hadith book logo

চেপে রাখা ইতিহাস

লেখকঃ গোলাম আহমাদ মোর্তজা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৭

মাওলানা শরিয়তুল্লাহ

পূর্ববঙ্গে মাদারীপুর গ্রামে শরিয়তুল্লার জন্ম হয়। তার বাবা মা যে খুব ইসলাম দরদী ছিলেন, তাঁর নামই তার সাক্ষী। আঞ্চলিক পড়া শেষ করে কলকাতায় এসে মাওলানা বাশারত আলীর কাছে যুবক শরীয়তুল্লাহ উচ্চ শিক্ষা নিতে থাকেন। এ মাওলানা সাহেব ছিলেন হযরত সৈয়দ আহমদ বেরেলী সাহেবের ভক্ত এবং একজন গুপ্ত

যোদ্ধা। সুতরাং জিহাদের মন্ত্র দিতে ও নিতে কারও কোন বাধা ছিলনা। তারপর গুরু শিষ্য উভয়ে মক্কা গেলেন। সেখানে আরও উচ্চ শিক্ষা ও থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে হানাফী মাজহাবের বিখ্যাত পণ্ডিত তাহের সোম্বালের কাছে সূফিতত্ত্বের শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে বঙ্গদেশে মাওলানা শরিয়তুল্লাহ ১৮১৮ খৃষ্টাব্দে এসে উপস্থিত হন। ওদিকে হযরত সৈয়দ আহমদ বেরেলী বঙ্গদেশের জন্য এ রকম রত্নেরই তখন খোঁজ করছিলেন। ১৮২২ খৃস্টাব্দে কলকাতায় দুজনের যোগাযোগ হয় এবং তাকে তার কাজ সম্বন্ধে সচেতন করা হয়। মাওলানা শরিয়তুল্লাহ সাহেব ইংরেজ সৃষ্ট জমিদার শ্রেণীর বিরুদ্ধে লড়াই ও ইংরেজের সাথে লড়াই অভিন্ন মনে করে শোষিত, অত্যাচারিত কৃষক, তাঁতী, তেলি প্রভৃতি অনুন্নত ও দরিদ্র শ্রেণীর মধ্যে আন্দোলন পরিচালনা করেন। এটা খুব মনে রাখা দরকার যে, তখন মুসলমান জমিদারও কিছু ছিলেন, যারা অনেকেই আন্দোলনের প্রতিকূলে ছিলেন।

এ সময় হিন্দু জমিদারগণ মুসলমান কৃষকের কাছে কালীপূজা, দূর্গাপূজা ইত্যাদিতে কর আদায় করতেন, যা ইসলাম বিরোধী। শুধু তাই নয়, মুসলমান প্রজাদের জন্য ঈদুল-আযহা পর্বে গরু ব্যবহারও বন্ধ করা হয়েছিল। মাওলানা শরীয়তুল্লাহ পূজায় চাঁদা দিতে মুসলমানদের নিষেধ করেন এবং পর্বে গরু ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান করেন। মোটকথা তিনি ধর্ম সংস্কারকরূপে সংগ্রাম চালিয়ে সংগ্রামের বুনিয়াদ মজবুত করে ফেললেন। সে সাথে তার ছেলে আলাউদ্দিন আহমদকে মক্কা পাঠালেন। সেখানে শিক্ষা লাভের পর আলাউদ্দিন বাড়ী এলেন এবং পিতার কাছে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে তিনি উপযুক্ত প্রতিনিধিতে পরিণত হলেন। ১৮৪০ খৃষ্টাব্দে মাওলানা শরিয়তুল্লাহ দেহত্যাগ করেন।