hadith book logo

চেপে রাখা ইতিহাস

লেখকঃ গোলাম আহমাদ মোর্তজা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৩

টিপু সুলতান

টিপুর জন্ম হয় ১৭৫০ খৃষ্টাব্দে। বীর পিতা মহীশূর ব্যাঘের মৃত্যু হলেও পিতার সুযোগ্য পুত্র রূপে পিতা অপেক্ষা বীরত্বে কোন অংশ কম ছিলেন না। পিতার ন্যায় তারাও ছিল ইংরেজদের দেশচ্যুত করার পবিত্র কামনা। তিনি মেথিউ সাহেবকে বদনুরে সসৈন্যে বন্দী করেন এবং মাঙ্গালোর অধিকার করেন ৭৮৪ খৃস্টাব্দে ইংরেজগণ টিপুর সাথে অত্যন্ত বিনয় ও নম্রতার সাথে সন্ধি করে। কিন্তু ইংরেজগণ এবারও সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করে নিজাম ও মারাঠাদের সহযোগিতায় ভিন্ন দিক হতে মহীশূর আক্রমণ করে।

টিপু এক বছর পর্যন্ত তাদের ঠেকিয়ে রাখেন। কিন্তু অবশেষ পরাজয় বরণ করে এক সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করতে হয়। অর্ধেক রাজ্য, প্রচুর অর্থএবং দুই পুত্রকে জামিন রেখে অত্যন্ত মনোবেদনার সাথে তাকে মেনে নিতে সন্ধির শর্ত হয়েছিল। এ সন্ধি, যা পরাজয়ের নামান্তর। তবুও আবার তিনি ভীষণ দূরদর্শিতা ও তৎপরতায় সৈন্য গঠন করলেন এবং পিতা হায়দারের মত মারাঠাদেরও নিজামের সাথে সন্ধির আবেদন জানালেন আবার মারাঠারা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করল সুলতানের এ আন্তরিক প্রস্তাব। নিজামও ইংরেজদের এ বাধ্যতামুলক সন্ধি মেনে নিয়েছিলেন।

মিঃ ওয়েলেসলীর তথা ইংরেজদের রাজ্য বিস্তারের পথে বিরাট প্রতিবন্ধক ও প্রবলতম প্রতিদ্বন্দীকে নিশ্চিহ্ন করতে মিত্রশিক্ত ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চতুর্থ মহীশুর যুদ্ধ সংগটিত হয় ১৭৯৯ খৃস্টাব্দে। টিপু দেশী বিদেশী এ সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে অত্যন্ত বীরত্ব ও যোগ্যতার সাথে লড়েও জয়ী হতে পারলেন না। টিপুর শীরঙ্গপত্তম শত্রপক্ষ অধিকার করে। টিপুর সৈন্যগণ যেভাবে ক্রমপর্যায়ে তিনটি শক্তির সাথে লড়াই করেছিল এবং সবশেষে শহীদের মর্যাদায় মৃত্যুবরণ করেছিল তা দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের এক অলিখিত ঐতিহাসিক অধ্যায়।

যাহোক, সমস্ত সৈন্যের যখন পতন হয় তখন টিপু সুলতানকে ইংরেজরা চিৎকার করে আত্মসমর্পণ করতে বলে। আহত বীরের এক হাত আঘাতে অচল, অপর হাতেই যুদ্ধ করতে করতে ভাগ্যহারা টিপু ভারতেরই মাটিতে দেশের সুযোগ্য সন্তানের মত নিজের প্রাণদান করলেন- তবুও জীবন্ত বন্দী হতে ঘৃণাবোধ করেছিলেন।

বীর হায়দারের বীরপুত্র টিপুর বীরত্ব, বুদ্ধিমত্তা ও রাজনৈতিক জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও কেমন করে ধ্বংস হয়ে গেলেন। সে সম্বন্ধে Major B.D. Basu (1.M.S..]লিখিত Rise of the Christian Power in India নামক নির্ভরযোগ্য আকর গ্রন্থের The Second war with Tipu অধ্যায় দ্রষ্টব্য। এ পুস্তকেই লিখিত আছে টিপু সুলতানের বীরত্বের মেরুদণ্ড ভেঙে গিয়েছিল তাঁর দলের বেশ কিছু ফরাসী অফিসারদের বিশ্বাসঘাতকতায়। [পৃষ্ঠা ৩৩৪]

ইংরেজ টিপু সুলতানের মৃত্যুতে বুঝতে পারলে, তাদের পিটিয়ে তাড়াবার মত ক্ষমতা যে ভারতীয় বীরের ছিল, সে বীর আজ নিশ্চিহ্ন, সুতরাং ইংরেজদের ভবিষ্যত হল উজ্জ্বল। এ যুদ্ধের প্রধান নায়ক মিঃ মণিংটনকে টিপু সুলতানকে নিহত করার জন্য প্রধান বিচারপতি Sir John Anstruther ১৭৯৯ খৃস্টাব্দের ১৭ই মে যে চিঠি দিয়েছিলেন তা থেকে এটা প্রমাণ হয়। তিনি লিখেছিলেন, "It is with the most sincere satisfaction and hear felt that I congratulate you upon the most brilliant and glorious event which ever occured in our Indian history. (983 B.D. Basu!- ঐ পুস্তকের ৩৩২ পৃষ্ঠা)