرْضِ شَيْئًا طُوِّقَهُ مِنْ سَبْعِ أَرَضِينَ ".
( صحيح البخاري، رقم الحديث 2452 ، واللفظ له، وصحيح مسلم، رقم الحديث 137 - (1610)،).
62 - অর্থ: সাঈদ বিন জ্যাইদ [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি কারো জমির কোনো অংশ জুলুম করে দাবিয়ে নিবে, কিয়ামতের দিন এর সাত স্তর জমিন তার গলায় ঝুলিয়ে দিয়ে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে”।
[সহীহ বুখারী, হাদীস নং 2452 এবং সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 137 -(1610), তবে হাদীসের শব্দগুলি সহীহ বুখারী থেকে নেওয়া হয়েছে]।
* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয় পূর্বে 61 নং হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1। প্রকৃত ইসলাম ধর্ম সমস্ত প্রকারের অধিকার ও সম্পত্তি রক্ষা করার জন্য সুব্যবস্থা নেওয়ার প্রতি আহ্বান জানায়। এবং বলপূর্বক পদ্ধতিতে অন্য লোকের ভূমি ও সম্পত্তি দখল করা কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করে।
2। এই হাদীসটির দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যে ব্যক্তি কোনো জমির মালিক হবে, সে ব্যক্তি জমির ভিতরে বা নীচে যা কিছু বস্তু থাকবে তারও সে মালিক হবে। সুতরাং জমির ভিতরে বা নীচে যে সমস্ত পাথর, ভবন এবং মূল্যবান ধাতু প্রভৃতি থাকবে, সে সমস্ত জিনিসের প্রকৃত মালিক হবে সেই বাক্তি, যে ব্যক্তি হবে জমির মালিক। এবং জমির মালিক তার জমি খনন করে তার ইচ্ছা মত জমির নীচে যেতে পারবে, যদি তাতে তার প্রতিবেশীর ক্ষতি না হয়।
3। মুসলিম ব্যক্তির প্রতি প্রকৃত ইসলাম ধর্মের শিক্ষা মেনে চলা অপরিহার্য। তাই তার জন্য অন্য কোনো লোকের সম্পত্তি চুরি করে বা বলপ্রয়োগ করে অথবা জালিয়াতি করে কিংবা প্রতারণা করে অথবা ঘুষ দিয়ে নেওয়া জায়েজ নয়।
4। এই হাদীসটির সারাংশ হলো এই যে, যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তির জমির কোনো অংশ জুলুম জবরদস্তি করে দাবিয়ে নিবে, তাকে পরকালে কেয়ামতের দিন দায়িত্ব দেওয়া হবে যে, সে যেন জমির ওই অংশটি পুনরুত্থিত হওয়ার স্থানে হাশরের ময়দানে বহন করে নিয়ে যায়, যে অংশটি সে দুনিয়াতে অন্য লোকের কাছ থেকে জুলুম জবরদস্তি করে দাবিয়ে নিবে। তাই উক্ত জমির অংশটি তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে গলা বন্ধের ফিতা বা দড়ির মত। সুতরাং এখানে এটাও বলা যেতে পারে যে, উক্ত জমির অংশটি তার গলায় তাকে ঝুলিয়ে রাখার দায়িত্ব দেওয়া হবে কিন্তু সে তা করতে পারবে না। অতএব তাকে এই দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে মহা শাস্তি প্রদান করা হবে। আর এটাও অর্থ হতে পারে যে, কোনো ব্যক্তির জমির কোনো অংশ জুলুম জবরদস্তি করে যে ব্যক্তি দাবিয়ে নিবে, তার গলায় তার পাপকে দড়ির মত করে ঝুলিয়ে রাখা হবে। সুতরাং তার পাপ তার গলায় ঝুলতে থাকবে। আবার এটাও অর্থ বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি কোনো জমির অংশ জুলুম জবরদস্তি করে দাবিয়ে নিবে, সেই জমিসহ তাকে ভূমিতে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে, এবং সেই জমি তার গলায় হারের মত হয়ে থাকবে। এবং তার গলাকে এতই লম্বা চওড়া করা হবে যে, সেই জমি যেন তার গলায় সঠিকভাবে স্থাপিত হয়ে যায়।
( صحيح البخاري، رقم الحديث 2452 ، واللفظ له، وصحيح مسلم، رقم الحديث 137 - (1610)،).
62 - অর্থ: সাঈদ বিন জ্যাইদ [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি কারো জমির কোনো অংশ জুলুম করে দাবিয়ে নিবে, কিয়ামতের দিন এর সাত স্তর জমিন তার গলায় ঝুলিয়ে দিয়ে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে”।
[সহীহ বুখারী, হাদীস নং 2452 এবং সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 137 -(1610), তবে হাদীসের শব্দগুলি সহীহ বুখারী থেকে নেওয়া হয়েছে]।
* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয় পূর্বে 61 নং হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1। প্রকৃত ইসলাম ধর্ম সমস্ত প্রকারের অধিকার ও সম্পত্তি রক্ষা করার জন্য সুব্যবস্থা নেওয়ার প্রতি আহ্বান জানায়। এবং বলপূর্বক পদ্ধতিতে অন্য লোকের ভূমি ও সম্পত্তি দখল করা কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করে।
2। এই হাদীসটির দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যে ব্যক্তি কোনো জমির মালিক হবে, সে ব্যক্তি জমির ভিতরে বা নীচে যা কিছু বস্তু থাকবে তারও সে মালিক হবে। সুতরাং জমির ভিতরে বা নীচে যে সমস্ত পাথর, ভবন এবং মূল্যবান ধাতু প্রভৃতি থাকবে, সে সমস্ত জিনিসের প্রকৃত মালিক হবে সেই বাক্তি, যে ব্যক্তি হবে জমির মালিক। এবং জমির মালিক তার জমি খনন করে তার ইচ্ছা মত জমির নীচে যেতে পারবে, যদি তাতে তার প্রতিবেশীর ক্ষতি না হয়।
3। মুসলিম ব্যক্তির প্রতি প্রকৃত ইসলাম ধর্মের শিক্ষা মেনে চলা অপরিহার্য। তাই তার জন্য অন্য কোনো লোকের সম্পত্তি চুরি করে বা বলপ্রয়োগ করে অথবা জালিয়াতি করে কিংবা প্রতারণা করে অথবা ঘুষ দিয়ে নেওয়া জায়েজ নয়।
4। এই হাদীসটির সারাংশ হলো এই যে, যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তির জমির কোনো অংশ জুলুম জবরদস্তি করে দাবিয়ে নিবে, তাকে পরকালে কেয়ামতের দিন দায়িত্ব দেওয়া হবে যে, সে যেন জমির ওই অংশটি পুনরুত্থিত হওয়ার স্থানে হাশরের ময়দানে বহন করে নিয়ে যায়, যে অংশটি সে দুনিয়াতে অন্য লোকের কাছ থেকে জুলুম জবরদস্তি করে দাবিয়ে নিবে। তাই উক্ত জমির অংশটি তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে গলা বন্ধের ফিতা বা দড়ির মত। সুতরাং এখানে এটাও বলা যেতে পারে যে, উক্ত জমির অংশটি তার গলায় তাকে ঝুলিয়ে রাখার দায়িত্ব দেওয়া হবে কিন্তু সে তা করতে পারবে না। অতএব তাকে এই দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে মহা শাস্তি প্রদান করা হবে। আর এটাও অর্থ হতে পারে যে, কোনো ব্যক্তির জমির কোনো অংশ জুলুম জবরদস্তি করে যে ব্যক্তি দাবিয়ে নিবে, তার গলায় তার পাপকে দড়ির মত করে ঝুলিয়ে রাখা হবে। সুতরাং তার পাপ তার গলায় ঝুলতে থাকবে। আবার এটাও অর্থ বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি কোনো জমির অংশ জুলুম জবরদস্তি করে দাবিয়ে নিবে, সেই জমিসহ তাকে ভূমিতে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে, এবং সেই জমি তার গলায় হারের মত হয়ে থাকবে। এবং তার গলাকে এতই লম্বা চওড়া করা হবে যে, সেই জমি যেন তার গলায় সঠিকভাবে স্থাপিত হয়ে যায়।