hadith book logo

কিতাবুল ইলম

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫০

ঐক্যের ভিত্তি

যারা ইসলামকে ভালোবাসেন তারা সকলেই ঐক্য চান। কিন্তু ঐক্যের ভিত্তি কী? সেক্ষেত্রে পবিত্র কুরআনের নিম্নের আয়াতটিকে মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করে আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ قُلْ يَاۤ اَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا اِلٰى كَلِمَةٍ سَوَآءٍ ۢبَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ اَلَّا نَعْبُدَ اِلَّا اللهَ وَلَا نُشْرِكَ بِه شَيْئًا وَّلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا اَرْبَابًا مِّنْ دُوْنِ اللهِؕ فَاِنْ تَوَلَّوْا فَقُوْلُوا اشْهَدُوْا بِاَنَّا مُسْلِمُوْنَ ﴾

বলো, হে আহলে কিতাব! তোমরা এমন একটি কালিমার দিকে আসো, যা তোমাদের এবং আমাদের মধ্যে সমান। আর তা হলো, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত করব না এবং তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক স্থাপন করব না; আর আমাদের কেউ অপর কাউকে রব হিসেবে গ্রহণ করবে না। এরপরও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বলে দাও, তোমরা সাক্ষী থাকো যে, আমরা মুসলিম। (সূরা আলে ইমরান- ৬৪)

এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ঐক্যের মূলনীতি ঘোষণা করেছেন। আর তা হলো আকীদার ক্ষেত্রে শিরক না থাকা। আর যদি শিরক থাকে তাহলে তাদের সাথে ঐক্য হতে পারে না। এ বক্তব্যের সারনির্যাস হচ্ছে, এক আল্লাহকে ইলাহ্ ও রব বলে মেনে নাও। আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি, ক্ষমতা ও অধিকারে কাউকে শরীক করো না। আল্লাহর সামনে নিজেকে জবাবদিহি করতে হবে মনে করে আখিরাতের প্রতি ঈমান আনো। আল্লাহ তাঁর রাসূলদের ও কিতাবসমূহের মাধ্যমে যে মূলনীতি শিক্ষা দিয়েছেন সে অনুযায়ী জীবনযাপন করো। এগুলোই চিরকাল আসল দ্বীন হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে এবং এখনো যথার্থ দ্বীন বলতে এগুলোকেই বুঝায়। জন্মের প্রথম দিন থেকে প্রত্যেক মানুষকে এ দ্বীনই দেয়া হয়। পরবর্তীকালে বিভিন্ন যুগের লোকেরা তাদের নিজস্ব চিন্তা ও মানসিকতার ভ্রান্ত উদ্ভাবনী ক্ষমতার সাহায্যে অথবা নিজেদের প্রবৃত্তির প্রভাবে এ আসল দ্বীনকে বিকৃত করে বিভিন্ন প্রকার মতবাদ গড়ে তুলেছে। এ দ্বীনের মধ্যে তারা নতুন নতুন কথা মিশিয়ে দিয়েছে। নিজেদের কুসংস্কার, বিলাসিতা, আন্দাজ-অনুমান ও নিজেদের দার্শনিক চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে আকীদা বিশ্বাসে ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করেছে এবং কাটছাঁট করে তাকে পুরোপুরি বিকৃত করে দিয়েছে। অনেক নতুন বিষয় উদ্ভাবন করে তার বিধানসমূহের সাথে জুড়ে দিয়েছে। মনগড়া আইন রচনা করেছে। আইনের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে অযথা চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছে। ছোটখাটো বিষয়গুলো নিয়ে মতবিরোধ করার ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করেছে। গুরুত্বপূর্ণকে গুরুত্বহীন ও গুরুত্বহীনকে গুরুত্বপূর্ণ বানিয়ে দিয়েছে। যেসব নবী-রাসূল এ দ্বীন প্রচার করেছেন এবং যেসব মনীষীগণ এ দ্বীন প্রতিষ্ঠায় জীবনপাত করে গেছেন, তাদের কারো কারো প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা প্রকাশের ক্ষেত্রে অত্যাধিক বাড়াবাড়ি করেছে; আবার কারো কারো প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষের প্রকাশ ঘটিয়েছে এবং তাদের বিরোধিতা করেছে। এভাবে অসংখ্য ধর্ম ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটেই চলছে। এদের প্রত্যেকটি ধর্ম ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উদ্ভব মানবসমাজকে কলহ, বিবাদ ও পারস্পরিক সংঘর্ষে লিপ্ত করেছে। এভাবে মানবসমাজ বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। হাদীসে এসেছে,

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ وَإِنَّ بَنِىْ إِسْرَائِيْلَ تَفَرَّقَتْ عَلٰى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِيْنَ مِلَّةً وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِىْ عَلٰى ثَلَاثٍ وَسَبْعِيْنَ مِلَّةً كُلُّهُمْ فِى النَّارِ إِلَّا مِلَّةً وَاحِدَةً قَالُوْا وَمَنْ هِىَ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِىْ

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, বনী ইসরাঈলরা ৭২টি দলে বিভক্ত হয়েছিল। আর আমার উম্মত ৭৩টি দলে বিভক্ত হবে। আর একটি দল ছাড়া বাকি সবগুলোই জাহান্নামে যাবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন, আমি এবং আমার সাথিগণ যার উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছি তারা। [তিরমিযী, হা/২৬৪১; জামেউস সগীর, হা/৯৪৭৪; মিশকাত, হা/১৭১।]

সুতরাং যে ব্যক্তি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআন ও সহীহ হাদীসকেই মূল ভিত্তি হিসেবে ঠিক করে নেয়, সে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলাম বিভাজনে বিশ্বাস করে না। ইসলাম সর্বদা সকলকে এক কাতারে দেখতে চায়।

তাই আমাদের উচিত কুরআন ও সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে সংঘবদ্ধ থাকা। সকল মত তথা মানুষের বানানো মনগড়া পথ ছেড়ে আল্লাহর নবীর দেখানো পথে এসে গেলে ইসলামে আর কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকবে না।