১
নির্বাচিত হাদীস পঞ্চম খণ্ড
লেখকঃ ডক্টর মুহাম্মাদ মর্তুজা বিন আয়েশ মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৯
ফরজ নামাজের সালাম ফিরানোর পর পঠনীয় জিকির
35 - كَتَبَ الْمُغِيْرَةُ بْنُ شُعْبَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا فَرَغَ مِنَ الصَّلاَةِ وَسَلَّمَ، قَالَ : " لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، اَللَّهُمَّ ! لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ ".
( صحيح مسلم، رقم الحديث 137- (593) ، واللفظ له، وصحيح البخاري، رقم الحديث 844).
35 - অর্থ: মুগীরা বিন শুবা [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত। তিনি লিখেছিলেন যে, নিশ্চয় আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যখন নামাজ শেষ করতেন তখন বলতেন:
" لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، اَللَّهُمَّ ! لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ ".
অর্থ: “এক আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক ও শরীকবিহীন, সার্বভৌমত্ব একমাত্র তাঁরই জন্য, সমস্ত প্রশংসা তাঁরই জন্য, তিনি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! আপনি যা প্রদান করেন তা রোধ করাব কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা প্রদান করার কেউ নেই। আপনার কাছে প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা মোতাবেক সৎকর্ম ছাড়া কোনো সম্পদশালীর সম্পদ উপকারে আসবে না”।
[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 137 - (593) এবং সহীহ বুখারী, হাদীস নং 844, তবে হাদীসের শব্দগুলি সহীহ মুসলিম থেকে নেওয়া হয়েছে]।
* GB nv`xm eY©bvKvix mvnvexi cwiPq:
আবু আব্দুল্লাহ মুগীরা বিন শুবা আস্সাকাফী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] তায়েফ শহরে জন্ম গ্রহণ করেন এবং সেখানেই তিনি লালিতপালিত ও বড়ো হন। তিনি অতি ভ্রমণকারী পর্যটক ব্যক্তি হিসেবে বিখ্যাত এবং প্রসিদ্ধ ছিলেন। খন্দক বা পরিখা অথবা আহজাব ও জোটের যুদ্ধের সময় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি হোদায়বিয়ার সন্ধি সম্পন্ন হওয়ার ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন। আবু বাকর এবং ওমার [রাদিয়াল্লাহু আনহুমা] এর আমলে মুসলিমদের পারস্যের অভিযানের মহা বিজয়েও তিনি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি ইয়ামামা, ইয়ারমুক এবং কাদেসিয়ার মহা যুদ্ধেও উপস্থিত ছিলেন। ওমার এবং মুয়াবিয়া [রাদিয়াল্লাহু আনহুমা] উভয়েই তাঁদের আমলে ও শাসন কালে তাঁকে কুফা শহরের আমির বা রাষ্ট্রীয় শাসক নিযুক্ত করেছিলেন। সুতরাং তিনি কুফা শহরের আমির বা রাষ্ট্রীয় শাসক হিসেবে থাকতে থাকতেই কুফা শহরে মৃত্যুবরণ করেন।
মুগীরা বিন শুবা [রাদিয়াল্লাহু আনহু] অতি তীক্ষ্ণবুদ্ধিসম্পন্ন, সাহিত্যিক, বিবেকী এবং অতিশয় বিচক্ষণ ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা 136 টি।
মুগীরা বিন শুবা [রাদিয়াল্লাহু আনহু] কুফা শহরে সন 50 হিজরীতে 70 বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। [রাদিয়াল্লাহু আনহু]
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1। এই হাদীসটির দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] ফরজ নামাজ শেষ করার পর এই জিকিরটি পাঠ করতেন:
" لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، اَللَّهُمَّ ! لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ ".
2। এই মহা জিকিরটির মধ্যে প্রকৃত ইসলাম ধর্মের মহা মতবাদ তাওহীদ ও একত্ববাদের ঘোষণা রয়েছে। সুতরাং মহান আল্লাহ তাঁর সত্তা, বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অস্তিত্ব, নাম, গুণাবলী এবং কর্মের দিক দিয়ে এক এবং একক। নিশ্চয় তিনি সমস্ত উপাসনার সত্য অধিকারী। আর তিনিই কেবল সকল সৃষ্টি জগতের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালন ক্রিয়া সম্পাদন করেন।
3। এই হাদীসটির মধ্যে এসেছে
" لاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ ".
এর অর্থ হলো: হে আল্লাহ! আপনার কাছে প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা মোতাবেক সৎকর্ম ছাড়া কোনো সম্পদশালীর সম্পদ উপকারে আসবে না। সুতরাং মানুষ যত বড়োই ধনবান হোক আর যত বড়োই পদাধিকারী হোক, সে সদা সর্বদা সমস্ত বিষয়ে মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী।
( صحيح مسلم، رقم الحديث 137- (593) ، واللفظ له، وصحيح البخاري، رقم الحديث 844).
35 - অর্থ: মুগীরা বিন শুবা [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত। তিনি লিখেছিলেন যে, নিশ্চয় আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যখন নামাজ শেষ করতেন তখন বলতেন:
" لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، اَللَّهُمَّ ! لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ ".
অর্থ: “এক আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক ও শরীকবিহীন, সার্বভৌমত্ব একমাত্র তাঁরই জন্য, সমস্ত প্রশংসা তাঁরই জন্য, তিনি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! আপনি যা প্রদান করেন তা রোধ করাব কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা প্রদান করার কেউ নেই। আপনার কাছে প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা মোতাবেক সৎকর্ম ছাড়া কোনো সম্পদশালীর সম্পদ উপকারে আসবে না”।
[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 137 - (593) এবং সহীহ বুখারী, হাদীস নং 844, তবে হাদীসের শব্দগুলি সহীহ মুসলিম থেকে নেওয়া হয়েছে]।
* GB nv`xm eY©bvKvix mvnvexi cwiPq:
আবু আব্দুল্লাহ মুগীরা বিন শুবা আস্সাকাফী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] তায়েফ শহরে জন্ম গ্রহণ করেন এবং সেখানেই তিনি লালিতপালিত ও বড়ো হন। তিনি অতি ভ্রমণকারী পর্যটক ব্যক্তি হিসেবে বিখ্যাত এবং প্রসিদ্ধ ছিলেন। খন্দক বা পরিখা অথবা আহজাব ও জোটের যুদ্ধের সময় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি হোদায়বিয়ার সন্ধি সম্পন্ন হওয়ার ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন। আবু বাকর এবং ওমার [রাদিয়াল্লাহু আনহুমা] এর আমলে মুসলিমদের পারস্যের অভিযানের মহা বিজয়েও তিনি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি ইয়ামামা, ইয়ারমুক এবং কাদেসিয়ার মহা যুদ্ধেও উপস্থিত ছিলেন। ওমার এবং মুয়াবিয়া [রাদিয়াল্লাহু আনহুমা] উভয়েই তাঁদের আমলে ও শাসন কালে তাঁকে কুফা শহরের আমির বা রাষ্ট্রীয় শাসক নিযুক্ত করেছিলেন। সুতরাং তিনি কুফা শহরের আমির বা রাষ্ট্রীয় শাসক হিসেবে থাকতে থাকতেই কুফা শহরে মৃত্যুবরণ করেন।
মুগীরা বিন শুবা [রাদিয়াল্লাহু আনহু] অতি তীক্ষ্ণবুদ্ধিসম্পন্ন, সাহিত্যিক, বিবেকী এবং অতিশয় বিচক্ষণ ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা 136 টি।
মুগীরা বিন শুবা [রাদিয়াল্লাহু আনহু] কুফা শহরে সন 50 হিজরীতে 70 বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। [রাদিয়াল্লাহু আনহু]
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1। এই হাদীসটির দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] ফরজ নামাজ শেষ করার পর এই জিকিরটি পাঠ করতেন:
" لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، اَللَّهُمَّ ! لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ ".
2। এই মহা জিকিরটির মধ্যে প্রকৃত ইসলাম ধর্মের মহা মতবাদ তাওহীদ ও একত্ববাদের ঘোষণা রয়েছে। সুতরাং মহান আল্লাহ তাঁর সত্তা, বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অস্তিত্ব, নাম, গুণাবলী এবং কর্মের দিক দিয়ে এক এবং একক। নিশ্চয় তিনি সমস্ত উপাসনার সত্য অধিকারী। আর তিনিই কেবল সকল সৃষ্টি জগতের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালন ক্রিয়া সম্পাদন করেন।
3। এই হাদীসটির মধ্যে এসেছে
" لاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ ".
এর অর্থ হলো: হে আল্লাহ! আপনার কাছে প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা মোতাবেক সৎকর্ম ছাড়া কোনো সম্পদশালীর সম্পদ উপকারে আসবে না। সুতরাং মানুষ যত বড়োই ধনবান হোক আর যত বড়োই পদাধিকারী হোক, সে সদা সর্বদা সমস্ত বিষয়ে মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী।