১
কিতাবুল ইলম
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৪
মাযহাবের অন্ধ অনুসরণ ও অবনতি
তাকলীদ বা মাযহাবের অন্ধ অনুসরণ ও দলাদলির এই চরম অবক্ষয়ের কারণে সব ধরনের ইজতিহাদ পরিত্যাজ্য হয় এবং মাযহাবগুলো সম্পূর্ণ পৃথক পৃথক ধর্মীয় গোষ্ঠীরূপে আত্মপ্রকাশ করে।
বিশেষজ্ঞগণ সব ধরনের ইজতিহাদ পরিত্যাগ করেন। এমনকি ভবিষ্যতে যাতে আর কেউ ইজতিহাদ না করে সেজন্য সর্বসম্মতিক্রমে একটি আইন জারি করেন। তারা যুক্তি উপস্থাপন করেছেন যে, ইতিমধ্যে সম্ভাব্য সকল সমস্যার সমাধান বের করা হয়ে গেছে। অতএব এখন নতুন কোন ইজতিহাদের প্রয়োজন নেই। এই পদক্ষেপের ফলে ইলম চর্চার ক্ষেত্রে একটি নতুন ধারণা জন্ম নেয়। আর তা হলো, কোন ব্যক্তির ইলম চর্চা বৈধ হতে হলে তাকে অবশ্যই চারটি মাযহাবের যে কোন একটির অনুসরণ করতে হবে।
সময় পরিক্রমায় এ ধারণাটি সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞ মহল- উভয় শ্রেণির মধ্যেই বদ্ধমূল হয়ে যায়। এর ফলে গোটা ইসলামী জীবন ব্যবস্থা বিদ্যমান চারটি মাযহাবের মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রত্যেকটি মাযহাবকে ঐশীভাবে নির্দেশিত ইসলামেরই এক একটি রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হতে থাকে। এসব মাযহাবের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাপক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এদের সবগুলোকেই সম্পূর্ণ সঠিক হিসেবে ধরে নেয়া হয়। এমনকি এ প্রতিষ্ঠিত চারটি মাযহাবের বাইরে যাওয়াকে ধর্মত্যাগের সমতুল্য অপরাধ মনে করা হয়।
কেউ মাযহাব মানতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ধর্মত্যাগী হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো। এ পর্যায়ের অতি সংরক্ষণশীল আলেমগণ আরো একধাপ এগিয়ে রায় দিয়েছিলেন যে, নিজ মাযহাব পরিবর্তন করে অন্য মাযহাবে প্রবেশ করার দায়ে কোন ব্যক্তি ধরা পড়লে স্থানীয় বিচারকের ফায়সালা অনুযায়ী তিনি তাকে যে কোন ধরনের শাসিত্ম দিতে পারেন।
তাকলীদ বা অন্ধ অনুসরণ ইত্তেবা তথা যুক্তিসঙ্গত অনুসরণ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বসত্মুত প্রথম যুগের আলেমদের ব্যাখ্যাগুলোকে যথাযথভাবে অনুসরণ করার ফলেই ইসলামের বাণী এখন পর্যমত্ম অবিকৃত রয়েছে। কারণ, প্রথম দিকের আলেমদের ব্যাখ্যার ভিত্তি ছিল রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রতি অবতীর্ণ ওহী এবং তার জীবন পদ্ধতি। তিনি নিজেই বলেছেন- সর্বোত্তম প্রজন্ম তার প্রজন্ম, তারপর তার পরবর্তী প্রজন্ম এবং তারপর তার পরের প্রজন্ম। [সহীহ বুখারী, হা/৩৬৫০; সহীহ মুসলিম, হা/৬৬৩২-৩৬; আবু দাউদ, হা/৪৬৫৯; তিরমিযী, হা/২২২২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭১৩২; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৬৭২৯; মুসনাদুল বাযযার, হা/৯৫৩৩; জামেউস সগীর, হা/৫৬১২; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৮৩৯; মিশকাত, হা/৬০০১।]
তবে রাসূলুল্লাহ ﷺ ছাড়া অন্য কারো সিদ্ধামত্মই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তাই যাচাই-বাছাই ব্যতীত কারো সিদ্ধামত্ম অন্ধভাবে অনুসরণ করা উচিত নয়। স্পষ্ট ভুল দেখা সত্ত্বেও অন্ধভাবে বিশেষ কোন মাযহাবের মতকে অনুসরণ করা কখনই সঠিক হতে পারে না।
বিশেষজ্ঞগণ সব ধরনের ইজতিহাদ পরিত্যাগ করেন। এমনকি ভবিষ্যতে যাতে আর কেউ ইজতিহাদ না করে সেজন্য সর্বসম্মতিক্রমে একটি আইন জারি করেন। তারা যুক্তি উপস্থাপন করেছেন যে, ইতিমধ্যে সম্ভাব্য সকল সমস্যার সমাধান বের করা হয়ে গেছে। অতএব এখন নতুন কোন ইজতিহাদের প্রয়োজন নেই। এই পদক্ষেপের ফলে ইলম চর্চার ক্ষেত্রে একটি নতুন ধারণা জন্ম নেয়। আর তা হলো, কোন ব্যক্তির ইলম চর্চা বৈধ হতে হলে তাকে অবশ্যই চারটি মাযহাবের যে কোন একটির অনুসরণ করতে হবে।
সময় পরিক্রমায় এ ধারণাটি সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞ মহল- উভয় শ্রেণির মধ্যেই বদ্ধমূল হয়ে যায়। এর ফলে গোটা ইসলামী জীবন ব্যবস্থা বিদ্যমান চারটি মাযহাবের মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রত্যেকটি মাযহাবকে ঐশীভাবে নির্দেশিত ইসলামেরই এক একটি রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হতে থাকে। এসব মাযহাবের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাপক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এদের সবগুলোকেই সম্পূর্ণ সঠিক হিসেবে ধরে নেয়া হয়। এমনকি এ প্রতিষ্ঠিত চারটি মাযহাবের বাইরে যাওয়াকে ধর্মত্যাগের সমতুল্য অপরাধ মনে করা হয়।
কেউ মাযহাব মানতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ধর্মত্যাগী হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো। এ পর্যায়ের অতি সংরক্ষণশীল আলেমগণ আরো একধাপ এগিয়ে রায় দিয়েছিলেন যে, নিজ মাযহাব পরিবর্তন করে অন্য মাযহাবে প্রবেশ করার দায়ে কোন ব্যক্তি ধরা পড়লে স্থানীয় বিচারকের ফায়সালা অনুযায়ী তিনি তাকে যে কোন ধরনের শাসিত্ম দিতে পারেন।
তাকলীদ বা অন্ধ অনুসরণ ইত্তেবা তথা যুক্তিসঙ্গত অনুসরণ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বসত্মুত প্রথম যুগের আলেমদের ব্যাখ্যাগুলোকে যথাযথভাবে অনুসরণ করার ফলেই ইসলামের বাণী এখন পর্যমত্ম অবিকৃত রয়েছে। কারণ, প্রথম দিকের আলেমদের ব্যাখ্যার ভিত্তি ছিল রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রতি অবতীর্ণ ওহী এবং তার জীবন পদ্ধতি। তিনি নিজেই বলেছেন- সর্বোত্তম প্রজন্ম তার প্রজন্ম, তারপর তার পরবর্তী প্রজন্ম এবং তারপর তার পরের প্রজন্ম। [সহীহ বুখারী, হা/৩৬৫০; সহীহ মুসলিম, হা/৬৬৩২-৩৬; আবু দাউদ, হা/৪৬৫৯; তিরমিযী, হা/২২২২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭১৩২; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৬৭২৯; মুসনাদুল বাযযার, হা/৯৫৩৩; জামেউস সগীর, হা/৫৬১২; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৮৩৯; মিশকাত, হা/৬০০১।]
তবে রাসূলুল্লাহ ﷺ ছাড়া অন্য কারো সিদ্ধামত্মই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তাই যাচাই-বাছাই ব্যতীত কারো সিদ্ধামত্ম অন্ধভাবে অনুসরণ করা উচিত নয়। স্পষ্ট ভুল দেখা সত্ত্বেও অন্ধভাবে বিশেষ কোন মাযহাবের মতকে অনুসরণ করা কখনই সঠিক হতে পারে না।