hadith book logo

কিতাবুল ইলম

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

জ্ঞান মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ

নর-নারী নির্বিশেষে প্রত্যেকের জন্য জ্ঞানান্বেষণ করা অপরিহার্য। কেননা এছাড়া মানুষের পূর্ণতা লাভের জন্য অন্য কোন বিকল্প পথ নেই। সুতরাং এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা যে কত বেশি তা আর ব্যাখ্যা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿يُؤْتِى الْحِكْمَةَ مَنْ يَّشَآءُۚ وَمَنْ يُّؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ اُوْتِيَ خَيْرًا كَثِيْرًاؕ وَمَا يَذَّكَّرُ اِلَّاۤ اُولُو الْاَلْبَابِ﴾

আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে হিকমত দান করেন। আর যাকে হিকমত দান করা হয় সে প্রচুর কল্যাণ লাভ করে। (কিন্তু) শুধুমাত্র জ্ঞানী লোকেরাই উপদেশ গ্রহণ করে থাকে। (সূরা বাক্বারা- ২৬৯)

حِكْمَةٌ (হিকমত) অর্থ হচ্ছে, গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার শক্তি। হিকমত বা প্রজ্ঞা যার কাছে থাকবে সে কখনো শয়তানের দেখানো পথে চলবে না। বরং সে আল্লাহর দেখানো পথ অবলম্বন করবে।

জ্ঞান আল্লাহর একটি রহমত :

আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সৃষ্টি করে তাকে মনের ভাব প্রকাশ করার ক্ষমতা দান করেছেন। আর সমগ্র মানবজাতির হেদায়াতের জন্য তিনি বিশ্বনবী মুহাম্মাদ ﷺ এর উপর কুরআন নাযিল করেছেন। অতএব নিঃসনেদহে এটা বান্দার প্রতি তাঁর একটি অসীম করুণার নিদর্শন। এ প্রসঙ্গে কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে,

﴿اَلرَّحْمٰنُ -‐ عَلَّمَ الْقُرْاٰنَ ‐ خَلَقَ الْاِنْسَانَ – عَلَّمَهُ الْبَيَانَ﴾

পরম দয়ালু আল্লাহই শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন। তিনিই মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই তাকে কথা বলা শিখিয়েছেন। (সূরা আর রহমান : ১-৪)

জ্ঞানী ও মূর্খ ব্যক্তি সমান নয় :

যারা সঠিক জ্ঞানার্জন করে, কেবল তারাই সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারে। তারা অনেক অজানা বসত্মুকে জানতে পারে। আর যারা সঠিক জ্ঞানার্জন করে না, তারা এ থেকে বঞ্চিত হয়। কাজেই জ্ঞানী ও মূর্খ কখনো সমান হতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿اَمَّنْ هُوَ قَانِتٌ اٰنَآءَ اللَّيْلِ سَاجِدًا وَّقَآئِمًا يَّحْذَرُ الْاٰخِرَةَ وَيَرْجُوْا رَحْمَةَ رَبِّهٖؕ قُلْ هَلْ يَسْتَوِى الَّذِيْنَ يَعْلَمُوْنَ وَالَّذِيْنَ لَا يَعْلَمُوْنَؕ اِنَّمَا يَتَذَكَّرُ اُولُو الْاَلْبَابِ﴾

কাফিররা কি ঐ ব্যক্তির সমান যে ব্যক্তি রাতে সিজদারত অবস্থায় এবং দাঁড়িয়ে ইবাদাত করে, আখিরাতকে ভয় করে এবং তার প্রতিপালকের রহমতের আশা করে? বলো, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে? নিশ্চয় জ্ঞানী ব্যক্তিরাই উপদেশ গ্রহণ করে থাকে। (সূরা যুমার- ৯)

জ্ঞানীরা আল্লাহর সৃষ্টির রহস্য বুঝতে পারে :

যারা শিক্ষা অর্জন করে গভীর জ্ঞানের অধিকারী হয়, তাদের সম্মুখে সৃষ্টির রহস্যাবলির দ্বার উন্মোচিত হয়। একমাত্র বিদগ্ধ পন্ডিত ব্যক্তিরাই এর সন্ধান পেয়ে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা এ প্রসঙ্গে ঘোষণা করেছেন,

﴿اِنَّ فِيْ خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْاَ رْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَاٰيَاتٍ لِّاُولِى الْاَلْبَابِ﴾

নিশ্চয় আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টির মধ্যে এবং দিবস ও রাত্রির পরিবর্তনে জ্ঞানীদের জন্য রয়েছে স্পষ্ট নিদর্শন। (সূরা আলে ইমরান- ১৯০)

﴿وَمِنْ اٰيَاتِه خَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْاَ رْضِ وَاخْتِلَافُ اَلْسِنَتِكُمْ وَاَلْوَانِكُمْؕ اِنَّ فِيْ ذٰلِكَ لَاٰيَاتٍ لِّلْعَالِمِيْنَ﴾

আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের ভিন্নতা। নিশ্চয় এতে জ্ঞানীদের জন্য রয়েছে নিদর্শন। (সূরা রূম- ২২)

﴿فَتِلْكَ بُيُوْتُهُمْ خَاوِيَةً ۢبِمَا ظَلَمُوْاۤ اِنَّ فِيْ ذٰلِكَ لَاٰيَةً لِّقَوْمٍ يَّعْلَمُوْنَ﴾

এই তো তাদের ঘরবাড়ি, যা তাদের সীমালঙ্ঘনের কারণে জনশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। নিশ্চয় এতে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন। (সূরা নামল– ৫২)

﴿هُوَ الَّذِيْ جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَآءً وَّالْقَمَرَ نُوْرًا وَّقَدَّرَهٗ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوْا عَدَدَ السِّنِيْنَ وَالْحِسَابَؕ مَا خَلَقَ اللهُ ذٰلِكَ اِلَّا بِالْحَقِّۚ يُفَصِّلُ الْاٰيَاتِ لِقَوْمٍ يَّعْلَمُوْنَ﴾

তিনিই সূর্যকে দীপ্তমান ও চন্দ্রকে জ্যোতির্ময় করেছেন এবং এর (চন্দ্রের) কক্ষপথ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা বৎসর গণনা ও (সময়ের) হিসাব জানতে পার। আল্লাহ এটা নিরর্থক সৃষ্টি করেননি; তিনি এসব নিদর্শন জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য বিশদভাবে বর্ণনা করেন। (সূরা ইউনুস- ৫)

জ্ঞানীগণ আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষী :

কুরআন মাজীদ ও অন্যান্য আসমানী কিতাবসমূহে তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদ সম্পর্কে যে শাহাদাত বা সর্বশ্রেষ্ঠ সাক্ষ্য বর্ণিত হয়েছে, তাতে আল্লাহ তা‘আলা নিজেই এর একত্ববাদের সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। ফেরেশতামন্ডলীও এ সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাথে সাথে সর্বযুগের জ্ঞানীগণও সত্যনিষ্ঠভাবে এ সাক্ষ্য প্রদানে শরীক হয়েছেন। এ মর্মে আললাহ তা‘আলা বলেন,

﴿شَهِدَ اللهُ اَنَّهٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ وَالْمَلَآئِكَةُ وَاُولُو الْعِلْمِ قَآئِمًا ۢبِالْقِسْطِؕ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ﴾

আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তিনি ছাড়া প্রকৃত কোন মাবুদ নেই। (এ বিষয়ে আরো সাক্ষ্যদানকারী হচ্ছেন) ফেরেশতামন্ডলী ও জ্ঞানীগণ। তিনি ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত, তিনি ছাড়া কোন উপাস্য নেই। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। (সূরা আলে ইমরান- ১৮)

জ্ঞানার্জনের দু‘আ :

আললাহ তা‘আলা মানবজাতিকে জ্ঞানামেবষণের জন্য নানাভাবে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করার পর তাদেরকে জ্ঞান লাভের জন্য তার কাছে প্রার্থনা করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। তিনি বলেন,

﴿ رَبِّ زِدْنِىْ عِلْمًا﴾

হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন। (সূরা ত্বা-হা- ১১৪)