১
কিতাবুল ইলম
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৫
হকের উপর প্রতিষ্ঠিত কোন দল বর্তমানে আছে কি
আল্লাহর নবীর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী কিয়ামত পর্যমত্ম একদল লোক হকের উপরে থাকার কথা রয়েছে। যেহেতু এই ভবিষ্যদ্বাণী রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, সেহেতু এ কথার সত্যতার মধ্যে কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়। সুতরাং সঠিক দল বা হকের উপর প্রতিষ্ঠিত দল অবশ্যই পৃথিবীতে রয়েছে। হাদীসে এসেছে,
عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ : لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِيْ مَنْصُورِيْنَ ، لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ
মুআ‘বিয়া ইবনে কুররা (রহ.) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমার উম্মতের একটি দল কিয়ামত পর্যমত্ম সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে থাকবে, তাদের বিরোধীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হা/৬; তিরমিযী, হা/২১৯২; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৬১; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/১১৭২; জামেউস সগীর, হা/১৩২৪৮; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৪০৩; মিশকাত, হা/৬২৮৩।]
এছাড়াও আরো অনেক হাদীসে বলা হয়েছে যে, কিয়ামত পর্যমত্ম একটি দল আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে থাকবে। তারা কাউকে পরোয়া করবে না।
মুহাদ্দিসীনগণ এই দলটিকে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন।
ইমাম বুখারী বলেন :
وَهُمْ أَهْلُ الْعِلْمِ
এরা হলেন ‘আহলুল ইলম’ অর্থাৎ উলামায়ে কেরাম। [সহীহ বুখারী, ‘‘আমার উম্মতের মধ্যে সর্বদা একটি দল হকের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে যুদ্ধ করবে’’ নামক অধ্যায়।]
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন :
إِنْ لَمْ يَكُوْنُوْا أَهْلَ الْحَدِيْثِ فَلَا أَدْرِيْ مَنْ هُمْ وَقَالَ الْقَاضِيْ عِيَاضُ أَرَادَ أَحْمَدُ أَهْلَ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ وَمَنْ يَّعْتَقِدُ مَذْهَبَ أَهْلِ الْحَدِيْثِ
এরা যদি হাদীসের অনুসারীরা না হয় তাহলে এরা কারা তা আমি জানি না।’’ ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের বক্তব্যের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাজী ইয়াজ (রহ.) বলেন, ‘‘ইমাম আহমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এবং যারা হাদীসের অনুসারীদের মতানুযায়ী আকীদা পোষণ করে। [ফাতহুল বারি, ১/১৬৪।]
ইমাম নববী বলেন :
قُلْتُ وَيَحْتَمِلُ أَنَّ هٰذِهِ الطَّائِفَةَ مُتَفَرِّقَةٌ بَيْنَ أَنْوَاعِ الْمُؤْمِنِيْنَ مِنْهُمْ شُجْعَانٌ مُقَاتِلُوْنَ وَمِنْهُمْ فُقَهَاءُ وَمِنْهُمْ مُحَدِّثُوْنَ وَمِنْهُمْ زُهَّادٌ وَاٰمِرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَنَاهُوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَمِنْهُمْ أَهْلُ أَنْوَاعٍ أُخْرٰى مِنَ الْخَيْرِ وَلَا يَلْزَمُ أَنْ يَّكُوْنُوْا مُجْتَمِعِيْنَ بَلْ قَدْ يَكُوْنُوْنَ مُتَفَرِّقِيْنَ فِى أَقْطَارِ الْأَرْضِ
এটা হতে পারে যে, ইসলামের বিভিন্ন শাখার মধ্যে এই দল ছড়িয়ে আছে। তাদের মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী যোদ্ধা, ন্যায়বিচারকগণ, হাদীস বিশারদগণ। আরো রয়েছে এমন লোকেরা যারা গভীর ইবাদাতে মগ্ন এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে বিরত রাখার জন্য নিজেদেরকে পার্থিব জীবনের সামগ্রী থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে এবং তাদের মাঝে অন্যান্য ভালো প্রকৃতির মানুষও রয়েছে। আর এটা আবশ্যক নয় যে, তাদেরকে একসাথে থাকতে হবে, বরং হতে পারে যে, তারা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়েও থাকবে। [শরহে নববী আলাল মুসলিম, ১৩/৬৭ পৃঃ।]
হকের উপর প্রতিষ্ঠিত দলের বিশেষ লক্ষণ :
হাদীসে এই দলটির বিশেষ একটি পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তা হলো তারা ‘যুদ্ধ’ করবে। এ মর্মে হাদীসে এসেছে,
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ عَنِ النَّبِىِّ - - أَنَّهٗ قَالَ : لَنْ يَبْرَحَ هٰذَا الدِّيْنُ قَائِمًا يُقَاتِلُ عَلَيْهِ عِصَابَةٌ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ حَتّٰى تَقُوْمَ السَّاعَةُ
জাবির বিন সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী ﷺ হতে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, এই দ্বীন কিয়ামত পর্যমত্ম প্রতিষ্ঠিত থাকবে, মুসলিমদের একটি দল সর্বদা দ্বীনের পথে যুদ্ধ করতে থাকবে। [সহীহ মুসলিম, হা/৫০৬৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১০২৩; মুসত্মাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/৬০৩৫; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৮৯৮; শারহুস সুন্নাহ, হা/৪০১২; জামেউস সগীর, হা/৯৩৫১, ৩৮০১।]
এ হাদীস থেকে পরিষ্কারভাবে বুঝা যায় যে, যদিও ইসলামের বিভিন্ন শাখায় বিভিন্ন শ্রেণির লোকেরা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন এবং যাবেন, সেই হিসেবে তারা নাজাতপ্রাপ্ত দলের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে পরকালে নাজাতপ্রাপ্তও হবেন। কিন্তু ‘আত তায়েফাতুল মানসুরাহ’ দ্বারা তাদেরকে বুঝানো হয়েছে, যারা আল্লাহর রাসত্মায় যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।
এ মর্মে হাদীসে আরো এসেছে,
حَدَّثَنَا يَزِيْدُ بْنُ الْأَصَمِّ قَالَ سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِىْ سُفْيَانَ ذَكَرَ حَدِيْثًا رَوَاهُ عَنِ النَّبِىِّ لَمْ أَسْمَعْهُ رَوٰى عَنِ النَّبِىِّ - - عَلٰى مِنْبَرِه حَدِيْثًا غَيْرَه قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ - : مَنْ يُّرِدِ اللّٰهُ بِه خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِى الدِّيْنِ وَلَا تَزَالُ عِصَابَةٌ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ يُقَاتِلُوْنَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِيْنَ عَلٰى مَنْ نَاوَأَهُمْ إِلٰى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
ইয়াযীদ ইবনে আসাম (রহ.) বলেন, আমি মু‘আবিয়া ইবনে আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) কে এমন একটি হাদীস নবী ﷺ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যা ছাড়া নবী ﷺ এর বরাতে অন্য কোন হাদীস মিম্বারের উপর থেকে বলতে তাঁকে আমি শুনিনি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞান দিয়ে থাকেন। আর মুসলিমদের একটি দল সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে লড়াই করবে। যারা তাদের প্রতি বিরূপ ভাব পোষণ করবে তাদের উপর তারা কিয়ামত পর্যমত্ম বিজয়ী থাকবে। [সহীহ মুসলিম, হা/৫০৬৫; মুসত্মাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/৬০৪১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৮৯৫।]
অপর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ --: لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِىْ يُقَاتِلُوْنَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِيْنَ عَلٰى مَنْ نَاوَأَهُمْ حَتّٰى يُقَاتِلَ اٰخِرُهُمُ الْمَسِيْحَ الدَّجَّالَ
ইমরান বিন হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে একটি দল সর্বদা হকের পক্ষে যুদ্ধ করতে থাকবে। যারা তাদের বিরোধীদের উপর বিজয়ী থাকবে। তাদেরই সর্বশেষ দলটি মাসিহে দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। [আবু দাউদ, হা/২৪৮৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৯৯৩৪; মুসত্মাদরাকে হাকেম, হা/২৩৯২; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৪৬৪৮; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৯৫৯; জামেউস সগীর, হা/১৩২৫০; মিশকাত, হা/৩৮১৯।]
অপর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,
عَنِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ يَقُوْلُ سَمِعْتُ النَّبِىَّ - - يَقُوْلُ : لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِىْ يُقَاتِلُوْنَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِيْنَ إِلٰى يَوْمِ الْقِيَامَةِ - قَالَ - فَيَنْزِلُ عِيْسَى ابْنُ مَرْيَمَ - فَيَقُوْلُ أَمِيْرُهُمْ تَعَالَ صَلِّ لَنَا . فَيَقُوْلُ لَا . إِنَّ بَعْضَكُمْ عَلٰى بَعْضٍ أُمَرَاءُ . تَكْرِمَةَ اللهِ هٰذِهِ الْأُمَّةَ
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমার উম্মতের একটি দল হকের উপর যুদ্ধ করতে থাকবে, কিয়ামত পর্যমত্ম তারা প্রতিষ্ঠিত থাকবে। অতঃপর ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) অবতীর্ণ হবেন। মুসলিমদের আমীর বলবেন, সামনে আসুন এবং ইমামতি করুন। ঈসা (আঃ) বলবেন, না! বরং তোমরা একে অপরের ইমাম হবে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এ উম্মতের জন্য সম্মানস্বরূপ। [সহীহ মুসলিম, হা/৪১২; বায়হাকী, হা/১৮৩৯৬; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৬৮১৯; মুসত্মাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/২৩৫; মুসনাদে উমর ইবনে খাত্তাব, হা/১১৬৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪৭৬২; মু‘জামুল আওসাত, হা/৯০৭৮।]
উপরোক্ত হাদীসগুলো থেকে পরিষ্কারভাবে ‘আত তায়েফাতুল মানসুরাহ’ তথা সাহায্যপ্রাপ্ত দলের একটি বিশেষ পরিচয় পাওয়া যায়। আর তা হচ্ছে, তারা যুদ্ধ করবে এবং এরাই শেষ পর্যমত্ম ঈসা (আঃ) এর সঙ্গে মিলিত হয়ে দাজ্জালকে হত্যা করবে।
عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ : لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِيْ مَنْصُورِيْنَ ، لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ
মুআ‘বিয়া ইবনে কুররা (রহ.) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমার উম্মতের একটি দল কিয়ামত পর্যমত্ম সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে থাকবে, তাদের বিরোধীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হা/৬; তিরমিযী, হা/২১৯২; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৬১; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/১১৭২; জামেউস সগীর, হা/১৩২৪৮; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৪০৩; মিশকাত, হা/৬২৮৩।]
এছাড়াও আরো অনেক হাদীসে বলা হয়েছে যে, কিয়ামত পর্যমত্ম একটি দল আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে থাকবে। তারা কাউকে পরোয়া করবে না।
মুহাদ্দিসীনগণ এই দলটিকে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন।
ইমাম বুখারী বলেন :
وَهُمْ أَهْلُ الْعِلْمِ
এরা হলেন ‘আহলুল ইলম’ অর্থাৎ উলামায়ে কেরাম। [সহীহ বুখারী, ‘‘আমার উম্মতের মধ্যে সর্বদা একটি দল হকের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে যুদ্ধ করবে’’ নামক অধ্যায়।]
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন :
إِنْ لَمْ يَكُوْنُوْا أَهْلَ الْحَدِيْثِ فَلَا أَدْرِيْ مَنْ هُمْ وَقَالَ الْقَاضِيْ عِيَاضُ أَرَادَ أَحْمَدُ أَهْلَ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ وَمَنْ يَّعْتَقِدُ مَذْهَبَ أَهْلِ الْحَدِيْثِ
এরা যদি হাদীসের অনুসারীরা না হয় তাহলে এরা কারা তা আমি জানি না।’’ ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের বক্তব্যের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাজী ইয়াজ (রহ.) বলেন, ‘‘ইমাম আহমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এবং যারা হাদীসের অনুসারীদের মতানুযায়ী আকীদা পোষণ করে। [ফাতহুল বারি, ১/১৬৪।]
ইমাম নববী বলেন :
قُلْتُ وَيَحْتَمِلُ أَنَّ هٰذِهِ الطَّائِفَةَ مُتَفَرِّقَةٌ بَيْنَ أَنْوَاعِ الْمُؤْمِنِيْنَ مِنْهُمْ شُجْعَانٌ مُقَاتِلُوْنَ وَمِنْهُمْ فُقَهَاءُ وَمِنْهُمْ مُحَدِّثُوْنَ وَمِنْهُمْ زُهَّادٌ وَاٰمِرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَنَاهُوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَمِنْهُمْ أَهْلُ أَنْوَاعٍ أُخْرٰى مِنَ الْخَيْرِ وَلَا يَلْزَمُ أَنْ يَّكُوْنُوْا مُجْتَمِعِيْنَ بَلْ قَدْ يَكُوْنُوْنَ مُتَفَرِّقِيْنَ فِى أَقْطَارِ الْأَرْضِ
এটা হতে পারে যে, ইসলামের বিভিন্ন শাখার মধ্যে এই দল ছড়িয়ে আছে। তাদের মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী যোদ্ধা, ন্যায়বিচারকগণ, হাদীস বিশারদগণ। আরো রয়েছে এমন লোকেরা যারা গভীর ইবাদাতে মগ্ন এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে বিরত রাখার জন্য নিজেদেরকে পার্থিব জীবনের সামগ্রী থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে এবং তাদের মাঝে অন্যান্য ভালো প্রকৃতির মানুষও রয়েছে। আর এটা আবশ্যক নয় যে, তাদেরকে একসাথে থাকতে হবে, বরং হতে পারে যে, তারা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়েও থাকবে। [শরহে নববী আলাল মুসলিম, ১৩/৬৭ পৃঃ।]
হকের উপর প্রতিষ্ঠিত দলের বিশেষ লক্ষণ :
হাদীসে এই দলটির বিশেষ একটি পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তা হলো তারা ‘যুদ্ধ’ করবে। এ মর্মে হাদীসে এসেছে,
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ عَنِ النَّبِىِّ - - أَنَّهٗ قَالَ : لَنْ يَبْرَحَ هٰذَا الدِّيْنُ قَائِمًا يُقَاتِلُ عَلَيْهِ عِصَابَةٌ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ حَتّٰى تَقُوْمَ السَّاعَةُ
জাবির বিন সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী ﷺ হতে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, এই দ্বীন কিয়ামত পর্যমত্ম প্রতিষ্ঠিত থাকবে, মুসলিমদের একটি দল সর্বদা দ্বীনের পথে যুদ্ধ করতে থাকবে। [সহীহ মুসলিম, হা/৫০৬৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১০২৩; মুসত্মাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/৬০৩৫; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৮৯৮; শারহুস সুন্নাহ, হা/৪০১২; জামেউস সগীর, হা/৯৩৫১, ৩৮০১।]
এ হাদীস থেকে পরিষ্কারভাবে বুঝা যায় যে, যদিও ইসলামের বিভিন্ন শাখায় বিভিন্ন শ্রেণির লোকেরা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন এবং যাবেন, সেই হিসেবে তারা নাজাতপ্রাপ্ত দলের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে পরকালে নাজাতপ্রাপ্তও হবেন। কিন্তু ‘আত তায়েফাতুল মানসুরাহ’ দ্বারা তাদেরকে বুঝানো হয়েছে, যারা আল্লাহর রাসত্মায় যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।
এ মর্মে হাদীসে আরো এসেছে,
حَدَّثَنَا يَزِيْدُ بْنُ الْأَصَمِّ قَالَ سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِىْ سُفْيَانَ ذَكَرَ حَدِيْثًا رَوَاهُ عَنِ النَّبِىِّ لَمْ أَسْمَعْهُ رَوٰى عَنِ النَّبِىِّ - - عَلٰى مِنْبَرِه حَدِيْثًا غَيْرَه قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ - : مَنْ يُّرِدِ اللّٰهُ بِه خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِى الدِّيْنِ وَلَا تَزَالُ عِصَابَةٌ مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ يُقَاتِلُوْنَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِيْنَ عَلٰى مَنْ نَاوَأَهُمْ إِلٰى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
ইয়াযীদ ইবনে আসাম (রহ.) বলেন, আমি মু‘আবিয়া ইবনে আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) কে এমন একটি হাদীস নবী ﷺ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যা ছাড়া নবী ﷺ এর বরাতে অন্য কোন হাদীস মিম্বারের উপর থেকে বলতে তাঁকে আমি শুনিনি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞান দিয়ে থাকেন। আর মুসলিমদের একটি দল সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে লড়াই করবে। যারা তাদের প্রতি বিরূপ ভাব পোষণ করবে তাদের উপর তারা কিয়ামত পর্যমত্ম বিজয়ী থাকবে। [সহীহ মুসলিম, হা/৫০৬৫; মুসত্মাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/৬০৪১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৮৯৫।]
অপর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ --: لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِىْ يُقَاتِلُوْنَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِيْنَ عَلٰى مَنْ نَاوَأَهُمْ حَتّٰى يُقَاتِلَ اٰخِرُهُمُ الْمَسِيْحَ الدَّجَّالَ
ইমরান বিন হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে একটি দল সর্বদা হকের পক্ষে যুদ্ধ করতে থাকবে। যারা তাদের বিরোধীদের উপর বিজয়ী থাকবে। তাদেরই সর্বশেষ দলটি মাসিহে দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। [আবু দাউদ, হা/২৪৮৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৯৯৩৪; মুসত্মাদরাকে হাকেম, হা/২৩৯২; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৪৬৪৮; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৯৫৯; জামেউস সগীর, হা/১৩২৫০; মিশকাত, হা/৩৮১৯।]
অপর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,
عَنِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ يَقُوْلُ سَمِعْتُ النَّبِىَّ - - يَقُوْلُ : لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِىْ يُقَاتِلُوْنَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِيْنَ إِلٰى يَوْمِ الْقِيَامَةِ - قَالَ - فَيَنْزِلُ عِيْسَى ابْنُ مَرْيَمَ - فَيَقُوْلُ أَمِيْرُهُمْ تَعَالَ صَلِّ لَنَا . فَيَقُوْلُ لَا . إِنَّ بَعْضَكُمْ عَلٰى بَعْضٍ أُمَرَاءُ . تَكْرِمَةَ اللهِ هٰذِهِ الْأُمَّةَ
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমার উম্মতের একটি দল হকের উপর যুদ্ধ করতে থাকবে, কিয়ামত পর্যমত্ম তারা প্রতিষ্ঠিত থাকবে। অতঃপর ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) অবতীর্ণ হবেন। মুসলিমদের আমীর বলবেন, সামনে আসুন এবং ইমামতি করুন। ঈসা (আঃ) বলবেন, না! বরং তোমরা একে অপরের ইমাম হবে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এ উম্মতের জন্য সম্মানস্বরূপ। [সহীহ মুসলিম, হা/৪১২; বায়হাকী, হা/১৮৩৯৬; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৬৮১৯; মুসত্মাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/২৩৫; মুসনাদে উমর ইবনে খাত্তাব, হা/১১৬৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪৭৬২; মু‘জামুল আওসাত, হা/৯০৭৮।]
উপরোক্ত হাদীসগুলো থেকে পরিষ্কারভাবে ‘আত তায়েফাতুল মানসুরাহ’ তথা সাহায্যপ্রাপ্ত দলের একটি বিশেষ পরিচয় পাওয়া যায়। আর তা হচ্ছে, তারা যুদ্ধ করবে এবং এরাই শেষ পর্যমত্ম ঈসা (আঃ) এর সঙ্গে মিলিত হয়ে দাজ্জালকে হত্যা করবে।