hadith book logo

নির্বাচিত হাদীস পঞ্চম খণ্ড

লেখকঃ ডক্টর মুহাম্মাদ মর্তুজা বিন আয়েশ মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭৭

যে খেজুর খেতে থাকবে সে ক্ষুধার্ত হবে না

73 - عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " لاَ يَجُوْعُ أَهْلُ بَيْتٍ عِنْدَهُمُ التَّمْرُ ".

( صحيح مسلم، رقم الحديث 152 - (2046)، ).

73 - অর্থ: নাবী কারীম [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর প্রিয়তমা আয়েশা উম্মুলমুমেনীন [রাদিয়াল্লাহু আনহা] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নিশ্চয় আল্লাহর নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: “যে সমস্ত লোকের বাড়িতে খেজুর থাকবে, সে সমস্ত বাড়ির লোক অনাহারে থাকবে না”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 152 - (2046)]।

* এই হাদীস বর্ণনাকারিণী সাহাবীয়ার পরিচয় পূর্বে 16 নং হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।

* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

1। এই হাদীসটি প্রতিটি মানুষকে তার বাড়িতে নিজের জন্য এবং নিজের পোষ্যবর্গের জীবনযাত্রার জন্য খেজুর জমা করে রাখার প্রতি উৎসাহ প্রদান করে।

2। এই হাদীসটির দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যে বাড়ির লোকজন খেজুর খেতে থাকবে, সে বাড়ির লোকজন ক্ষুধার্ত হবে না।

3। ইসলাম ধর্মের পণ্ডিতগণের মধ্যে থেকে কতকগুলি পণ্ডিত (মহান আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন) বলেছেন: যখন কোনো সমাজের লোকজনের অবস্থা পরিবর্তিত হবে, আর সেই সমাজের প্রয়োজনীয় বিষয় এবং খাদ্যদ্রব্য খেজুর ব্যতীত অন্য কোনো জিনিস থাকবে, তখন সেই সমাজের জন্য এই হাদীসটি প্রযোজ্য নয়। যেহেতু আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এই উপদেশটি মাদীনাবাসীকে প্রদান করছিলেন এবং বলেছিলেন যে, “তাদের কাছে খেজুর না থাকলে তারা ক্ষুধার্ত অবস্থায় থাকবে”। কেননা তারা তো সেই সময়ে খেজুর খাওয়ার অভ্যাসে অভ্যাসিত ছিলো। এবং খেজুরই তাদের সমাজে প্রধান খাদ্যদ্রব্য হিসেবে গণ্য করা হতো। এই পদ্ধতিতে তাঁরা এই হাদীসটির ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। কিন্তু এই ব্যাখ্যারটির দ্বারা মনের মধ্যে তৃপ্তি আসছে না। কেননা এই ব্যাখ্যার দ্বারা খেজুরের সমস্ত বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয়ে যায়। আর খেজুরকে পৃথিবীর যে কোনো সাধারণ খাদ্যদ্রব্য হিসেবে গণ্য করা হয়। এই বিষয়ে মহান আল্লাহই অধিক জানেন।