১
আল-গিরাস চিন্তার উন্মেষ ও কর্মবিকাশের অনুশীলন (১ম খন্ড)
লেখকঃ তাওফীক বিন খলফ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-রেফায়ী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৪
তৃতীয় বপন: মুমিনের বৃক্ষ
وَهُزِّي إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكِ رُطَبًا جَنِيًّا ﴿২৫﴾
‘আর তুমি খেজুর গাছের কান্ড ধরে তোমার দিকে নাড়া দাও, তাহলে তা তোমার উপর তাজা-পাকা খেজুর ফেলবে।’ [সূরা মারইয়াম : ২৫]
عن ابن مسعود رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم لقيت إبراهيم ليلة أسري بي، فقال : يا محمد أقرئ أمتك مني السلام، و أخبرهم أن الجنة طيبة التربة عذبة الماء، و أنها قيعان، و أن غراسها سبحان الله و الحمد لله و لا إله إلا الله و الله أكبر .
ইবনে মাসঊদ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে রাতে আমাকে ভ্রমণ করানো হল (মিরাজের রাত্রিতে) সে রাতে ইবরাহীমের সাথে আমার সাক্ষাত হল। সে বলল, হে মুহাম্মাদ, আমার পক্ষ থেকে তুমি তোমার উম্মতকে সালাম জানিয়ো। এবং তাদেরকে এ সংবাদ প্রদান কর যে, জান্নাতের মাটি হবে উর্বর, পানি হবে মিষ্ট এবং তা হবে লেকবিশিষ্ট। তার বপন হল ‘সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’। [তিরমিযী : ৩৪৬২]
আমি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এই সাদাকায়ে জারিয়া সম্পর্কে গাফিল ছিলাম, এটি আমাকে ভীষণ অবাক করেছে। আমি প্রতি দিন আমার আবাস থেকে অফিসে যাতায়াত করতাম, আমার আসা-যাওয়ার পথের দুপাশে ছিল সারি সারি খেজুর বৃক্ষ। প্রতিদিন দৃষ্টির সামনে এগুলো ছিল যদিও, কিন্তু আমি ছিলাম গাফিল, এগুলো থেকে কোন সাদাকায়ে জারিয়ার চিন্তা আমার চিন্তাজগতে হানা দেয়নি। এভাবেই কেটে যাচ্ছিল, একদিন ‘আবু মুহাম্মাদ’- একজন দরিদ্র ব্যক্তি, যে তার দারিদ্রে্যর কথা কখনো মুখ ফুটে বলে না- আমাকে সচেতন করে তুলল।
আমি বললাম, সুবাহানাল্লাহ ! এই সারি সারি খেজুর বৃক্ষগুলোর মাঝে লুকিয়ে আছে কত সাদাকায়ে জারিয়ার সম্ভাবনা, প্রতিদিন সকাল-বিকাল এই পথ দিয়ে আমরা হেঁটে যাই, কিন্তু এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ পর্যন্ত করি না। আমাদের দেশে খেজুর গাছের সংখ্যা চল্লিশ মিলিয়নেরও অধিক। পথের পাশে ফলদার যে বৃক্ষগুলো ছড়িয়ে আছে তার সংখ্যা প্রায় এক মিলিয়ন, যার দেখভালের দায়িত্ব সরকারের। যখন তা ফল দেয়, পথচারীদের জন্য তা রেখে দেয়া হয়, পথচারীগণ ইচ্ছা মত সেখান থেকে নিয়ে যায়, এবং নিয়ে যাওয়ার পরও এতটা বাকি থাকে যে, মনে হয়, এ থেকে কিছুই নেয়া হয়নি। ফল থাকা অবস্থাতেই সেগুলো শুকিয়ে যায়, ফলে তা আগুনে জ্বালিয়ে নি:শেষ করে দেয়া হয়। এভাবেই প্রতি বছরের রীতি চলে আসছে।
বিষয়টি আমার চিন্তায় ভালভাবে জেকে বসার পর আমি চিন্তা করতে শুরু করলাম, এবং অনেকের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করতে আরম্ভ করলাম। তারা আমার আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত ছিল না। এর পর থেকে যখনি আমি এই পথ দিয়ে কোথাও গিয়েছি, আমার চিন্তা ছিল কীভাবে এই শুকনো ডাল-পালা থেকে জন্ম দেয়া যায় কোন সাদাকায়ে জারিয়ার।
অবশেষে আমি কয়েকটি প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছি, আমি আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা জানাচ্ছি, যে ব্যক্তি একে বাস্তব সাদাকায়ে রূপ দেয়ার প্রয়াস চালাবে, তিনি যেন তাকে উত্তম সহায়তা দেন।
‘আর তুমি খেজুর গাছের কান্ড ধরে তোমার দিকে নাড়া দাও, তাহলে তা তোমার উপর তাজা-পাকা খেজুর ফেলবে।’ [সূরা মারইয়াম : ২৫]
عن ابن مسعود رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم لقيت إبراهيم ليلة أسري بي، فقال : يا محمد أقرئ أمتك مني السلام، و أخبرهم أن الجنة طيبة التربة عذبة الماء، و أنها قيعان، و أن غراسها سبحان الله و الحمد لله و لا إله إلا الله و الله أكبر .
ইবনে মাসঊদ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে রাতে আমাকে ভ্রমণ করানো হল (মিরাজের রাত্রিতে) সে রাতে ইবরাহীমের সাথে আমার সাক্ষাত হল। সে বলল, হে মুহাম্মাদ, আমার পক্ষ থেকে তুমি তোমার উম্মতকে সালাম জানিয়ো। এবং তাদেরকে এ সংবাদ প্রদান কর যে, জান্নাতের মাটি হবে উর্বর, পানি হবে মিষ্ট এবং তা হবে লেকবিশিষ্ট। তার বপন হল ‘সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’। [তিরমিযী : ৩৪৬২]
আমি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এই সাদাকায়ে জারিয়া সম্পর্কে গাফিল ছিলাম, এটি আমাকে ভীষণ অবাক করেছে। আমি প্রতি দিন আমার আবাস থেকে অফিসে যাতায়াত করতাম, আমার আসা-যাওয়ার পথের দুপাশে ছিল সারি সারি খেজুর বৃক্ষ। প্রতিদিন দৃষ্টির সামনে এগুলো ছিল যদিও, কিন্তু আমি ছিলাম গাফিল, এগুলো থেকে কোন সাদাকায়ে জারিয়ার চিন্তা আমার চিন্তাজগতে হানা দেয়নি। এভাবেই কেটে যাচ্ছিল, একদিন ‘আবু মুহাম্মাদ’- একজন দরিদ্র ব্যক্তি, যে তার দারিদ্রে্যর কথা কখনো মুখ ফুটে বলে না- আমাকে সচেতন করে তুলল।
আমি বললাম, সুবাহানাল্লাহ ! এই সারি সারি খেজুর বৃক্ষগুলোর মাঝে লুকিয়ে আছে কত সাদাকায়ে জারিয়ার সম্ভাবনা, প্রতিদিন সকাল-বিকাল এই পথ দিয়ে আমরা হেঁটে যাই, কিন্তু এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ পর্যন্ত করি না। আমাদের দেশে খেজুর গাছের সংখ্যা চল্লিশ মিলিয়নেরও অধিক। পথের পাশে ফলদার যে বৃক্ষগুলো ছড়িয়ে আছে তার সংখ্যা প্রায় এক মিলিয়ন, যার দেখভালের দায়িত্ব সরকারের। যখন তা ফল দেয়, পথচারীদের জন্য তা রেখে দেয়া হয়, পথচারীগণ ইচ্ছা মত সেখান থেকে নিয়ে যায়, এবং নিয়ে যাওয়ার পরও এতটা বাকি থাকে যে, মনে হয়, এ থেকে কিছুই নেয়া হয়নি। ফল থাকা অবস্থাতেই সেগুলো শুকিয়ে যায়, ফলে তা আগুনে জ্বালিয়ে নি:শেষ করে দেয়া হয়। এভাবেই প্রতি বছরের রীতি চলে আসছে।
বিষয়টি আমার চিন্তায় ভালভাবে জেকে বসার পর আমি চিন্তা করতে শুরু করলাম, এবং অনেকের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করতে আরম্ভ করলাম। তারা আমার আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত ছিল না। এর পর থেকে যখনি আমি এই পথ দিয়ে কোথাও গিয়েছি, আমার চিন্তা ছিল কীভাবে এই শুকনো ডাল-পালা থেকে জন্ম দেয়া যায় কোন সাদাকায়ে জারিয়ার।
অবশেষে আমি কয়েকটি প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছি, আমি আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা জানাচ্ছি, যে ব্যক্তি একে বাস্তব সাদাকায়ে রূপ দেয়ার প্রয়াস চালাবে, তিনি যেন তাকে উত্তম সহায়তা দেন।