hadith book logo

কিতাবুল ইলম

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩১

মাযহাব সৃষ্টির ইতিহাস

হিজরীর প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীতে মুসলিমরা কোন মতবাদের অন্ধ অনুকরণ করতেন না। নির্দিষ্ট একটি মতবাদের উপর লক্ষ করে ফতওয়া দেয়া, তার উপর ভিত্তি করে অভিমত গ্রহণ করা এবং সর্বাবস্থায় উক্ত মতবাদের উদ্ধৃতি দেয়া- এসব বিষয় এ শতাব্দীর মানুষের মাঝে বিন্দুমাত্র বিদ্যমান ছিল না। আর এ সময় পর্যমত্ম পূর্ববর্তী কোন ব্যক্তির তাকলীদ করারও অসিত্মত্মত্ব ছিল না।

রাসূলুল্লাহ ﷺ এর যুগে তিনি নিজেই ছিলেন মুসলিম জাতির ইমাম। আর তাদের সকলের পথ ছিল একটিই। আর তা হলো ইসলাম। কোন ব্যক্তি বা দলের নামে কোন মাযহাব রাসূলুল্লাহ ﷺ এর যুগে ছিল বলে কুরআন-হাদীসে কোন উল্লেখ নেই।

সাহাবায়ে কেরামের যুগেও তারা কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী এবং যে ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নার সরাসরি দলীল নেই সেক্ষেত্রে ইজতিহাদের মাধ্যমে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে সমাধান দিতেন। তাদের কারো নামে কোন দল বা কোন মাযহাব ছিল না।

এর পরবর্তী সময়ে তাবেঈদের যুগেও অনেক আলেম ছিলেন, তারাও সাহাবায়ে কেরামের আদর্শে আদর্শিত হয়ে ইসলামের জ্ঞানার্জন করতেন এবং এর শিক্ষাকে সকলের কাছে পৌঁছে দিতেন। তারাও কারো নামে কোন মাযহাব বা দল প্রতিষ্ঠা করেননি।

তাবেঈদের পর যারা ইসলাম নিয়ে গবেষণা করেন এবং ইজতিহাদ করেছেন তাদের মধ্যে অনেক আলেমের নামে মাযহাব তৈরি হয়। বিশেষ করে চার ইমামের নামে চারটি মাযহাব সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

বনী উমাইয়াদের শাসনের অবসানকালে কোন মুসলিম নিজেকে হানাফী বা শাফেয়ী বলতেন না। আববাসী খলীফাদের শাসন আমলের মাঝামাঝি সময় প্রত্যেকে নিজেদের জন্য একটি করে নাম বাছাই করে নেন। আর তারা আপন মাযহাবভুক্ত গুরুদের কথা না পাওয়া পর্যন্ত কুরআন ও হাদীসের নির্দেশ মেনে চলা বাদ দিলেন। কুরআন ও হাদীসের ব্যাখ্যা নিয়ে এই যে মতভেদ সৃষ্টি হয় এরপর সে মতভেদগুলো মাযহাবের ভিত্তিতে পরিণত হয়। আরব রাজত্বের অবসানের পর (৬৫৬ হিঃ) মুসলিমগণ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লে তারা প্রত্যেকেই আপন আপন মাযহাবের যতটুকু খেয়াল রাখতে পেরেছেন তাকেই মাযহাবের ভিত্তি রূপে গ্রহণ করলেন। এই দুঃখজনক পরিণতিতে প্রকৃত সুন্নাত নয় এমন অনেক কিছু সুন্নাতের স্থান দখল করে নেয়।