hadith book logo

নির্বাচিত হাদীস পঞ্চম খণ্ড

লেখকঃ ডক্টর মুহাম্মাদ মর্তুজা বিন আয়েশ মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮

খাবার খাওয়ার আদবকায়দা

14 - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُماَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : " إِنَّ الْبَرَكَةَ تَنْزِلُ وَسَطَ الطَّعَامِ؛ فَكُلُوْا مِنْ حَافَّتَيْهِ، وَلاَ تَأْكُلُوْا مِنْ وَسَطِهِ ".

( جامع الترمذي، رقم الحديث 1805 ، واللفظ له، وسنن أبي داود، رقم الحديث 3772 ، وسنن ابن ماجه، رقم الحديث 3277 ، وقال الإمام الترمذي عن هذا الحديث بأنه : حسن صحيح، وصححه الألباني ).

14 - অর্থ: আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস [রাদিয়াল্লাহু আনহুমা] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নিশ্চয় আল্লাহর নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: খাদ্যের মাঝখানে অধিকতর কল্যাণ অবতীর্ণ হয়। অতএব তোমরা খাদ্যের কিনারা হতে খাবে, মাঝখান হতে খাবে না।

[জামে তিরমিযী, হাদীস নং 1805, এবং সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং 3772 এবং সুনান ইবনু মাজাহ, হাদীস নং 3277, তবে হাদীসের শব্দগুলি জামে তিরমিযী থেকে নেওয়া হয়েছে। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান ও সহীহ বলেছেন। আল্লামা নাসেরুদ্দিন আল্ আলবাণী হাদীসটিকে সহীহ (সঠিক) বলেছেন]।

* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয় পূর্বে 6 নং হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।

* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

1। এই হাদীসটির দাবি মোতাবেক এটা প্রমাণিত হয় যে, মুসলিম ব্যক্তি যেন খাদ্যদ্রব্যের মাঝখান হতে খাওয়া শুরু না করে বরং নিজের পাশ থেকে খাওয়া শুরু করে। আর খাওয়ার সময় নিজের হাত যেন অন্য লোকদের প্রতিও প্রসারিত না করে। এবং খাবারের মাঝখান থেকেও খবার খেতে শুরু না করে। কিন্তু যখন বিভিন্ন প্রকারের খাবার বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে থাকবে অথবা মাঝখানে থাকবে, তখন ইচ্ছা অনুযায়ী যে কোনো দিক থেকে কিংবা মাঝখান থেকেও খাবার নিয়ে খাওয়া বৈধ। এবং এই অবস্থায় বিভিন্ন দিক থেকে অথবা মাঝখান থেকে খাবার খেলে কোনো সমস্যা নেই। (এই বিধানটি ওই সময়ে উপযোগী যখন একটি বড়ো ডিশ বা বড়ো রেকাবি অথবা বড়ো প্লেটে কয়েক জন ব্যক্তি এক সাথে খেতে বসবে)।

2। এই হাদীসটির মধ্যে (আলবারাকা - الْبَرَكَةُ ) শব্দটির ভাবার্থ হলো: অধিকতর কল্যাণ ও মঙ্গল। আর অধিকতর কল্যাণ ও মঙ্গলের নিদর্শন হলো: স্বাস্থ্য, সুখ, সুস্থতা, তৃপ্তি এবং মনের মধ্যে নিরাপত্তা, আরাম ও শান্তি অনুভব করা আর ভয় ও উদ্বেগ হতে নিরাপদ উপলব্ধি করা। এবং অকল্যাণ ও অমঙ্গলের নিদর্শন হলো: অন্তরের মধ্যে প্রবল লোভ, তীব্র লালসা, স্বার্থপরায়ণতা, অতৃপ্ত থাকা, আত্যন্তিক আত্মম্ভরিতা, অত্যধিক মতলবী হওয়া, বিদ্বেষ ও অমঙ্গল, দরিদ্র্যতা বা দীনতা, উদ্বেগ ও অস্বস্তিকর অবস্থা এবং অশান্ত মনোভাব বিরাজ করা।