hadith book logo

আল-গিরাস চিন্তার উন্মেষ ও কর্মবিকাশের অনুশীলন (১ম খন্ড)

লেখকঃ তাওফীক বিন খলফ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-রেফায়ী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭৫

ওয়াক্ফের বিধিমালা

ওয়াক্ফ সংরক্ষণের প্রতি যত্নবান থাকা। ওয়াক্ফের সংরক্ষণের ব্যয়ভার গ্রহণ করা হবে তার মুনাফার অংশ থেকে। ব্যয় থেকে সংরক্ষণের বিষয়টি সবসময় অগ্রাধিকার পাবে।

ওয়াক্ফের সম্পত্তির ৩০% ভাগ বিভিন্ন লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করে রাখা। এবং মূল ওয়াক্ফ সম্পত্তির মত এই সম্পদ ও তার লভ্যাংশও ওয়াক্ফ হয়ে যাবে।

আমার জীবদ্দশায় আমি নিজেই ওয়াক্ফ তত্ত্বাবধান করব। তবে ওয়াকফের কল্যাণের স্বার্থে আমি যদি আমার কোনো ছেলে বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে তার দায়িত্ব দেই তাহলে সে-ই তা পালন করবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোত্তম হচ্ছে সে এই দায়িত্ব পালন করবে নিছক আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য, কোনো বিনিময় ছাড়া। তবে যদি তার জন্য ওয়াক্ফের লভ্যাংশ থেকে তার কাজের কোনো বিনিময় নির্ধারণ করা হয় তাহলে তাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে এই বিনিময়, যে কাজ করছে তার লভ্যাংশের ৫০% এর বেশী হতে পারবে না কোনোভাবেই। আমার কোনো সন্তান না থাকলে বা তাদের কাউকে এই কাজের জন্য না পাওয়া গেলে এই ক্ষেত্রে আমি অন্য কোনো বিশেষজ্ঞ ও বিশ্বস্ত ব্যাক্তির সাহায্য নিতে পারি।

ওয়াক্ফের তত্ত্বাবধায়কগণ যদি মূল ওয়াক্ফ সংরক্ষণ বা উৎপাদনমূলক খাতগুলোতে কোনো কর্মচারী নিয়োগ দিতে চান তাহলে তারা তা করতে পারবেন এবং ওয়াক্ফের লভ্যাংশ থেকে তাদের বেতন-ভাতা দিতে পারবেন

ওয়াক্ফের সম্পত্তি কোনো সূদী ব্যাংকে রাখা যাবে না। এবং হারাম কিংবা ইন্স্যুরেন্স জাতীয় সন্দেহজনক খাতে তা বিনিয়োগ করা উচিত হবে না। কারণ আল্লাহ উত্তম তাই তিনি উত্তম ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেন না। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন :

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا أَنْفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ مِنَ الْأَرْضِ وَلاَ تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ مِنْهُ تُنْفِقُونَ وَلَسْتُمْ بِآَخِذِيهِ إِلاَّ أَنْ تُغْمِضُوا فِيهِ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللهَ غَنِيٌّ حَمِيدٌ ﴿267﴾

‘হে মুমিনগণ, তোমরা ব্যয় কর উত্তম বস্ত্ত, তোমরা যা অর্জন করেছ এবং আমি যমীন থেকে তোমাদের জন্য যা উৎপন্ন করেছি তা থেকে এবং নিকৃষ্ট বস্ত্তর ইচ্ছা করো না যে, তা থেকে তোমরা ব্যয় করবে। অথচ চোখ বন্ধ করা ছাড়া যা তোমরা গ্রহণ করো না। আর জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ অভাবমুক্ত, সপ্রশংসিত।’ [সূরা বাকারা : ২৬৭]

এর সাথে সাথে আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, ওয়াকফের তত্ত্বাবধায়করা সবসময় শরীয়ত অনুগত নির্দেশনাগুলো মেনে চলবেন, তার প্রতি যত্নবান থাকবেন।

কারণ, শুধু মাদরাসা, মসজিদ, ইসলামী মারকায নির্মাণ করাই ওয়াকফের লক্ষ্য না। বরং মাদরাসার সিলেবাস কী, কেমন, তা ইসলাম শরীয়ত সম্মত কি না, অনুরূপ মসজিদের ইমাম, মসজিদে প্রদানকৃত দারসগুলো এবং তার সাথে সংযুক্ত পাঠাগার.. এই সব সম্পূর্ণ শরীয়ত মুওয়াফিক কিনা সে দিকেও নজর রাখতে হবে।

ওয়াকফের সম্পত্তি বিলি-বন্টনের ক্ষেত্রে শরীয়ত আদিষ্ট শর্তগুলো মানতে হবে। এই ক্ষেত্রে ব্যক্তির পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে কাউকে দান, কাউকে বঞ্চিত করা যাবে না।

যা সাদাকা বাতিল করে দেয় বা তার সাওয়াব কমিয়ে দেয়, তত্ত্বাবধায়কদেরকে সতর্কভাবে তা থেকে বেঁচে থাকতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন :

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا لاَ تُبْطِلُوا صَدَقَاتِكُمْ بِالْمَنِّ وَالأَذَى كَالَّذِي يُنْفِقُ مَالَهُ رِئَاءَ النَّاسِ وَلاَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآَخِرِ .

‘হে মুমিনগণ, তোমরা খোঁটা ও কষ্ট দেয়ার মাধ্যমে তোমাদের সদাকা বাতিল করো না। সে ব্যক্তির মত, যে তার সম্পদ ব্যয় করে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে এবং বিশ্বাস করে না আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি।’ [সূরা বাকারা : ২৬৪]