hadith book logo

নির্বাচিত হাদীস পঞ্চম খণ্ড

লেখকঃ ডক্টর মুহাম্মাদ মর্তুজা বিন আয়েশ মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৯

সূরা ইখলাসের মর্যাদা

25 - عَنْ أَبِيْ الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : " أَيَعْجِزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقْرَأَ فِيْ لَيْلَةٍ ثُلُثَ الْقُرْآنِ؟ قَالُوْا : وَكَيْفَ يَقْرَأْ ثُلُثَ الْقُرْآنِ؟ قَالَ : "( قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ) تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ ".

( صحيح مسلم، رقم الحديث 259- (811)، ).

অর্থ: আবুদ্দারদা [রাদিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] থেকে বর্ণনা করেছেন: নাবী কারীম [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে থেকে কোনো ব্যক্তি রাত্রিকালে পবিত্র কুরআনের এক তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করতে ক্ষমতা রাখেনা কি? তারা বললেন: পবিত্র কুরআনের এক তৃতীয়াংশ কিভাবে পড়া সম্ভব হবে? তিনি বললেন:

( قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ )

অর্থাৎ “সূরা ইখলাস হলো পবিত্র কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য”।

[সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 259 - (811) ]।

* এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীর পরিচয়:

আবুদ্দারদা, তিনি ওয়াইমের বিন কাইস আল্‌ খাজরাজী আল আনসারী, একজন বিখ্যাত সাহাবী। বদরের যুদ্ধের দিন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। এই উম্মতের একজন বিশিষ্ট বিচক্ষণ ব্যক্তি ( حكيم هذه الأمة ) হিসেবে তিনি উপাধি লাভ করেছেন। দামেশকে তিনি বিচারপতি ও পবিত্র কুরআনের কারীগণের মধ্যে প্রধান ব্যক্তি হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর জীবদ্দশাতে পবিত্র কুরআনের একত্রিকরণ, সংরক্ষণ সংক্রান্ত এবং মুখস্থকরণের কাজে নিয়োজিত ছিলেন [রাদিয়াল্লাহু আনহু] ।

হাদীস গ্রন্থে তাঁর কাছ থেকে বর্ণিত 179 টি হাদীস পাওয়া যায়। তিনি সন 32 হিজরীতে অথবা 31 হিজরীতে 72 বছর বয়সে তৃতীয় খালীফা ওসমান বিন আফ্‌ফানের শাহাদতবরণের তিন বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন।

* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:

1। এই হাদীসটি এই কল্যাণময় সূরাটির মর্যাদার বিবরণ পেশ করে, এই সূরাটির নাম হলো সূরা ইখলাস। এই সূরাটির তিলাওয়াত করার মর্যাদা হলো পবিত্র কুরআনের এক তৃতীয়াংশের তিলাওয়াত করার মর্যাদার সমান। এবং মহান আল্লাহর কৃপায় এই সূরাটির তিলাওয়াত করার পুণ্য হলো পবিত্র কুরআনের এক তৃতীয়াংশের তিলাওয়াত করার পুণ্যের সমান।

2। মুসলিম ব্যক্তির উচিত যে, সে যেন সূরা ইখলাসের সাথে সাথে সম্পূর্ণ কুরআন তিলাওয়াত করার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করে। কেননা তার জন্য তাতে তো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ইহকাল ও পরকালের সুখময় জীবন লাভ করার পথ প্রদর্শন করা হয়েছে।