১
নির্বাচিত হাদীস পঞ্চম খণ্ড
লেখকঃ ডক্টর মুহাম্মাদ মর্তুজা বিন আয়েশ মুহাম্মাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬৮
ফরজ নামাজের সালাম ফিরানোর পর পঠনীয় জিকির
64 - عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ : كَانَ النََّبِيُُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَلَّمَ، لَمْ يَقْعُدْ، إِلاَّ مِقْدَارَ مَا يَقُوْلُ : " اَللَّهُمََّ أَنْتَ السََّّلاَمُ وَمِنْكَ السََّّلامُ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلالِ وَالاِكْرَامِ ".
( صحيح مسلم، رقم الحديث 136 - (592)، ).
64 - অর্থ: নাবী কারীম [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর প্রিয়তমা আয়েশা উম্মুলমুমেনীন [রাদিয়াল্লাহু আনহা] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আল্লাহর নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] নামাজের সালাম ফিরিয়ে শুধু নিম্নের জিকিরটি বলা পর্যন্ত বসতেন:
" اَللَّهُمََّ أَنْتَ السََّّلاَمُ وَمِنْكَ السََّّلامُ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلالِ وَالاِكْرَامِ ".
অর্থ: “হে আল্লাহ, আপনি প্রশান্তি দাতা, আর আপনার কাছেই রয়েছে সকল প্রকারের শান্তি, আপনি অধিকতর কল্যাণময়, হে মর্যাদাবান এবং মহানুভব মহিমান্বিত”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 136 - (592) ]।
* এই হাদীস বর্ণনাকারিণী সাহাবীয়ার পরিচয় পূর্বে 16 নং হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1। এই হাদীসটির দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ইমাম জামাআতের সহিত নামাজ শেষ করে সালাম ফিরানোর পর তার নামাজ পড়ার স্থান থেকে অন্য দিকে চলে যেতে পারে। কেননা, এই হাদীসটির দ্বারা সাধারণভাবে এটাই প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁর নামাজ পড়ার স্থানে নামাজের সালাম ফিরিয়ে শুধু উক্ত জিকিরটি বলা পর্যন্ত বসতেন। এবং অতি সত্বর সেই স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যেতেন নফল নামাজ পড়ার জন্য। কিন্তু ইসলাম ধর্মের পণ্ডিতগণের মধ্যে থেকে কতকগুলি পণ্ডিত বলেছেন যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] নামাজের সালাম ফিরিয়ে শুধু উক্ত জিকিরটি বলা পর্যন্ত কেবলামুখী হয়ে বসতেন, তার পর নামাজের জামাআতের লোকের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতেন। এই বিষয়ে মহান আল্লাহই অধিক জানেন।
2। ফরজ নামাজের সালাম ফিরানোর পর অনেক পঠনীয় জিকিরের কথা আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] থেকে বিভিন্ন অবস্থায় এবং বিভিন্ন সময় বর্ণিত হয়েছে। উক্ত জিকিরগুলির মধ্যে রয়েছে এই জিকিরটি:
" اَللَّهُمََّ أَنْتَ السََّّلاَمُ وَمِنْكَ السََّّلامُ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلالِ وَالاِكْرَامِ ".
অর্থ: “হে আল্লাহ, আপনি প্রশান্তি দাতা, আর আপনার কাছেই রয়েছে সকল প্রকারের শান্তি, আপনি অধিকতর কল্যাণময়, হে মর্যাদাবান এবং মহানুভব মহিমান্বিত”।
আবার এটাও সঠিক হাদীসের মধ্যে উল্লিখিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] নামাজের সালাম ফিরানোর পর তিনবার পাঠ করতেন:
" أَسْتَغْفِرُ اللهَ ".
অর্থ:“ আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি”।
অতঃপর বলতেন:
" اَللَّهُمََّ أَنْتَ السََّّلاَمُ وَمِنْكَ السََّّلامُ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلالِ وَالاِكْرَامِ ".
( দেখতে পারা যায় সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 135 - (591) ।
3। উক্ত জিকিরের মধ্যে রয়েছে:
" اَللَّهُمََّ أَنْتَ السََّّلاَمُ "
আস্সালাম শব্দটি এখানে মহান আল্লাহর একটি নাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর অর্থ হলো: “হে আল্লাহ! আপনি সমস্ত দোষ ত্রুটি এবং অসম্পূর্ণতা হতে সম্পূর্ণ মুক্ত। এবং যে সমস্ত বস্তুর আপনি উপযোগী নন, সেই সমস্ত বস্তু হতে আপনার পবিত্রতা ও মহা উৎকৃষ্টতার ঘোষণা করছি।
এবং مِنْكَ السََّّلامُ এর অর্থ হলো: হে আল্লাহ আপনি শান্তি প্রদান কারী, আপনার কাছেই রয়েছে সকল প্রকারের শান্তি।
এবং يَا ذَا الْجَلالِ وَالاِكْرَامِ এর অর্থ হলো: “হে আল্লাহ! আপনি মর্যাদাবান এবং মহানুভব মহিমান্বিত”।
( صحيح مسلم، رقم الحديث 136 - (592)، ).
64 - অর্থ: নাবী কারীম [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর প্রিয়তমা আয়েশা উম্মুলমুমেনীন [রাদিয়াল্লাহু আনহা] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আল্লাহর নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] নামাজের সালাম ফিরিয়ে শুধু নিম্নের জিকিরটি বলা পর্যন্ত বসতেন:
" اَللَّهُمََّ أَنْتَ السََّّلاَمُ وَمِنْكَ السََّّلامُ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلالِ وَالاِكْرَامِ ".
অর্থ: “হে আল্লাহ, আপনি প্রশান্তি দাতা, আর আপনার কাছেই রয়েছে সকল প্রকারের শান্তি, আপনি অধিকতর কল্যাণময়, হে মর্যাদাবান এবং মহানুভব মহিমান্বিত”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 136 - (592) ]।
* এই হাদীস বর্ণনাকারিণী সাহাবীয়ার পরিচয় পূর্বে 16 নং হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে।
* এই হাদীস হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
1। এই হাদীসটির দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ইমাম জামাআতের সহিত নামাজ শেষ করে সালাম ফিরানোর পর তার নামাজ পড়ার স্থান থেকে অন্য দিকে চলে যেতে পারে। কেননা, এই হাদীসটির দ্বারা সাধারণভাবে এটাই প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁর নামাজ পড়ার স্থানে নামাজের সালাম ফিরিয়ে শুধু উক্ত জিকিরটি বলা পর্যন্ত বসতেন। এবং অতি সত্বর সেই স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যেতেন নফল নামাজ পড়ার জন্য। কিন্তু ইসলাম ধর্মের পণ্ডিতগণের মধ্যে থেকে কতকগুলি পণ্ডিত বলেছেন যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] নামাজের সালাম ফিরিয়ে শুধু উক্ত জিকিরটি বলা পর্যন্ত কেবলামুখী হয়ে বসতেন, তার পর নামাজের জামাআতের লোকের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতেন। এই বিষয়ে মহান আল্লাহই অধিক জানেন।
2। ফরজ নামাজের সালাম ফিরানোর পর অনেক পঠনীয় জিকিরের কথা আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] থেকে বিভিন্ন অবস্থায় এবং বিভিন্ন সময় বর্ণিত হয়েছে। উক্ত জিকিরগুলির মধ্যে রয়েছে এই জিকিরটি:
" اَللَّهُمََّ أَنْتَ السََّّلاَمُ وَمِنْكَ السََّّلامُ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلالِ وَالاِكْرَامِ ".
অর্থ: “হে আল্লাহ, আপনি প্রশান্তি দাতা, আর আপনার কাছেই রয়েছে সকল প্রকারের শান্তি, আপনি অধিকতর কল্যাণময়, হে মর্যাদাবান এবং মহানুভব মহিমান্বিত”।
আবার এটাও সঠিক হাদীসের মধ্যে উল্লিখিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] নামাজের সালাম ফিরানোর পর তিনবার পাঠ করতেন:
" أَسْتَغْفِرُ اللهَ ".
অর্থ:“ আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি”।
অতঃপর বলতেন:
" اَللَّهُمََّ أَنْتَ السََّّلاَمُ وَمِنْكَ السََّّلامُ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلالِ وَالاِكْرَامِ ".
( দেখতে পারা যায় সহীহ মুসলিম, হাদীস নং 135 - (591) ।
3। উক্ত জিকিরের মধ্যে রয়েছে:
" اَللَّهُمََّ أَنْتَ السََّّلاَمُ "
আস্সালাম শব্দটি এখানে মহান আল্লাহর একটি নাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর অর্থ হলো: “হে আল্লাহ! আপনি সমস্ত দোষ ত্রুটি এবং অসম্পূর্ণতা হতে সম্পূর্ণ মুক্ত। এবং যে সমস্ত বস্তুর আপনি উপযোগী নন, সেই সমস্ত বস্তু হতে আপনার পবিত্রতা ও মহা উৎকৃষ্টতার ঘোষণা করছি।
এবং مِنْكَ السََّّلامُ এর অর্থ হলো: হে আল্লাহ আপনি শান্তি প্রদান কারী, আপনার কাছেই রয়েছে সকল প্রকারের শান্তি।
এবং يَا ذَا الْجَلالِ وَالاِكْرَامِ এর অর্থ হলো: “হে আল্লাহ! আপনি মর্যাদাবান এবং মহানুভব মহিমান্বিত”।