hadith book logo

কিতাবুল ইলম

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪১

তাকলীদ করা যাবে না, ইত্তেবা করা যাবে

তাকলীদ বলতে বুঝায় কোন দলীল-প্রমাণের অনুসন্ধান ছাড়াই কারো মতামত গ্রহণ করা। আর ইত্তেবা হচ্ছে দলীল প্রমাণের ভিত্তিতে কারো মতামত গ্রহণ করা। এ দুটি জিনিসের মধ্যে বিরাট পার্থক্য রয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে, অন্ধ অনুসরণ। এভাবে কারো অন্ধ অনুসরণ করা ইসলামের দৃষ্টিতে সঠিক নয়। কেননা ইসলামী শরীয়ত দলীলের উপর প্রতিষ্ঠিত।

সুতরাং যে ক্ষেত্রে দলীল প্রমাণের উপর বিধান প্রতিষ্ঠিত পাওয়া যাবে সেখানে কেবল ইত্তেবা সাব্যসত্ম হবে। ইত্তেবা শব্দটি কুরআনে বর্ণিত একটি ইসলামী পারিভাষিক শব্দ। পরিভাষায় ইত্তেবা বলা হয়, রাসূলুলস্নাহ ﷺ ও সাহাবী (রাঃ) এর থেকে আগত বিষয়কে অনুসরণ করা।

ইত্তেবা করা শুধু জায়েযই নয়, বরং এ ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। আর এটা শুধু আমাদের নবীর ক্ষেত্রে নয়, বরং পূর্ববর্তী নবীরাও ইত্তেবা করেছিলেন। দ্বীনের অনুসরণের ক্ষেত্রে ইউসুফ (আঃ) তার পূর্বপুরুষদের ইত্তেবা করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে কুরআন মাজীদে এসেছে,

﴿وَاتَّبَعْتُ مِلَّةَ اٰبَآئِىْۤ اِبْرَاهِيْمَ وَاِسْحَاقَ وَيَعْقُوْبَ﴾

আমি আমার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম, ইসহাক এবং ইয়াকূবের মতবাদ অনুসরণ করি। (সূরা ইউসুফু ৩৮)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَاتَّبِعْ سَبِيْلَ مَنْ اَنَابَ اِلَيَّ ثُمَّ اِلَيَّ﴾

যে আমার অভিমুখী হয়েছে তার পথ অনুসরণ করবে। (সূরা লুক্বমান- ১৫)

অর্থাৎ যারা আল্লাহ অভিমুখী হয়েছে এখানে তাদের অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

ওহীভিত্তিক আমলই ইত্তেবা। কুরআন মাজীদে এসেছে,

﴿اِتَّبِعْ مَاۤ اُوْحِيَ اِلَيْكَ مِنْ رَّبِّكَۚ لَا ۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ وَاَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِيْنَ﴾

তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে তোমার প্রতি যা ওহী হয় তুমি তারই অনুসরণ করো; (কেননা) তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নেই। আর তুমি মুশরিকদের হতে মুখ ফিরিয়ে নাও। (সূরা আনআম- ১০৬)