hadith book logo

নির্বাচিত হাদীস পঞ্চম খণ্ড

লেখকঃ ডক্টর মুহাম্মাদ মর্তুজা বিন আয়েশ মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫

ওয়ালিমা অথবা অন্য কোনো পবিত্র ভোজের নিমন্ত্রণ গ্রহণ করা অপরিহার্য

11 - عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ دُعِيَ إِلَى عُرْسٍ أَوْ نَحْوِهِ فَلْيُجِبْ ".

( صحيح مسلم، رقم الحديث 101 - (1429)، ).

11 - অর্থ: আব্দুল্লাহ বিন ওমার [রাদিয়াল্লাহু আনহুমা] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে থেকে কোনো ব্যক্তিকে বিবাহের ওয়ালিমা অথবা অন্য কোনো পবিত্র ভোজের নিমন্ত্রণ জানানো হলে; সে যেন তা অবশ্যই গ্রহণ করে”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 101 - (1429) ]।

* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:

আব্দুল্লাহ বিন ওমার ইবনুল খাত্তাব একজন সম্মানিত সাহাবী। তিনি নাবালক অবস্থাতেই তাঁর পিতা দ্বিতীয় খালীফা ওমার ইবনুল খাত্তাব [রাদিয়াল্লাহু আনহু] যখন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখনই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর পিতার পূর্বেই তিনি মাদীনায় হিজরত করেন। তিনি সর্ব প্রথমে খন্দকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সাথে আরো সমস্ত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মিশর, শামদেশ, ইরাক, বাসরা ও পারস্যের বিজয়েও অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি সুদর্শন, সাহসী ও সত্য প্রকাশকারী সাহাবীগণের মধ্যে জ্ঞানী এবং বিদ্বান বা বিদ্যাবান হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে 2630 টি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি ইবাদত ও পরহেজগারিতায় ছিলেন অনুকরণীয় সাহাবী। তিনি সন 73 হিজরীতে 86 বছর বয়সে মাক্কায় মৃত্যুবরণ করেন।

* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

1। এই হাদীসটির দাবি মোতাবেক এটা প্রমাণিত হয় যে, যে ব্যক্তিকে বিবাহের ওয়ালিমায় আমন্ত্রিত করা হবে, সে ব্যক্তির প্রতি বিবাহের ওয়ালিমার নিমন্ত্রণ গ্রহণ করা ওয়াজেব ও অপরিহার্য হয়ে যাবে। যেহেতু ওয়ালিমার নিমন্ত্রণ গ্রহণ করার মাধ্যমে বরকন্যা বা পাত্র পাত্রীর গুরুত্ব ও সম্মান প্রকাশ করা হয়, তাদেরকে আনন্দিত করা হয় এবং তাদের মনকে প্রফুল্লিত করা হয়। আরবী ভাষায় বিবাহের ওয়ালিমার নিমন্ত্রণকে আল উর্স ( العُرْسُ ) বলা হয়।

2। প্রকৃত ইসলাম হলো সচ্চরিত্র ও ভাল আচরণ এবং পরিষ্কার হৃদয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার ধর্ম। যাতে পরিবার ও সমাজের লোকদের মধ্যে পরস্পর ঘৃণা ও অমঙ্গলের প্রভাব প্রকাশ না পায়। তাই যে ওয়ালিমার মধ্যে প্রকৃত ইসলামের শিক্ষার বিপরীত বা উলটো কোনো আচরণ থাকবে না, সেই ওয়ালিমার নিমন্ত্রণ গ্রহণ করা ওয়াজেব ও অপরিহার্য হয়ে পড়বে।



3। মুসলিম ব্যক্তির জন্য এটা বৈধ বা জায়েজ নয় যে, সে ওয়ালিমার অনুষ্ঠানে অথবা অন্য কোনো পানাহারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে খুঁজে খুঁজে খাবার জিনিসের বা খাদ্যদ্রব্যের খুঁত বা দোষ বের করবে। সুতরাং আহার্য ও খাবার জিনিসের বা খাদ্যদ্রব্য তার পছন্দমাফিক ও মনের মত হলে খাবে আর মনের মত না হলে খাবে না।