hadith book logo

কিতাবুল ইলম

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২

ইলম অর্জনকারীরা তৃপ্ত হন না

ইলম বা জ্ঞান এমন একটি বিষয়, যার আহরণকারীরা যতই আহরণ করুক না কেন, তারা কখনো তৃপ্ত হয় না। বরং তারা আরো ইলম শিখার জন্য আগ্রহী থাকে। যেমন- সম্পদ আহরণকারীরা যতই সম্পদ লাভ করে ততই আরো সম্পদ আহরণের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে। হাদীসে এসেছে,

عَنِ الْحَسَنِ قَالَ : مَنْهُوْمَانِ لَا يَشْبَعَانِ , مَنْهُوْمٌ فِي الْعِلْمِ لَا يَشْبَعُ مِنْهُ , وَمَنْهُوْمٌ فِي الدُّنْيَا لَا يَشْبَعُ مِنْهَا , فَمَنْ تَكُنِ الْاٰخِرَةُ هَمَّه وَبَثَّه وَسَدَمَه يَكْفِي اللهُ ضَيْعَتَه وَيَجْعَلُ غِنَاهُ فِيْ قَلْبِه ، وَمَنْ تَكُنِ الدُّنْيَا هَمَّه وَبَثَّه وَسَدَمَه يُفْشِي اللهُ عَلَيْهِ ضَيْعَتَه وَيَجْعَلُ فَقْرَه بَيْنَ عَيْنَيْهِ ، ثُمَّ لَا يُصْبِحُ إِلَّا فَقِيْرًا ، وَلَا يُمْسِيْ إِلَّا فَقِيْرًا

হাসান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুই ধরনের লোভী ব্যক্তি কখনো তৃপ্ত হয় না : ১. ইলম অর্জনকারী, সে কখনো তৃপ্ত হয় না এবং ২. দুনিয়ার লোভী, সেও কখনো তৃপ্ত হয় না। সুতরাং যে ব্যক্তির আকাঙ্ক্ষা হবে পরকাল এবং তার সকল কাজ পরকালকেন্দ্রিক হবে, তার দুনিয়ার প্রয়োজনের জন্য আল্লাহ তা‘আলা যথেষ্ট হবেন এবং তাকে অমুখাপেক্ষী করে দেবেন। আর যার আকাঙ্ক্ষা হবে দুনিয়া এবং তার সকল প্রচেষ্টা দুনিয়াকেন্দ্রিক হবে, আল্লাহ তা‘আলা তার অভাবকে বিস্তৃত করে দেবেন এবং সে সবসময় মুখাপেক্ষী হয়ে থাকে। সুতরাং সে সকাল করে মুখাপেক্ষী অবস্থায় এবং সন্ধ্যাও করে মুখাপেক্ষী অবস্থায়। [সুনানে দারেমী, হা/৩৩১।]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : مَنْهُومَانِ لَا يَشْبَعَانِ طَالِبُ عِلْمٍ وَطَالِبُ دُنْيَا

ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। দুই ধরনের লোভী ব্যক্তি কখনো তৃপ্ত হয় না। (১) জ্ঞান অনুসন্ধানকারী ব্যক্তি, (২) দুনিয়া অনুসন্ধানকারী ব্যক্তি। [মুসনাদে দারেমী, হা/৩৪৬; মুসনাদুল বাযযার, হা/৪৮৮০; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১০২৩৫; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/২৬৬৪২; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা/২০৪৭৮; জামেউস সগীর, হা/১১৫৭০।]

উপরোক্ত হাদীসদ্বয় দ্বারা দ্বীনী জ্ঞানার্জনের প্রতি অনুপ্রেরণা জাগানো হয়েছে, পক্ষান্তরে দ্বীনের সকল হুকুম-আহকাম পালনের পর বৈধভাবে প্রয়োজন অনুপাতে দুনিয়া অর্জন করতে দোষ নেই।

জ্ঞানী ব্যক্তির সাথে ঈর্ষা করা বৈধ :

عَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ الله لَا حَسَدَ اِلَّا فِي اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ اٰتَاهُ اللّٰهُ مَالًا فَسَلَّطَهٗ عَلٰى هَلَكَتِه فِي الْحَقِّ وَرَجُلٌ اٰتَاهُ اللّٰهُ الْحِكْمَةَ فَهُوَ يَقْضِيْ بِهَا وَيُعَلِّمُهَا

ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, দুই ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো ব্যাপারে হিংসা করা ঠিক নয়। প্রথম ব্যক্তি- যাকে আল্লাহ তা‘আলা সম্পদ দান করেছেন, সাথে সাথে তা সত্যের পথে (ফী সাবীলিল্লাহ) বা সৎকাজে ব্যয় করার জন্য তাকে তাওফীকও দিয়েছেন। দ্বিতীয় ব্যক্তি- যাকে আললাহ তা‘আলা হিকমত অর্থাৎ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেছেন এবং সে এ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা যথোপযুক্তভাবে কাজে লাগায় এবং (লোকদেরকে) তা শিখায়। [সহীহ বুখারী, হা/৭৩; সহীহ মুসলিম, হা/১৯৩৩; ইবনে মাজাহ, হা/৪২০৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৬৫১; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৯০; মুসনাদে আবু ই‘আলা, হা/৫০৭৮; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৩৮; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৭৫; মুসনাদে আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক, হা/৬০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/১৯৪; মিশকাত, হা/২০২।]

এ হাদীসে حَسَدٌ দ্বারা হিংসা উদ্দেশ্য নয় বরং غِبْطَةٌ বা ঈর্ষা উদ্দেশ্য। গিবতা বলা হয় অন্যের সম্পদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা না করে অন্যের সম্পদের ন্যায় নিজেরও সম্পদ অর্জনের আকাঙ্ক্ষা করা। এটা জায়েয আছে।