১
নির্বাচিত হাদীস পঞ্চম খণ্ড
লেখকঃ ডক্টর মুহাম্মাদ মর্তুজা বিন আয়েশ মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৪
জাহান্নামবাসীদের শাস্তির মধ্যে ব্যবধান
30 - عَنْ سَمُرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ نَبِيََّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : " إِنََّ مِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ النَّارُ إِلَى كَعْبَيْهِ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ إِلَى حُجْزَتِهِ، وَمِنْهُمْ مَنْ تَأْخُذُهُ إِلَى عُنُقِهِ ".
( صحيح مسلم، رقم الحديث 32 - (2845)، ).
30 - অর্থ: সামুরা [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কে এই কথাটি বলতে শুনেছেন: আল্লাহর নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: “জাহান্নামীদের মধ্যে থেকে কোনো ব্যক্তিকে জাহান্নামের অগ্নি তার উভয় টাখনু পর্যন্ত গ্রাস করবে। আবার কোনো ব্যক্তিকে তার কোমর পর্যন্ত গ্রাস করবে এবং কোনো ব্যক্তিকে তার গর্দান পর্যন্ত গ্রাস করবে”।
[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 32 - (2845) ]।
* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:
সামুরা বিন জুনদুব আলফাজাজী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] হলেন এক জন বিখ্যাত সাহাবী। তিনি জাহেলিয়াতের যুগ দেখতে পাননি। কেননা তিনি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন শিশু অবস্থায়। তিনি তাঁর পিতার মৃত্যুবরণ করার পর এতিম ও অনাথ অবস্থায় সৎবাবার কাছে লালিতপালিত হয়েছেন। পরে তিনি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সাথে একাধিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি একজন সৌজন্যশীল, সাহসী, যোদ্ধা সাহাবী ছিলেন। কিন্তু তিনি রাষ্ট্রনীতির বিষয়ে অসহিষ্ণুতার মধ্যে থাকতেন। সুতরাং তিনি রাষ্ট্রীয় বিরোধীদের সাথে অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করতেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা হলো 100 টি।
সামুরা বিন জুনদুব আলফাজাজী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] বাসরা শহরে গিয়ে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন। তাঁর আমলে কুফা শহর এবং বাসরা শহরের আমির বা রাষ্ট্রীয় শাসক ও পরিচালক ছিলেন জিয়াদ। তাই জিয়াদ যখন কুফা শহরে থাকতেন তখন তিনি তাঁকে বাসরা শহরের আমির বা রাষ্ট্রীয় শাসক নিযুক্ত করতেন। আর তিনি যখন বাসরা শহরে থাকতেন তখন তিনি তাঁকে কুফা শহরের আমির ও রাষ্ট্রীয় শাসক নিযুক্ত করতেন। সুতরাং তিনি কুফা শহরে এবং বাসরা শহরে ছয় মাস করে থাকতেন। তিনি রাষ্ট্রীয় বিরোধী খাওয়ারেজ দলের সাথে অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করতেন। কেননা ওই খাওয়ারেজ দলের লোকেরা সাধারণভাবে মুসলিমদেরকে কাফের ও অমুসলিম হিসেবে পরিগণিত করতো। এবং সাধারণ মুসলিমদের প্রাণনাশ করতো। তাই সামুরা বিন জুনদুব আলফাজাজী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] এর কাছে ওই খাওয়ারেজ দলের কোনো ব্যক্তিকে হাজির করা হলে তাকে তিনি হত্যা করতেন।
তিনি অতি গরম পানির হাঁড়িতে পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সন 58 হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তবে এই বিষয়ে অন্য উক্তিও রয়েছে। [রাদিয়াল্লাহু আনহু]
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1- এই হাদীসটির দ্বারা একটি বিষয় সাব্যস্ত হয়, আর সেই বিষয়টি হলো এই যে, জাহান্নামবাসীদের শাস্তির মধ্যে অনেক তফাৎ থাকবে। এবং অমুসলিম ও পাপাচারী মুসলিমদের জাহান্নামের শাস্তির মধ্যে তাদের পাপ কর্ম হিসেবে অনেক পার্থক্য থাকবে। সুতরাং যারা মহা পাপ করেছে তাদের শাস্তির মধ্যে এবং যারা ছোটো পাপ করেছে তাদের শাস্তির মধ্যে অনেক ব্যবধান থাকবে। কেননা ছোটো বড়ো পাপের মধ্যে যেমন ব্যবধান রয়েছে, তেমনি জাহান্নামের ভিতরে ছোটো বড়ো পাপের শাস্তির মধ্যেও ব্যবধান ও পার্থক্য রয়েছে।
2- জাহান্নামে যাওয়ার বা জাহান্নামে প্রবেশ করার উপাদানে লিপ্ত হওয়া থেকে এই হাদীসটি সতর্ক করে। জাহান্নামে প্রবেশ করার উপাদান এমন কতকগুলি বিষয় আছে যে, সেই বিষয়গুলি যে ব্যক্তির মধ্যে থাকবে সে ব্যক্তি চিরস্থায়ীর জন্য জাহান্নামবাসী হয়ে যাবে। যেমন:- মহান আল্লাহর সাথে শির্ক ও কুফুরী করা। আবার জাহান্নামে প্রবেশ করার উপাদান এমনও কতকগুলি বিষয় আছে যে, সেই বিষয়গুলি যে ব্যক্তির মধ্যে থাকবে সে ব্যক্তি পাপাচারী বলে বিবেচিত হবে। এবং সে তার পাপাচারের কারণে জাহান্নামবাসী হয়ে যাবে কিন্তু সে চিরস্থায়ীর জন্য জাহান্নামবাসী হবে না। যেমন:- যেমন ব্যভিচার করা, সমকাম, সমমৈথুন বা পুরুষের সাথে পুরুষের যৌনমিলন করা এবং চুরি করা ইত্যাদি।
( صحيح مسلم، رقم الحديث 32 - (2845)، ).
30 - অর্থ: সামুরা [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কে এই কথাটি বলতে শুনেছেন: আল্লাহর নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: “জাহান্নামীদের মধ্যে থেকে কোনো ব্যক্তিকে জাহান্নামের অগ্নি তার উভয় টাখনু পর্যন্ত গ্রাস করবে। আবার কোনো ব্যক্তিকে তার কোমর পর্যন্ত গ্রাস করবে এবং কোনো ব্যক্তিকে তার গর্দান পর্যন্ত গ্রাস করবে”।
[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 32 - (2845) ]।
* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:
সামুরা বিন জুনদুব আলফাজাজী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] হলেন এক জন বিখ্যাত সাহাবী। তিনি জাহেলিয়াতের যুগ দেখতে পাননি। কেননা তিনি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন শিশু অবস্থায়। তিনি তাঁর পিতার মৃত্যুবরণ করার পর এতিম ও অনাথ অবস্থায় সৎবাবার কাছে লালিতপালিত হয়েছেন। পরে তিনি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সাথে একাধিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি একজন সৌজন্যশীল, সাহসী, যোদ্ধা সাহাবী ছিলেন। কিন্তু তিনি রাষ্ট্রনীতির বিষয়ে অসহিষ্ণুতার মধ্যে থাকতেন। সুতরাং তিনি রাষ্ট্রীয় বিরোধীদের সাথে অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করতেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা হলো 100 টি।
সামুরা বিন জুনদুব আলফাজাজী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] বাসরা শহরে গিয়ে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন। তাঁর আমলে কুফা শহর এবং বাসরা শহরের আমির বা রাষ্ট্রীয় শাসক ও পরিচালক ছিলেন জিয়াদ। তাই জিয়াদ যখন কুফা শহরে থাকতেন তখন তিনি তাঁকে বাসরা শহরের আমির বা রাষ্ট্রীয় শাসক নিযুক্ত করতেন। আর তিনি যখন বাসরা শহরে থাকতেন তখন তিনি তাঁকে কুফা শহরের আমির ও রাষ্ট্রীয় শাসক নিযুক্ত করতেন। সুতরাং তিনি কুফা শহরে এবং বাসরা শহরে ছয় মাস করে থাকতেন। তিনি রাষ্ট্রীয় বিরোধী খাওয়ারেজ দলের সাথে অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করতেন। কেননা ওই খাওয়ারেজ দলের লোকেরা সাধারণভাবে মুসলিমদেরকে কাফের ও অমুসলিম হিসেবে পরিগণিত করতো। এবং সাধারণ মুসলিমদের প্রাণনাশ করতো। তাই সামুরা বিন জুনদুব আলফাজাজী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] এর কাছে ওই খাওয়ারেজ দলের কোনো ব্যক্তিকে হাজির করা হলে তাকে তিনি হত্যা করতেন।
তিনি অতি গরম পানির হাঁড়িতে পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সন 58 হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তবে এই বিষয়ে অন্য উক্তিও রয়েছে। [রাদিয়াল্লাহু আনহু]
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1- এই হাদীসটির দ্বারা একটি বিষয় সাব্যস্ত হয়, আর সেই বিষয়টি হলো এই যে, জাহান্নামবাসীদের শাস্তির মধ্যে অনেক তফাৎ থাকবে। এবং অমুসলিম ও পাপাচারী মুসলিমদের জাহান্নামের শাস্তির মধ্যে তাদের পাপ কর্ম হিসেবে অনেক পার্থক্য থাকবে। সুতরাং যারা মহা পাপ করেছে তাদের শাস্তির মধ্যে এবং যারা ছোটো পাপ করেছে তাদের শাস্তির মধ্যে অনেক ব্যবধান থাকবে। কেননা ছোটো বড়ো পাপের মধ্যে যেমন ব্যবধান রয়েছে, তেমনি জাহান্নামের ভিতরে ছোটো বড়ো পাপের শাস্তির মধ্যেও ব্যবধান ও পার্থক্য রয়েছে।
2- জাহান্নামে যাওয়ার বা জাহান্নামে প্রবেশ করার উপাদানে লিপ্ত হওয়া থেকে এই হাদীসটি সতর্ক করে। জাহান্নামে প্রবেশ করার উপাদান এমন কতকগুলি বিষয় আছে যে, সেই বিষয়গুলি যে ব্যক্তির মধ্যে থাকবে সে ব্যক্তি চিরস্থায়ীর জন্য জাহান্নামবাসী হয়ে যাবে। যেমন:- মহান আল্লাহর সাথে শির্ক ও কুফুরী করা। আবার জাহান্নামে প্রবেশ করার উপাদান এমনও কতকগুলি বিষয় আছে যে, সেই বিষয়গুলি যে ব্যক্তির মধ্যে থাকবে সে ব্যক্তি পাপাচারী বলে বিবেচিত হবে। এবং সে তার পাপাচারের কারণে জাহান্নামবাসী হয়ে যাবে কিন্তু সে চিরস্থায়ীর জন্য জাহান্নামবাসী হবে না। যেমন:- যেমন ব্যভিচার করা, সমকাম, সমমৈথুন বা পুরুষের সাথে পুরুষের যৌনমিলন করা এবং চুরি করা ইত্যাদি।