১
কিতাবুল ইলম
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৪
সঠিক পথ পাওয়ার উপায়
সঠিক পথ পাওয়ার জন্য কেবল আকাঙ্ক্ষা থাকলেই হবে না, বরং সে পথ অনুসন্ধান করতে হবে এবং সকল উপায় উপকরণ অবলম্বন করতে হবে। যেমন- দুনিয়াতে আমরা দেখি যে, কেউ যদি ডাক্তার হতে চায় তবে সে ইচ্ছা করলেই ডাক্তার হতে পারে না। এজন্য তাকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে হয় এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তারদের থেকে শিক্ষা অর্জন করতে হয়। তারপর চিকিৎসার যাবতীয় উপায়-উপকরণের ব্যবহার শিখতে হয়। তারপর সে রোগীর চিকিৎসা করতে পারে। অনুরূপভাবে কেউ যদি আল্লাহর সঠিক পথ পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে এবং সঠিক পথ পাওয়ার যত মাধ্যম রয়েছে যেমন- কুরআন-সুন্নার জ্ঞান অর্জন করা, সঠিক আকীদা সম্পন্ন আলেম-উলামাদের থেকে দ্বীনের বিষয়ে পরামর্শ নেয়া, আল্লাহর যাবতীয় আদেশ-নিষেধ মেনে চলা ইত্যাদি অবলম্বন করলে আল্লাহ তা‘আলা বান্দাকে সঠিক পথ দেখাবেন। এ ওয়াদা আল্লাহ তা‘আলা নিজেই করেছেন। যেমন, কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে,
﴿وَالَّذِيْنَ جَاهَدُوْا فِيْنَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِيْنَ﴾
আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথসমূহে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথেই আছেন। (সূরা আনকাবূত- ৬৯)
এ আয়াতে আমার পথসমূহ বলতে ইবাদাতের বিভিন্ন প্রকার যথা সালাত, সিয়াম, হজ্জ, যাকাত, ঈমান, ইসলাম, ইহসান, জিহাদ, কিতাল ইত্যাদিকে বুঝানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে গ্রহণযোগ্য তাফসীরের কিতাবসমূহ থেকে কিছু উদ্ধৃতি পেশ করা হলো :
তাফসীরে বাগাভীতে উল্লেখ করা হয়েছে, যারা আমার দ্বীনের সাহায্যার্থে মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তাদেরকে অবশ্যই আমি আমার পথসমূহ দেখাব অর্থাৎ তারা যে বিষয়ে যুদ্ধ করছে তার উপর অটল রাখব অথবা অবশ্যই তাদের হেদায়াত বৃদ্ধি করে দেব; যেভাবে অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, আর যারা হেদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে আল্লাহ তাদের হেদায়াত আরো বৃদ্ধি করেন। অথবা আমি তাদেরকে সঠিক পথ চেনার তাওফীক দান করব।
আইসারুত তাফসীর কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যারা আকীদা-বিশ্বাসকে বিশুদ্ধ করার জন্য, আত্মাকে শুদ্ধ করার জন্য ও উত্তম চরিত্র গঠনের উদ্দেশ্যে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে; অতঃপর ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত সকল কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার দিকে পথপ্রদর্শন করব অর্থাৎ আমার মুহাববত ও সমত্মুষ্টি অর্জনের সঠিক পথ চিনার তাওফীক দান করব এবং তা অর্জনের জন্য সাহায্য করব।
তাফসীরে রহুল মা‘আনীতে উল্লেখ করা হয়েছে, যারা শুধুমাত্র আমার পথে আমাকে সমত্মুষ্ট করার জন্য সকল প্রকার প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে চলার ও আমার পর্যমত্ম পৌঁছানোর রাসত্মাসমূহ বাতলে দেব। অর্থাৎ সৎপথে চলা ও ভালো কাজ করার তাওফীক দান করব। যেমন আল্লাহ তা‘আলা অন্য আয়াতে বলেন, আর যারা হেদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে আল্লাহ তাদের হেদায়াত প্রাপ্তি আরো বৃদ্ধি করে দেন এবং তাদেরকে তাকওয়া প্রদান করেন।
তাফসীরে ইবনে আববাস- এ উল্লেখ করা হয়েছে, যারা নিজের ইলম অর্থাৎ জ্ঞান অনুযায়ী আমল করে আমি অবশ্যই তাদের অজানাকে জানিয়ে দেব। অথবা অবশ্যই তাদের ঈমানের দৃঢ়তা, ঈমানের স্বাদ-আস্বাদন করানোর মাধ্যমে সম্মান করব। অথবা আমার আনুগত্যের তাওফীক দান করব।
﴿وَالَّذِيْنَ جَاهَدُوْا فِيْنَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِيْنَ﴾
আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথসমূহে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথেই আছেন। (সূরা আনকাবূত- ৬৯)
এ আয়াতে আমার পথসমূহ বলতে ইবাদাতের বিভিন্ন প্রকার যথা সালাত, সিয়াম, হজ্জ, যাকাত, ঈমান, ইসলাম, ইহসান, জিহাদ, কিতাল ইত্যাদিকে বুঝানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে গ্রহণযোগ্য তাফসীরের কিতাবসমূহ থেকে কিছু উদ্ধৃতি পেশ করা হলো :
তাফসীরে বাগাভীতে উল্লেখ করা হয়েছে, যারা আমার দ্বীনের সাহায্যার্থে মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তাদেরকে অবশ্যই আমি আমার পথসমূহ দেখাব অর্থাৎ তারা যে বিষয়ে যুদ্ধ করছে তার উপর অটল রাখব অথবা অবশ্যই তাদের হেদায়াত বৃদ্ধি করে দেব; যেভাবে অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, আর যারা হেদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে আল্লাহ তাদের হেদায়াত আরো বৃদ্ধি করেন। অথবা আমি তাদেরকে সঠিক পথ চেনার তাওফীক দান করব।
আইসারুত তাফসীর কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যারা আকীদা-বিশ্বাসকে বিশুদ্ধ করার জন্য, আত্মাকে শুদ্ধ করার জন্য ও উত্তম চরিত্র গঠনের উদ্দেশ্যে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে; অতঃপর ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত সকল কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার দিকে পথপ্রদর্শন করব অর্থাৎ আমার মুহাববত ও সমত্মুষ্টি অর্জনের সঠিক পথ চিনার তাওফীক দান করব এবং তা অর্জনের জন্য সাহায্য করব।
তাফসীরে রহুল মা‘আনীতে উল্লেখ করা হয়েছে, যারা শুধুমাত্র আমার পথে আমাকে সমত্মুষ্ট করার জন্য সকল প্রকার প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে চলার ও আমার পর্যমত্ম পৌঁছানোর রাসত্মাসমূহ বাতলে দেব। অর্থাৎ সৎপথে চলা ও ভালো কাজ করার তাওফীক দান করব। যেমন আল্লাহ তা‘আলা অন্য আয়াতে বলেন, আর যারা হেদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে আল্লাহ তাদের হেদায়াত প্রাপ্তি আরো বৃদ্ধি করে দেন এবং তাদেরকে তাকওয়া প্রদান করেন।
তাফসীরে ইবনে আববাস- এ উল্লেখ করা হয়েছে, যারা নিজের ইলম অর্থাৎ জ্ঞান অনুযায়ী আমল করে আমি অবশ্যই তাদের অজানাকে জানিয়ে দেব। অথবা অবশ্যই তাদের ঈমানের দৃঢ়তা, ঈমানের স্বাদ-আস্বাদন করানোর মাধ্যমে সম্মান করব। অথবা আমার আনুগত্যের তাওফীক দান করব।