১
চেপে রাখা ইতিহাস
লেখকঃ গোলাম আহমাদ মোর্তজা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২১
মোঘল আলোচনার পূর্বকথা
যদুনাথ সরকারের মতে, মোগল শাসকরা ছিলেন স্বরতন্ত্রী, তাদের লক্ষ্য ছিল অত্যন্ত সীমিত এবং উচ্চ আদর্শহীন-কথাগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল আলীম সাহেব তার ভারতে মুসলিম শাসন ব্যবস্থার ইতিহাসের ১২৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। অবশ্য লেখক এ মতের সমর্থক নন। বাবর হতে দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ পর্যন্ত সম্রাটদের আমরা বা সরকার মশায় কেউই দেখিনি। শুধুমাত্র মূল কাগজপত্র দেখে, তার বিচার করতে হয়।
বেচারা যদুনাথ সরকার তাঁর মোঘল অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন পুস্তকের ৪ ও ৫ পৃষ্ঠায় যা লিখেছেন মূল ইতিহাসে তার বিপরীত জিনিসই পাওয়া যায় এবং তার উপর ভিত্তি করে বলা যায়, মোঘল শাসন ছিল অত্যন্ত জনহিতকর এবং নিরপেক্ষ। (দ্রষ্টব্য হুসাইনি : এ্যাডমিনিস্ট্রেশন আন্ডার দি মুঘলস, পৃঃ ২৩)
তাহলে যদুনাথ সরকার ইংরেজদের আমলে উল্টা করে লিখলেন কেন? অবশ্য এটা অত্যন্ত পরিষ্কার যে, যারা তাঁকে স্যার উপাধি দিয়েছেন তাদের মর্যাদার প্রতি তিনি অন্যায় কিছু করেন নি। প্রত্যেক মোঘল সম্রাটই অমুসলমানদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় নিয়োগ করতেন। (বাইহাকীর লেখা তারিখী বাইহাকী এবং ইলিয়ট ও ডওসনের লেখা হিষ্ট্রী অফ ইন্ডিয়ার দ্বিতীয় খণ্ডের ১২৮ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)
স্যার যদুনাথ মোগলদের সর্বাপেক্ষা দুর্বল, কালের পরিস্থিতির সাথে মোকাবিলা করতেও অগ্রগতির উন্নতি সাধনে ব্যর্থ বলে উল্লেখ করেছেন (দ্রষ্টব্য যদুনাথ সরকার : মুঘল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, পৃষ্ঠা ৯)
এ পুস্তকে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, মোগলেরা ছিল স্বেচ্ছাচারিতার প্রতীক (পৃষ্ঠা ১১)। অথচ মূল ইতিহাসে রয়েছে, মোগলেরা বিচার বিবেচনার ক্ষেত্রে জাতি, আত্মীয়, কর্মচারী, বন্ধু বান্ধব বা অন্য কারো পদমর্যাদার প্রতি কোনও রকম দুর্বলতা দেখাতেন না। (শরণের লেখা প্রভিনশিয়াল গভর্ণমেন্ট পুস্তকের ৩৬৭ পৃষ্ঠা; তুজুকই জাহাঙ্গীর দ্বিতীয় খণ্ডের ২১১ পৃষ্ঠা এবং রজার ও বেভেরিজের ‘মেমোয়ারস অফ জাহাঙ্গীর দ্রষ্টব্য)
বেচারা যদুনাথ সরকার তাঁর মোঘল অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন পুস্তকের ৪ ও ৫ পৃষ্ঠায় যা লিখেছেন মূল ইতিহাসে তার বিপরীত জিনিসই পাওয়া যায় এবং তার উপর ভিত্তি করে বলা যায়, মোঘল শাসন ছিল অত্যন্ত জনহিতকর এবং নিরপেক্ষ। (দ্রষ্টব্য হুসাইনি : এ্যাডমিনিস্ট্রেশন আন্ডার দি মুঘলস, পৃঃ ২৩)
তাহলে যদুনাথ সরকার ইংরেজদের আমলে উল্টা করে লিখলেন কেন? অবশ্য এটা অত্যন্ত পরিষ্কার যে, যারা তাঁকে স্যার উপাধি দিয়েছেন তাদের মর্যাদার প্রতি তিনি অন্যায় কিছু করেন নি। প্রত্যেক মোঘল সম্রাটই অমুসলমানদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় নিয়োগ করতেন। (বাইহাকীর লেখা তারিখী বাইহাকী এবং ইলিয়ট ও ডওসনের লেখা হিষ্ট্রী অফ ইন্ডিয়ার দ্বিতীয় খণ্ডের ১২৮ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)
স্যার যদুনাথ মোগলদের সর্বাপেক্ষা দুর্বল, কালের পরিস্থিতির সাথে মোকাবিলা করতেও অগ্রগতির উন্নতি সাধনে ব্যর্থ বলে উল্লেখ করেছেন (দ্রষ্টব্য যদুনাথ সরকার : মুঘল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, পৃষ্ঠা ৯)
এ পুস্তকে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, মোগলেরা ছিল স্বেচ্ছাচারিতার প্রতীক (পৃষ্ঠা ১১)। অথচ মূল ইতিহাসে রয়েছে, মোগলেরা বিচার বিবেচনার ক্ষেত্রে জাতি, আত্মীয়, কর্মচারী, বন্ধু বান্ধব বা অন্য কারো পদমর্যাদার প্রতি কোনও রকম দুর্বলতা দেখাতেন না। (শরণের লেখা প্রভিনশিয়াল গভর্ণমেন্ট পুস্তকের ৩৬৭ পৃষ্ঠা; তুজুকই জাহাঙ্গীর দ্বিতীয় খণ্ডের ২১১ পৃষ্ঠা এবং রজার ও বেভেরিজের ‘মেমোয়ারস অফ জাহাঙ্গীর দ্রষ্টব্য)