hadith book logo

নির্বাচিত হাদীস পঞ্চম খণ্ড

লেখকঃ ডক্টর মুহাম্মাদ মর্তুজা বিন আয়েশ মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৯

ওজু করার পদ্ধতি

15 - عَنْ حُمْرَانَ رحمه الله، مَوْلَى عُثمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَنَّهُ رَأَى عُثمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ دَعَا بِوَضُوْءٍ؛ فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ مِنْ إِنَائِهِ؛ فَغَسَلَهُمَا ثَلاَثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَمِيْنَهُ فِي الْوَضُوْءِ، ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَاسْتَنْثَرَ، ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا، وَيَدَيْهِ إِلَى المِرْفَقَيْنِ ثَلاَثًا، ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ، ثُمَّ غَسَلَ كُلَّ رِجْلٍ ثَلاَثًا، ثُمَّ قَالَ : رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ نَحْوَ وُضُوْئِيْ هَذَا، وَقَالَ : " مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوْئِيْ هَذَا، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لاَ يُحَدِّثُ فِيْهِمَا نَفْسَهُ، غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ".

( صحيح البخاري، رقم الحديث 164 ، واللفظ له، وصحيح مسلم، رقم الحديث 3 - (226)،).

15 - অর্থ: ওসমান বিন আফফান [রাদিয়াল্লাহু আনহু] এর স্বাধীনকৃত দাস হোমরান [রাহিমাহুল্লাহ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, সে স্বয়ং ওসমান বিন আফফান [রাদিয়াল্লাহু আনহু] কে দেখেছেন যে, তিনি পানি আনালেন। অতঃপর তিনি সেই পানির পাত্র হতে পানি নিয়ে উভয় হাত তিনবার ধৌত করলেন। অতঃপর তিনি তাঁর ডান হাত দ্বারা ওজুর সেই পানির পাত্র হতে পানি গ্রহণ করলেন। এবং সেই পানির দ্বারা কুলি করলেন আর নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়লেন। অতঃপর তিনি তাঁর মুখমণ্ডল এবং উভয় হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার করে ধৌত করলেন। তারপর তিনি তাঁর মাথা মাসাহ করলেন। এবং উভয় পা তিনবার করে ধৌত করার পর বললেন: আমি আল্লাহর নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কে আমার এই ওজুর ন্যায় ওজু করতে দেখেছি। অতঃপর আল্লাহর নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমার এই ওজুর ন্যায় ওজু করবে এবং বিনয়নম্রতা ও একাগ্রতার সহিত দুই রাকাআত নামাজ পড়বে এবং সেই নামাজ দুই রাকাআতের মধ্যে জাগতিক বিষয়ে কোনো চিন্তা মনের মধ্যে স্থাপন করবে না, মহান আল্লাহ্ তার পূর্বকৃত সকল প্রকারের পাপ ক্ষমা করে দিবেন”।

[সহীহ বুখারী, হাদীস নং 164 এবং সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 3- (226), তবে হাদীসের শব্দগুলি সহীহ বুখারী থেকে নেওয়া হয়েছে]।

* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয় পূর্বে 12 নং হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ওসমান বিন আফফান [রাদিয়াল্লাহু আনহু] এর স্বাধীনকৃত দাস হোমরান [রাহিমাহুল্লাহ] হলেন মাদিনা শহরের একজন মহা সম্মানিত বিদ্বান, মহা জ্ঞানী, বিখ্যাত এবং প্রসিদ্ধ ব্যক্তি। ওসমান বিন আফফান [রাদিয়াল্লাহু আনহু] উনাকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছিলেন। হোমরান [রাহিমাহুল্লাহ] সন 75 হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুবরণের তারিখ সম্পর্কে অন্য উক্তিও রয়েছে।

* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

1। এটি একটি মহাহাদীস, এর মধ্যে সন্নিবেশিত হয়েছে প্রকৃত ইসলাম ধর্মে ওজু করার মৌলিক বিবরণ। তাই সমস্ত মুসলিম ব্যক্তির উচিত, তারা যেন ওজু করার এই মৌলিক বিবরণটির জ্ঞান লাভ করে ও যত্ন করে। তবে জেনে রাখা দরকার যে, একবার মাত্র মাথা মাসাহ করার সাথে সাথে দুই কানেরও মাসাহ করতে হবে। কেননা কান দুইটি তো হলো মাথারই অংশ।

2। ওজু এবং নামাজ হলো মহান আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাত লাভের মাধ্যম। তাই যে ব্যক্তি ওজু করবে, তার উচিত যে, সে যেন ওজু করার পর দুই রাকাআত নামাজ পড়ে।

3। মুসলিম ব্যক্তির উচিত যে, সে যেন ওজু করার শেষে এই দোয়াটি পাঠ করে।

" أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَأَنََّ مُحَمَّدًا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ ".

অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সত্য উপাস্য নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, অব্যশই মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আল্লাহর অতি প্রিয় মানুষ ও দূত।

যেহেতু আল্লাহর নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে থেকে যখন কোনো ব্যক্তি যত্নসহকারে সম্পূর্ণরূপে অথবা উত্তম রূপে ওজু করবে এবং বলবে:

" أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَأَنََّ مُحَمَّدًا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ ".

(অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সত্য উপাস্য নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, অব্যশই মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আল্লাহর অতি প্রিয় মানুষ ও দূত।)

তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হবে, সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছে করবে, সেই দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে”।

[দেখতে পারা যায় সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 17 – (224) ]।