১
আল-গিরাস চিন্তার উন্মেষ ও কর্মবিকাশের অনুশীলন (১ম খন্ড)
লেখকঃ তাওফীক বিন খলফ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-রেফায়ী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫২
খতীব সংঘে অন্তর্ভুক্তির প্রাথমিক শর্ত ও নীতিমালা
যে ব্যক্তিই এই প্রক্রিয়ার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে আগ্রহী, তাকে কয়েকটি গুণ ও বৈশিষ্ট্যে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে হবে। তাকে অবশ্যই ‘ইমামত’ বা নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করতে হবে, তাকে পালন করতে হবে অনুসরণীয় অগ্রজের ভূমিকা। আমি কুরআনের উদ্ধৃতির মাধ্যমে তাদের এ সমস্ত গুণাবলী বর্ণনা করতে প্রয়াস পাব।
যারা পরিপূর্ণ বিশ্বাস রেখে এই বক্তব্য দিবে যে :
قُلْ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿162﴾
‘বল, ‘নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু আল্লাহর জন্য, যিনি সকল সৃষ্টির রব’। [সূরা আনআম : ১৬২]
যারা বলবে :
وَيَا قَوْمِ لاَ أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مَالًا .
‘আর হে আমার কওম, এর বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কোন সম্পদ চাই না।’ [সূরা হূদ : ২৯]
যারা-
لاَ يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلاَ فَسَادًا .
‘যারা যমীনে ঔদ্ধত্য দেখাতে চায় না এবং ফাসাদও চায় না।’ [সূরা কাছাছ : ৮৩]
যারা বলে :
الَّذِينَ يُبَلِّغُونَ رِسَالاَتِ اللهِ وَيَخْشَوْنَهُ وَلاَ يَخْشَوْنَ أَحَدًا إِلاَّ اللهَ وَكَفَى بِاللهِ حَسِيبًا ﴿39﴾
‘যারা আল্লাহর বাণী পৌঁছিয়ে দেয় ও তাঁকে ভয় করে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না, আর হিসাব গ্রহণকারীরূপে আল্লাহই যথেষ্ট।’ [সূরা আহযাব : ৩৯]
যারা আল্লাহর এ বাণীর অনুসরণ করে :
وَلاَ يَسْتَخِفَّنَّكَ الَّذِينَ لاَ يُوقِنُونَ ﴿60﴾
‘আর যারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে না তারা যেন তোমাকে অস্থির করতে না পারে।’ [সূরা রূম : ৬০]
যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন :
وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآَيَاتِنَا يُوقِنُونَ ﴿24﴾
‘আর আমি তাদের মধ্য থেকে বহু নেতা করেছিলাম, তারা আমার আদেশানুযায়ী সৎপথ প্রদর্শন করত, যখন তারা ধৈর্যধারণ করেছিল। আর তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখত।’। [সূরা সিজদা : ২৪]
যারা দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী জ্ঞান ও বোধের অধিকারী। কুরআনে যাদের ব্যাপারে বলা হয়েছে :
الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَاهُمُ اللهُ وَأُولَئِكَ هُمْ أُولُو الْأَلْبَابِ ﴿18﴾
‘যারা মনোযোগ সহকারে কথা শোনে অতঃপর তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে তাদেরকেই আল্লাহ হিদায়াত দান করেন আর তারাই বুদ্ধিমান।’। [সূরা যুমার : ১৮]
যারা আল্লাহর নির্দেশ ও তার অসিয়ত দৃঢ়ভাবে আকড়ে থাকে :
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللهَ وَالْيَوْمَ الْآَخِرَ وَذَكَرَ اللهَ كَثِيرًا ﴿21﴾
‘অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।’ [সূরা আহযাব : ২১]
সেই আল্লাহভীরু ব্যক্তিগণ, যাদের ব্যাপারে আল্লাহর এ বাণী প্রযোজ্য :
وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنْتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنْتُمْ تَدْرُسُونَ ﴿79﴾
‘বরং সে বলবে, ‘তোমরা রববানী হও। যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং তা অধ্যয়ন করতে’।’ [সূরা আলে ইমরান : ৭৯]
এ কথায় যে মানুষের মাঝে সর্বোত্তম :
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ ﴿33﴾
‘আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত’?’ [সূরা ফুসসিলাত : ৩৩]
যারা আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে এই প্রার্থনা করে যে :
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي ﴿25﴾ وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي ﴿26﴾ وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي ﴿27﴾ يَفْقَهُوا قَوْلِي ﴿28﴾
‘সে বলল, ‘হে আমার রব, আমার বুক প্রশস্ত করে দিন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। আর আমার জিহবার জড়তা দূর করে দিন যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে’। [সূরা ত্বাহা : ২৫-২৮]
যার এমন বলার পরিপূর্ণ প্রস্ত্ততি রয়েছে :
فَاقْضِ مَا أَنْتَ قَاضٍ إِنَّمَا تَقْضِي هَذِهِ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا ﴿72﴾
‘সুতরাং তুমি যা ফয়সালা করতে চাও, তাই করো। তুমিতো কেবল এ দুনিয়ার জীবনের উপর কর্তৃত্ব করতে পার’।’ [সূরা ত্বাহা : ৭২]
যারা নিজেদের পরিচয় গড়েছে এভাবে :
إِنْ أُرِيدُ إِلاَّ الْإِصْلاَحَ مَا اسْتَطَعْتُ وَمَا تَوْفِيقِي إِلاَّ بِاللهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ ﴿88﴾
‘আমি আমার সাধ্যমত সংশোধন চাই। আল্লাহর সহায়তা ছাড়া আমার কোন তওফীক নেই। আমি তাঁরই উপর তাওয়াক্কুল করেছি এবং তাঁরই কাছে ফিরে যাই।’ [সূরা হূদ : ৮৮]
যারা পরিপূর্ণ বিশ্বাস রেখে এই বক্তব্য দিবে যে :
قُلْ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿162﴾
‘বল, ‘নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু আল্লাহর জন্য, যিনি সকল সৃষ্টির রব’। [সূরা আনআম : ১৬২]
যারা বলবে :
وَيَا قَوْمِ لاَ أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مَالًا .
‘আর হে আমার কওম, এর বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কোন সম্পদ চাই না।’ [সূরা হূদ : ২৯]
যারা-
لاَ يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلاَ فَسَادًا .
‘যারা যমীনে ঔদ্ধত্য দেখাতে চায় না এবং ফাসাদও চায় না।’ [সূরা কাছাছ : ৮৩]
যারা বলে :
الَّذِينَ يُبَلِّغُونَ رِسَالاَتِ اللهِ وَيَخْشَوْنَهُ وَلاَ يَخْشَوْنَ أَحَدًا إِلاَّ اللهَ وَكَفَى بِاللهِ حَسِيبًا ﴿39﴾
‘যারা আল্লাহর বাণী পৌঁছিয়ে দেয় ও তাঁকে ভয় করে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না, আর হিসাব গ্রহণকারীরূপে আল্লাহই যথেষ্ট।’ [সূরা আহযাব : ৩৯]
যারা আল্লাহর এ বাণীর অনুসরণ করে :
وَلاَ يَسْتَخِفَّنَّكَ الَّذِينَ لاَ يُوقِنُونَ ﴿60﴾
‘আর যারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে না তারা যেন তোমাকে অস্থির করতে না পারে।’ [সূরা রূম : ৬০]
যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন :
وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآَيَاتِنَا يُوقِنُونَ ﴿24﴾
‘আর আমি তাদের মধ্য থেকে বহু নেতা করেছিলাম, তারা আমার আদেশানুযায়ী সৎপথ প্রদর্শন করত, যখন তারা ধৈর্যধারণ করেছিল। আর তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখত।’। [সূরা সিজদা : ২৪]
যারা দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী জ্ঞান ও বোধের অধিকারী। কুরআনে যাদের ব্যাপারে বলা হয়েছে :
الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَاهُمُ اللهُ وَأُولَئِكَ هُمْ أُولُو الْأَلْبَابِ ﴿18﴾
‘যারা মনোযোগ সহকারে কথা শোনে অতঃপর তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে তাদেরকেই আল্লাহ হিদায়াত দান করেন আর তারাই বুদ্ধিমান।’। [সূরা যুমার : ১৮]
যারা আল্লাহর নির্দেশ ও তার অসিয়ত দৃঢ়ভাবে আকড়ে থাকে :
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللهَ وَالْيَوْمَ الْآَخِرَ وَذَكَرَ اللهَ كَثِيرًا ﴿21﴾
‘অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।’ [সূরা আহযাব : ২১]
সেই আল্লাহভীরু ব্যক্তিগণ, যাদের ব্যাপারে আল্লাহর এ বাণী প্রযোজ্য :
وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنْتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنْتُمْ تَدْرُسُونَ ﴿79﴾
‘বরং সে বলবে, ‘তোমরা রববানী হও। যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং তা অধ্যয়ন করতে’।’ [সূরা আলে ইমরান : ৭৯]
এ কথায় যে মানুষের মাঝে সর্বোত্তম :
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ ﴿33﴾
‘আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত’?’ [সূরা ফুসসিলাত : ৩৩]
যারা আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে এই প্রার্থনা করে যে :
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي ﴿25﴾ وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي ﴿26﴾ وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي ﴿27﴾ يَفْقَهُوا قَوْلِي ﴿28﴾
‘সে বলল, ‘হে আমার রব, আমার বুক প্রশস্ত করে দিন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। আর আমার জিহবার জড়তা দূর করে দিন যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে’। [সূরা ত্বাহা : ২৫-২৮]
যার এমন বলার পরিপূর্ণ প্রস্ত্ততি রয়েছে :
فَاقْضِ مَا أَنْتَ قَاضٍ إِنَّمَا تَقْضِي هَذِهِ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا ﴿72﴾
‘সুতরাং তুমি যা ফয়সালা করতে চাও, তাই করো। তুমিতো কেবল এ দুনিয়ার জীবনের উপর কর্তৃত্ব করতে পার’।’ [সূরা ত্বাহা : ৭২]
যারা নিজেদের পরিচয় গড়েছে এভাবে :
إِنْ أُرِيدُ إِلاَّ الْإِصْلاَحَ مَا اسْتَطَعْتُ وَمَا تَوْفِيقِي إِلاَّ بِاللهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ ﴿88﴾
‘আমি আমার সাধ্যমত সংশোধন চাই। আল্লাহর সহায়তা ছাড়া আমার কোন তওফীক নেই। আমি তাঁরই উপর তাওয়াক্কুল করেছি এবং তাঁরই কাছে ফিরে যাই।’ [সূরা হূদ : ৮৮]