১
আল-গিরাস চিন্তার উন্মেষ ও কর্মবিকাশের অনুশীলন (১ম খন্ড)
লেখকঃ তাওফীক বিন খলফ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-রেফায়ী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮৮
দ্বিতীয় প্রকার : ক্ষুদ্র মা’হাদ :-
অনেক বছর ধরে আমি আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন আহমাদকে চিনি। চিনি বলতে জুমার খুতবা শেষ করে বের হলে তিনি অন্যান্য মুসল্লীদের মত আমাকে সালাম দেন। ব্যাস। তিনি তার চেয়ে বেশী আমার মনোযোগ কাড়তে পারেননি। এর মধ্যে হঠাৎ আমার ছেলে আহমাদ অসুস্থ হয়ে পড়ল, তিনি তাকে দেখতে হাসাপাতাল এলেন। আমি তাকে মনে করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু স্মৃতি হাতড়ে দেখলাম জুমার খুতবার পর সালাম ছাড়া তার সংগ্রহে আর কিছু নেই। আমি তাকে নাস্তা-টাস্তা দিলে তিনি খেলেন না। আমি অবাক হলে তিনি বললেন : তার আশংকা হয় এভাবে খাবার খেলে এর মধ্য দিয়ে তিনি অসময়ে তার কাজের মূল্য নিয়ে নিতে পারেন। যাই হোক ধীরে ধীরে তিনি আমার সাথে সহজ হয়ে এলে আমি তাকে জানার সুযোগ পেলাম। অদ্ভুত এক ব্যক্তিত্ব। আমি গোপন ভান্ডারের সন্ধান পেলাম যেন। বর্তমানে তার বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। তারপরও গত একুশ বছর ধরে তিনি নিয়মিত সপ্তায় চারদিন করে দুবাই হাসপাতালে রোগী দেখছেন।
সুবহানাল্লাহ ! কি উদ্দীপনা, কি নিষ্ঠা !
আবু আব্দুল্লাহ রোগী দেখেন অনেক মনযোগ দিয়ে এবং নিষ্ঠার সাথে। আমি মনে মনে ভাবলাম কি ভাগ্য তার। সকাল বিকাল ফেরেশতারা তাকে সালাম করে যাচ্ছে। কারণ হাদীস শরীফে এসেছে :
ما من مسلم يعود مسلما غدوة إلا صلى عليه سبعون ألف ملك حتى يمسي وإن عاده عشية إلا صلى عليه سبعون ألف ملك حتى يصبح , وكان له خريف في الجنة .
‘কোনো মুসলমান যদি সকালে কোনো অসুস্থ মুসলমানকে দেখতে যায় তাহলে সন্ধ্যা পর্যন্ত সত্তর হাজার ফেরেশতা তার উপর সালাত পাঠ করতে থাকে। সন্ধ্যায় যদি সে আবার রোগী দেখতে যায় তাহলে সকাল পর্যন্ত সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য দুআ করতে থাকে এবং জান্নাতে তার জন্য রয়েছে ফল-ফলাদি।’ [তিরমিযী : ৯৭৯]
অন্য আরেকটি হাদীসে এসেছে :
من عاد مريضا لم يزل في خرفة الجنة حتى يرجع .
‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : ‘যে ব্যক্তি রোগী পরিদর্শনে যায় তার ফিরে আসা অবধি সে জান্নাতের ফল-ফলাদি ভোগ করতে থাকে। [মুসলিম : ২৫৬৮]
অন্য আরেকটি হাদিসে এসেছ :
إن الله عزل وجل يقول يوم القيامة يا ابن آدم مرضت فلم تعدني ؟ قال : يا رب كيف أعودك وأنت رب العالمين ؟ قال : أما علمت أن عبدي فلانا مرض فلم تعده أما علمت أنك لو عدته لوجدتني عنده ؟ .
‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লমা বলেন : ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা বলবেন : হে আদমের সন্তান আমি অসুস্থ হয়ে ছিলাম তুমি আমাকে সেবা করতে যাওনি, তখন বান্দা বলবে হে রব ! আমি আপনাকে সেবা করব? আপনি তো রাববুল আলামীন? তিনি বলবেন : তুমি জানতে না আমাব অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল, তারপরও তার খোঁজ নিতে যাওনি। তুমি জানতে না যদি তুমি তাকে দেখতে যেতে তাহলে তার কাছে আমাকেই পেতে?’ [মুসলিম : ২৫৬৯]
এইভাবে কয়েকদিন আব্দুল্লাহর সাথে হাসপাতালে ঘুরে, রোগীদের সাথে তার আন্তরিক ব্যবহার দেখে, তাদের প্রতি সমবেদনা ও একনিষ্ঠ সেবা দেখে আমি তো মুগ্ধ প্রায়।
কিন্তু বেশ কিছুদিন তার সাথে থাকার পর আবিস্কৃত হল তার জীবনের আরেকটি অধ্যায়। তিনি ইসলামী বিষয়াদি বেশ পড়াশোনা করা লোক। এবং তিনি নানাভাবে.. ইসলামী সাহিত্য, বই পুস্তক পড়িয়ে শিক্ষিত অমুসলিমদের মুসলমান বানান। এবং তার হাতে বেশ অনেক অমুসলিম মুসলমান হয়েছে।
এই সময়েই ‘দাওয়াতী বিশেষজ্ঞতা পাঠ’ এর চিন্তাটি আমার মাথায় আসে। আমরা কি দাওয়াতী বিষয়ে বিশেষজ্ঞতা অর্জনের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান ও কোর্সের ব্যবস্থা করতে পারি না, যাতে আবু মুহাম্মাদের মত লোকজন তৈরি হবে?
প্রিয় পাঠক, এমন একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আপনি অনেক সাধারণ মানুষকে বিশেষজ্ঞ দায়ী বানিয়ে ফেলতে পারবেন, যাদের হাতে ইসলামী দাওয়াতের মহান মহান কাজ হবে।
আছেন কোনো আগ্রহী যিনি ইসলামী বা অনৈসলামী দেশে এই বীজ, ইসলামী দাওয়াতী কোর্সের মা’হাদ’ এর বীজ বপন করবেন?
সমাপ্ত
সুবহানাল্লাহ ! কি উদ্দীপনা, কি নিষ্ঠা !
আবু আব্দুল্লাহ রোগী দেখেন অনেক মনযোগ দিয়ে এবং নিষ্ঠার সাথে। আমি মনে মনে ভাবলাম কি ভাগ্য তার। সকাল বিকাল ফেরেশতারা তাকে সালাম করে যাচ্ছে। কারণ হাদীস শরীফে এসেছে :
ما من مسلم يعود مسلما غدوة إلا صلى عليه سبعون ألف ملك حتى يمسي وإن عاده عشية إلا صلى عليه سبعون ألف ملك حتى يصبح , وكان له خريف في الجنة .
‘কোনো মুসলমান যদি সকালে কোনো অসুস্থ মুসলমানকে দেখতে যায় তাহলে সন্ধ্যা পর্যন্ত সত্তর হাজার ফেরেশতা তার উপর সালাত পাঠ করতে থাকে। সন্ধ্যায় যদি সে আবার রোগী দেখতে যায় তাহলে সকাল পর্যন্ত সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য দুআ করতে থাকে এবং জান্নাতে তার জন্য রয়েছে ফল-ফলাদি।’ [তিরমিযী : ৯৭৯]
অন্য আরেকটি হাদীসে এসেছে :
من عاد مريضا لم يزل في خرفة الجنة حتى يرجع .
‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : ‘যে ব্যক্তি রোগী পরিদর্শনে যায় তার ফিরে আসা অবধি সে জান্নাতের ফল-ফলাদি ভোগ করতে থাকে। [মুসলিম : ২৫৬৮]
অন্য আরেকটি হাদিসে এসেছ :
إن الله عزل وجل يقول يوم القيامة يا ابن آدم مرضت فلم تعدني ؟ قال : يا رب كيف أعودك وأنت رب العالمين ؟ قال : أما علمت أن عبدي فلانا مرض فلم تعده أما علمت أنك لو عدته لوجدتني عنده ؟ .
‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লমা বলেন : ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা বলবেন : হে আদমের সন্তান আমি অসুস্থ হয়ে ছিলাম তুমি আমাকে সেবা করতে যাওনি, তখন বান্দা বলবে হে রব ! আমি আপনাকে সেবা করব? আপনি তো রাববুল আলামীন? তিনি বলবেন : তুমি জানতে না আমাব অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল, তারপরও তার খোঁজ নিতে যাওনি। তুমি জানতে না যদি তুমি তাকে দেখতে যেতে তাহলে তার কাছে আমাকেই পেতে?’ [মুসলিম : ২৫৬৯]
এইভাবে কয়েকদিন আব্দুল্লাহর সাথে হাসপাতালে ঘুরে, রোগীদের সাথে তার আন্তরিক ব্যবহার দেখে, তাদের প্রতি সমবেদনা ও একনিষ্ঠ সেবা দেখে আমি তো মুগ্ধ প্রায়।
কিন্তু বেশ কিছুদিন তার সাথে থাকার পর আবিস্কৃত হল তার জীবনের আরেকটি অধ্যায়। তিনি ইসলামী বিষয়াদি বেশ পড়াশোনা করা লোক। এবং তিনি নানাভাবে.. ইসলামী সাহিত্য, বই পুস্তক পড়িয়ে শিক্ষিত অমুসলিমদের মুসলমান বানান। এবং তার হাতে বেশ অনেক অমুসলিম মুসলমান হয়েছে।
এই সময়েই ‘দাওয়াতী বিশেষজ্ঞতা পাঠ’ এর চিন্তাটি আমার মাথায় আসে। আমরা কি দাওয়াতী বিষয়ে বিশেষজ্ঞতা অর্জনের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান ও কোর্সের ব্যবস্থা করতে পারি না, যাতে আবু মুহাম্মাদের মত লোকজন তৈরি হবে?
প্রিয় পাঠক, এমন একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আপনি অনেক সাধারণ মানুষকে বিশেষজ্ঞ দায়ী বানিয়ে ফেলতে পারবেন, যাদের হাতে ইসলামী দাওয়াতের মহান মহান কাজ হবে।
আছেন কোনো আগ্রহী যিনি ইসলামী বা অনৈসলামী দেশে এই বীজ, ইসলামী দাওয়াতী কোর্সের মা’হাদ’ এর বীজ বপন করবেন?
সমাপ্ত