১
কিতাবুল ইলম
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯
ইলম প্রচারকারীর মর্যাদা
عَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ نَضَّرَ اللّٰهُ امْرَأً سَمِعَ مَقَالَتِي فَحَفِظَهَا وَوَعَاهَا وَأَدَّاهَا فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ غَيْرُ فَقِيهٍ وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلٰى مَنْ هُوَ أَفْقَه مِنْهُ ثَلاَثٌ لَا يُغِلُّ عَلَيْهِنَّ قَلْبُ مُسْلِمِ إِخْلَاصُ الْعَمَلِ لِلّٰهِ وَالنَّصِيْحَةُ لِلْمُسْلِمِيْنَ وَلُزُوْمُ جَمَاعَتِهِمْ فَإِنَّ دَعْوَتَهُمْ تُحِيْطُ مِنْ وَّرَائِهِمْ
ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল্লাহ সে ব্যক্তির মুখ উজ্জ্বল করুন, যে আমার কোন কথা শুনেছে, অতঃপর এ কথাকে স্মরণ রেখেছে ও সংরক্ষণ করেছে এবং যা শুনেছে হুবহু তা মানুষের নিকট পৌঁছে দিয়েছে। কারণ জ্ঞানের অনেক বাহক এমন আছে, যারা নিজের তুলনায় বড় জ্ঞানীর নিকট জ্ঞান বহন করে নিয়ে যায়। তিনটি বিষয়ে মুসলিমের অন্তর বিশ্বাসঘাতকতা (অবহেলা) করতে পারে না : (১) আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিষ্ঠার সাথে কাজ করা, (২) মুসলিমদের কল্যাণ কামনা করা এবং (৩) মুসলিমের জামা‘আতকে আঁকড়ে ধরা। কারণ মুসলিমদের দু‘আ বা আহবান তাদের পরবর্তী (মুসলিমদেরকেও) শামিল করে রাখে। [তিরমিযী, হা/২৬৫৮; ইবনে মাজাহ, হা/৩০৫৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩৩৭৪; মুসত্মাদরাকে হাকেম, হা/২৯৪; মু‘জামুল আওসাত, হা/৫১৭৯; মুসনাদে হুমাইদী, হা/৯৪; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৪০৪; মিশকাত, হা/২২৮।]
হাদীসের প্রথমাংশ থেকে বুঝা যায়, দ্বীনী জ্ঞান অর্জনের পর তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়াই মূল লক্ষ্য। অনেক জ্ঞানী এমন আছে, যারা নিজেদের অর্জিত জ্ঞান থেকে তেমন উপকৃত হতে পারে না। পক্ষান্তরে এমন অনেক ব্যক্তি আছে, যাদের কাছে জ্ঞান পৌঁছে দেয়া হলে, তারা সে জ্ঞান দ্বারা নিজেরাও উপকৃত হয় এবং যারা তার নিকট জ্ঞান পৌঁছে দিয়েছে, তারাও উপকৃত হয়। তারপর তাদের থেকে পরবর্তী লোকেরাও উপকৃত হয়।
হাদীসের শেষে এমন তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে, যার উপর একজন মুমিন ব্যক্তিকে সদা অটল থাকতে হবে। তিনটি বৈশিষ্ট্যের মাঝে তৃতীয় নম্বর বৈশিষ্ট্যে বলা হয়েছে, মুসলিমদের জামা‘আত বা দল আঁকড়ে ধরতে হবে। অতএব মুসলিমকে অন্যান্য মুসলিমের সাথে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক বিশ্বাসে, সৎ আমলে, সালাত আদায়ে, জুমু‘আর সালাত আদায়ে, দু’ঈদের সালাত আদায়ে এবং মুসলিম নেতাদের আনুগত্যে ও অন্যান্য বিষয়ে সামঞ্জস্য রেখে চলতে হবে। ফলে সে শয়তানের চক্রান্ত ও পথভ্রষ্টতা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে।
- عَنْ أَبِيْ أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ قَالَ ذُكِرَ لِرَسُوْلِ اللهِ رَجُلَانِ أَحَدُهُمَا عَابِدٌ وَالْاٰخَرُ عَالِمٌ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِيْ عَلٰى أَدْنَاكُمْ ثُمَّ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَه وَأَهْلَ السَّمٰوَاتِ وَالْأَرَضِ حَتَّى النَّمْلَةَ فِيْ جُحْرِهَا وَحَتَّى الْحُوتَ لَيُصَلُّوْنَ عَلٰى مُعَلِّمِ النَّاسِ الْخَيْرَ
আবু উমামা আল বাহেলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট দুই ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। এদের একজন ছিলেন আবিদ (ইবাদাতকারী), আর দ্বিতীয়জন ছিলেন আলেম (জ্ঞান অনুসন্ধানকারী)। তিনি বললেন, আবিদের উপর আলেমের মর্যাদা হলো যেমন আমার মর্যাদা তোমাদের একজন সাধারণ ব্যক্তির উপর। অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, আল্লাহ তা‘আলা, তাঁর ফেরেশতামন্ডলী এবং আকাশমন্ডলী ও জমিনের অধিবাসীরা, এমনকি পিঁপড়া তার গর্তে ও মাছ পর্যন্ত ইলম শিক্ষাকারীর জন্য দু‘আ করে। [তিরমিযী, হা/২৬৭৫; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৭৮৩৭; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৮১; দারেমী, ১/৯৭-৯৮; মিশকাত, হা/২১৩।]
এ হাদীসে দ্বীনী বিদ্যা শিক্ষাদানের প্রতি উৎসাহ দেয়া হয়েছে। হাদীস থেকে বুঝা যায় দ্বীনী বিদ্যা শিক্ষাদানকারীর মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। যার জন্য মানুষ, জিন, ফেরেশতা এমনকি গর্তের ক্ষুদ্র প্রাণী পিঁপড়া এবং সমুদ্রের অতল তলের মাছসহ সকল প্রাণী দু‘আ করে থাকে।
ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল্লাহ সে ব্যক্তির মুখ উজ্জ্বল করুন, যে আমার কোন কথা শুনেছে, অতঃপর এ কথাকে স্মরণ রেখেছে ও সংরক্ষণ করেছে এবং যা শুনেছে হুবহু তা মানুষের নিকট পৌঁছে দিয়েছে। কারণ জ্ঞানের অনেক বাহক এমন আছে, যারা নিজের তুলনায় বড় জ্ঞানীর নিকট জ্ঞান বহন করে নিয়ে যায়। তিনটি বিষয়ে মুসলিমের অন্তর বিশ্বাসঘাতকতা (অবহেলা) করতে পারে না : (১) আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিষ্ঠার সাথে কাজ করা, (২) মুসলিমদের কল্যাণ কামনা করা এবং (৩) মুসলিমের জামা‘আতকে আঁকড়ে ধরা। কারণ মুসলিমদের দু‘আ বা আহবান তাদের পরবর্তী (মুসলিমদেরকেও) শামিল করে রাখে। [তিরমিযী, হা/২৬৫৮; ইবনে মাজাহ, হা/৩০৫৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩৩৭৪; মুসত্মাদরাকে হাকেম, হা/২৯৪; মু‘জামুল আওসাত, হা/৫১৭৯; মুসনাদে হুমাইদী, হা/৯৪; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৪০৪; মিশকাত, হা/২২৮।]
হাদীসের প্রথমাংশ থেকে বুঝা যায়, দ্বীনী জ্ঞান অর্জনের পর তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়াই মূল লক্ষ্য। অনেক জ্ঞানী এমন আছে, যারা নিজেদের অর্জিত জ্ঞান থেকে তেমন উপকৃত হতে পারে না। পক্ষান্তরে এমন অনেক ব্যক্তি আছে, যাদের কাছে জ্ঞান পৌঁছে দেয়া হলে, তারা সে জ্ঞান দ্বারা নিজেরাও উপকৃত হয় এবং যারা তার নিকট জ্ঞান পৌঁছে দিয়েছে, তারাও উপকৃত হয়। তারপর তাদের থেকে পরবর্তী লোকেরাও উপকৃত হয়।
হাদীসের শেষে এমন তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে, যার উপর একজন মুমিন ব্যক্তিকে সদা অটল থাকতে হবে। তিনটি বৈশিষ্ট্যের মাঝে তৃতীয় নম্বর বৈশিষ্ট্যে বলা হয়েছে, মুসলিমদের জামা‘আত বা দল আঁকড়ে ধরতে হবে। অতএব মুসলিমকে অন্যান্য মুসলিমের সাথে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক বিশ্বাসে, সৎ আমলে, সালাত আদায়ে, জুমু‘আর সালাত আদায়ে, দু’ঈদের সালাত আদায়ে এবং মুসলিম নেতাদের আনুগত্যে ও অন্যান্য বিষয়ে সামঞ্জস্য রেখে চলতে হবে। ফলে সে শয়তানের চক্রান্ত ও পথভ্রষ্টতা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে।
- عَنْ أَبِيْ أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ قَالَ ذُكِرَ لِرَسُوْلِ اللهِ رَجُلَانِ أَحَدُهُمَا عَابِدٌ وَالْاٰخَرُ عَالِمٌ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ فَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِيْ عَلٰى أَدْنَاكُمْ ثُمَّ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَه وَأَهْلَ السَّمٰوَاتِ وَالْأَرَضِ حَتَّى النَّمْلَةَ فِيْ جُحْرِهَا وَحَتَّى الْحُوتَ لَيُصَلُّوْنَ عَلٰى مُعَلِّمِ النَّاسِ الْخَيْرَ
আবু উমামা আল বাহেলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট দুই ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। এদের একজন ছিলেন আবিদ (ইবাদাতকারী), আর দ্বিতীয়জন ছিলেন আলেম (জ্ঞান অনুসন্ধানকারী)। তিনি বললেন, আবিদের উপর আলেমের মর্যাদা হলো যেমন আমার মর্যাদা তোমাদের একজন সাধারণ ব্যক্তির উপর। অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, আল্লাহ তা‘আলা, তাঁর ফেরেশতামন্ডলী এবং আকাশমন্ডলী ও জমিনের অধিবাসীরা, এমনকি পিঁপড়া তার গর্তে ও মাছ পর্যন্ত ইলম শিক্ষাকারীর জন্য দু‘আ করে। [তিরমিযী, হা/২৬৭৫; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৭৮৩৭; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৮১; দারেমী, ১/৯৭-৯৮; মিশকাত, হা/২১৩।]
এ হাদীসে দ্বীনী বিদ্যা শিক্ষাদানের প্রতি উৎসাহ দেয়া হয়েছে। হাদীস থেকে বুঝা যায় দ্বীনী বিদ্যা শিক্ষাদানকারীর মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। যার জন্য মানুষ, জিন, ফেরেশতা এমনকি গর্তের ক্ষুদ্র প্রাণী পিঁপড়া এবং সমুদ্রের অতল তলের মাছসহ সকল প্রাণী দু‘আ করে থাকে।