hadith book logo

কিতাবুল ইলম

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫

ইলম প্রচার করা আলেমদের দায়িত্ব

ইলম অর্জন করে মানুষকে ইলম শিক্ষাদান করা আলেমগণের একটি বড় দায়িত্ব। আলেমগণ ইলমের প্রচার না করলে জনগণ মূর্খ থেকে যাবে। যার ফলে সমাজ থেকে দ্বীন বিলুপ্ত হবে এবং অন্যায়-অপরাধ বিসত্মার লাভ করবে। এজন্য ইলম প্রচারকারীর অনেক ফযীলতও বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَآئِفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُوْا فِى الدِّيْنِ وَلِيُنْذِرُوْا قَوْمَهُمْ اِذَا رَجَعُوْاۤ اِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُوْنَ﴾

তাদের প্রত্যেক দল থেকে এমন একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞানার্জন করতে পারে। আর যখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে আসবে তখন তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করবে, যাতে করে তারা সতর্ক হয়ে যায়। (সূরা তওবা- ১২২)

অত্র আয়াতে প্রত্যেক গ্রাম অথবা গোত্র থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক লোকদেরকে বের হতে বলা হয়েছে। যারা আপ্রাণ চেষ্টা করে হলেও জ্ঞান আহরণ করবে, এমনকি এজন্য তারা বহু দূর-দূরামেত্মর পথ অতিক্রম করবে। অতঃপর তারা নিজেদের জাতির কাছে ফিরে যাবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্বীনী জাগরণ সৃষ্টিতে তৎপর হবে, তাদেরকে ইলম শিক্ষা দেবে এবং প্রয়োজনে তাদেরকে নেতৃত্ব দেবে। তারা নিজেরা সর্বদা শিরক ও বিদআত থেকে সতর্ক থাকবে এবং সমাজের সকল সত্মর থেকেও এগুলো দূরীভূত করার জন্য সক্রিয় হবে। তারা সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে। সর্বোপরি তারা তাদের জাতির মাঝে কুরআন ও সুন্নার নির্দেশিত জীবনধারাকে ছড়িয়ে দেবে।

আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক শতাব্দীর শেষে একজন মুজাদ্দিদ প্রেরণ করেন :

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ قَالَ إِنَّ اللهَ عَزَّوَجَلَّ يَبْعَثُ لِهٰذِهِ الْأُمَّةِ عَلٰى رَأْسِ كُلِّ مِائَةِ سَنَةٍ مَنْ يُجَدِّدُ لَهَا دِينَهَا

আবু হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা এ উম্মতের (কল্যাণের) জন্য প্রত্যেক শতাব্দীর শেষে এমন এক ব্যক্তিকে পাঠাবেন, যিনি তাদের দ্বীনকে সংস্কার করবেন। [আবু দাঊদ, হা/৪২৯৩; মারেফাতুস সুনান ওয়াল আছার, হা/১০০; মুসত্মাদরাকে হাকেম, হা/৮৫৯২; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১১১৮; জামেউস সগীর, হা/২৭৫৫; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৫৯৯; মিশকাত, হা/২৪৭।]

প্রত্যেক হিজরী শতাব্দীর শেষ লগ্নে আল্লাহ এমন ব্যক্তি পাঠাবেন, যিনি নতুন আবিষ্কৃত জিনিসগুলোর মূলোৎপাটন করে কিতাব এবং সুন্নার আমল ও এগুলোর দাবি অনুপাতে যে সমস্ত নির্দেশ রয়েছে তা পুনরুজ্জীবিত করবেন। বক্তব্য, লেখনী, পাঠদান বা অন্যান্য পদ্ধতিতে বিদআতকারীদেরকে প্রতিহত করবেন। তবে এ মুজাদ্দিদ ব্যক্তির সমসাময়িক যুগের আলেমগণ তার বিভিন্ন অবস্থা ও তার ইলম কর্তৃক মানুষের উপকৃত হওয়ার পরিমাণ দেখে তাকে চিনতে পারবে। কেননা মুজাদ্দিদ ব্যক্তির প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য দ্বীনের বিধান সম্পর্কে জ্ঞানবান হওয়া আবশ্যক এবং তিনি হবেন সুন্নাতের সাহায্যকারী ও বিদআতের মূলোৎপাটনকারী। আর দ্বীনের সংস্কার কেবল প্রত্যেক শতাব্দীর শেষে হবে। সেসময় সুন্নাতের বিলুপ্তি ঘটবে এবং বিদআত প্রকাশ পাবে। ফলে তখন দ্বীনের সংস্কারের প্রয়োজনে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে পরবর্তী প্রজন্ম থেকে এক বা একাধিক মুজাদ্দিদ নিয়ে আসবেন। কারণ দ্বীনের সংস্কারের জন্য বিভিন্ন গুণাবলি সম্পন্ন আলেমের প্রয়োজন।

একদল আলেম সর্বদা দ্বীনের সঠিক ব্যাখ্যা করবেন :

عَنْ إِبْرَاهِيْمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ يَحْمِلُ هٰذَا الْعِلْمَ مِنْ كُلِّ خَلَفٍ عُدُوْلُه يَنْفُوْنَ عَنْهُ تَحْرِيْفَ الْغَالِيْنَ وَانْتَحَالَ الْمُبْطِلِيْنَ وَتَأْوِيْلَ الْجَاهِلِيْنَ

ইবরাহীম ইবনে আবদুর রহমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, প্রত্যেক আগত জামা‘আতের মধ্যে নেক, তাকওয়াসম্পন্ন এবং নির্ভরযোগ্য মানুষ (কিতাব ও সুন্নার) এ জ্ঞান গ্রহণ করবেন। আর তিনিই এ জ্ঞানের মাধ্যমে সীমালঙ্ঘনকারীদের রদবদল, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা অপবাদ এবং অজ্ঞদের ভুল ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণকে দূরীভূত করবেন। [মুসনাদুল বাযযার, হা/৭৪২৩; বায়হাকী, হা/২০৭০০; মিশকাত, হা/২৪৮।]

প্রত্যেক শতাব্দীর বিদ্বানগণ কিতাব ও সুন্নার জ্ঞানকে বহন করবেন ও তার প্রতি নিজেরা আমল করবেন ও মৃত হুকুম-আহকামগুলোকে সমাজে জীবিতকরণে সদা সচেষ্ট হবেন। তারা কুরআন-সুন্নাকে এর উদ্দেশিত অর্থের পরিবর্তনকারীদের থেকে, বাতিলপন্থীদের অগ্রহণযোগ্য কথা থেকে এবং মূর্খদের ভুল ব্যাখ্যা থেকে মুক্ত রাখবেন। এভাবে তারা সর্বদা ইসলামের উপর সকল আঘাত নিরলসভাবে প্রতিহত করে যাবেন।