১
মজলিসের সৌরভ
লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০
আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান
ঈমানের রুকনসমূহ সম্পর্কে আমরা আমাদের আলোচনা শেষ করব। আর এই দারসে পঞ্চম রুকন সম্পর্কে আলোচনা করব। আর তা হলো-
আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান: আর তা হলো কিয়ামত দিবস। অর্থাৎ আমরা অকাট্যভাবে বিশ্বাস করব যে, আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে কবর থেকে উঠাবেন তারপর তাদের হিসাব নিবেন এবং তাদের কর্মের ওপর তাদের বিনিময় দান করবেন, অবশেষে জান্নাতীগণ তাদের স্তরে এবং জাহান্নামীগণ তাদের স্তরে অবস্থান করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَلَٰكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِالله وَالْيَوْمِ الْآخِرِ [ البقرة : 177]
“বরং ভালো কাজ হলো যে ঈমান আনে আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের প্রতি।” [আল-বাকারাহ : ১৭৭] আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَإِن كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا وَكَفَىٰ بِنَا حَاسِبِينَ [ الأنبياء : 47].
“আর কিয়ামতের দিনে আমরা ন্যায়বিচারের পাল্লাসমূহ স্থাপন করব, সুতরাং কারো প্রতি কোনো যুলুম করা হবে না এবং আমল যদি শস্য দানা পরিমাণ ওজনেরও হয় তবুও তা আমরা উপস্থিত করব; আর হিসেব গ্রহণকারীরূপে আমরাই যথেষ্ট।” [আল-আম্বিয়া : ৪৭]
- আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান অন্তর্ভুক্ত করে: কবরের প্রশ্ন, কবরের আযাব ও নিআমত, কবর থেকে মানুষকে পুনরুত্থানের ঈমান, হাশরের মাঠে তাদের একত্রীকরণ, তাদের হিসাব নেওয়া ও তাদের আমলের প্রতিদান দেওয়া এবং মিযান ও পুসিরাতের প্রতি ঈমান, আমলনামা যেটি ডান অথবা পিছন দিয়ে বাম হাতে দেওয়া হবে তার প্রতি ঈমানকে।
- কিয়ামতের দিন রয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ إِنَّ زَلْزَلَةَ السَّاعَةِ شَيْءٌ عَظِيمٌ يَوْمَ تَرَوْنَهَا تَذْهَلُ كُلُّ مُرْضِعَةٍ عَمَّا أَرْضَعَتْ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَىٰ وَمَا هُم بِسُكَارَىٰ وَلَٰكِنَّ عَذَابَ الله شَدِيدٌ [ الحج : 1-2]
“হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর। নিশ্চয় কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়ঙ্কর ব্যাপার। যেদিন তোমরা তা দেখবে সেদিন প্রত্যেক স্তন্য দানকারিনী আপন দুগ্ধপোষ্য শিশুকে ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভধারিণী তার গর্ভপাত করে ফেলবে, তুমি দেখবে মানুষকে মাতাল সদৃশ; অথচ তারা মাতাল নয়। তবে আল্লাহর আযাবই কঠিন।” [আল-হাজ : ১-২]
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُ رَأْيُ عَيْنٍ فَلْيَقْرَأْ إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ وَإِذَا السَّمَاءُ انْفَطَرَتْ وَإِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ» [ رواه الترمذي وصححه الألباني ].
“কিয়াম দিবসের প্রতি তাকাতে যার সখ হয় যেন তা বাস্তবের মতই সে যেন সূরা তাকবীর, ইনফিতার ও ইনশিকাক তিলাওয়াত করে।” [হাদীসটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন আর আলবানী তা সহীহ বলেছেন]
- আখিরাত দিবসের প্রতি যে ঈমান আনবে, নেক আমল করার প্রতি তার আগ্রহ বেড়ে যাবে এবং গুনাহ ও মন্দ কর্মসমূহ করতে ভয় পাবে। এ দ্বারা আল্লাহ যাদেরকে অভাব অনটনে লিপ্ত করেন অথবা যাদের ওপর জুলুম আপতিত করার দ্বারা পরীক্ষা করেন তাদেরকে শান্তনা দেন যে, তাদের জন্য এমন একটি দিবস রয়েছে যেখানে তারা তাদের জুলমের বদলা ফিরে পাবে। আর যখন মুমিনগণ জান্নাতে প্রবেশ করবেন তখন তারা তাদের কষ্ট ও দুঃখগুলো ভুলে যাবেন। যেমননিভাবে জাহান্নামীগণ যখন তাতে প্রবেশ করবেন তখন যেসব সুখ-ভোগ তাদের সঙ্গী হয়েছিল তারা তা ভুলে যাবে। জাহান্নাম থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই।
আল্লাহ আমাদেরকে তাদের দলভুক্ত করুন যারা কিয়ামাতের দিন নিরাপদে আসবে আর আমাদেরকে হাজির করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দলে।
এতটুকুতে আলোচনা যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী পাঠে আমরা কিয়ামাতের আলামাত সম্পর্কে আলোচনা করব।
আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান: আর তা হলো কিয়ামত দিবস। অর্থাৎ আমরা অকাট্যভাবে বিশ্বাস করব যে, আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে কবর থেকে উঠাবেন তারপর তাদের হিসাব নিবেন এবং তাদের কর্মের ওপর তাদের বিনিময় দান করবেন, অবশেষে জান্নাতীগণ তাদের স্তরে এবং জাহান্নামীগণ তাদের স্তরে অবস্থান করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَلَٰكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِالله وَالْيَوْمِ الْآخِرِ [ البقرة : 177]
“বরং ভালো কাজ হলো যে ঈমান আনে আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের প্রতি।” [আল-বাকারাহ : ১৭৭] আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَإِن كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا وَكَفَىٰ بِنَا حَاسِبِينَ [ الأنبياء : 47].
“আর কিয়ামতের দিনে আমরা ন্যায়বিচারের পাল্লাসমূহ স্থাপন করব, সুতরাং কারো প্রতি কোনো যুলুম করা হবে না এবং আমল যদি শস্য দানা পরিমাণ ওজনেরও হয় তবুও তা আমরা উপস্থিত করব; আর হিসেব গ্রহণকারীরূপে আমরাই যথেষ্ট।” [আল-আম্বিয়া : ৪৭]
- আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান অন্তর্ভুক্ত করে: কবরের প্রশ্ন, কবরের আযাব ও নিআমত, কবর থেকে মানুষকে পুনরুত্থানের ঈমান, হাশরের মাঠে তাদের একত্রীকরণ, তাদের হিসাব নেওয়া ও তাদের আমলের প্রতিদান দেওয়া এবং মিযান ও পুসিরাতের প্রতি ঈমান, আমলনামা যেটি ডান অথবা পিছন দিয়ে বাম হাতে দেওয়া হবে তার প্রতি ঈমানকে।
- কিয়ামতের দিন রয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ إِنَّ زَلْزَلَةَ السَّاعَةِ شَيْءٌ عَظِيمٌ يَوْمَ تَرَوْنَهَا تَذْهَلُ كُلُّ مُرْضِعَةٍ عَمَّا أَرْضَعَتْ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَىٰ وَمَا هُم بِسُكَارَىٰ وَلَٰكِنَّ عَذَابَ الله شَدِيدٌ [ الحج : 1-2]
“হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর। নিশ্চয় কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়ঙ্কর ব্যাপার। যেদিন তোমরা তা দেখবে সেদিন প্রত্যেক স্তন্য দানকারিনী আপন দুগ্ধপোষ্য শিশুকে ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভধারিণী তার গর্ভপাত করে ফেলবে, তুমি দেখবে মানুষকে মাতাল সদৃশ; অথচ তারা মাতাল নয়। তবে আল্লাহর আযাবই কঠিন।” [আল-হাজ : ১-২]
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُ رَأْيُ عَيْنٍ فَلْيَقْرَأْ إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ وَإِذَا السَّمَاءُ انْفَطَرَتْ وَإِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ» [ رواه الترمذي وصححه الألباني ].
“কিয়াম দিবসের প্রতি তাকাতে যার সখ হয় যেন তা বাস্তবের মতই সে যেন সূরা তাকবীর, ইনফিতার ও ইনশিকাক তিলাওয়াত করে।” [হাদীসটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন আর আলবানী তা সহীহ বলেছেন]
- আখিরাত দিবসের প্রতি যে ঈমান আনবে, নেক আমল করার প্রতি তার আগ্রহ বেড়ে যাবে এবং গুনাহ ও মন্দ কর্মসমূহ করতে ভয় পাবে। এ দ্বারা আল্লাহ যাদেরকে অভাব অনটনে লিপ্ত করেন অথবা যাদের ওপর জুলুম আপতিত করার দ্বারা পরীক্ষা করেন তাদেরকে শান্তনা দেন যে, তাদের জন্য এমন একটি দিবস রয়েছে যেখানে তারা তাদের জুলমের বদলা ফিরে পাবে। আর যখন মুমিনগণ জান্নাতে প্রবেশ করবেন তখন তারা তাদের কষ্ট ও দুঃখগুলো ভুলে যাবেন। যেমননিভাবে জাহান্নামীগণ যখন তাতে প্রবেশ করবেন তখন যেসব সুখ-ভোগ তাদের সঙ্গী হয়েছিল তারা তা ভুলে যাবে। জাহান্নাম থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই।
আল্লাহ আমাদেরকে তাদের দলভুক্ত করুন যারা কিয়ামাতের দিন নিরাপদে আসবে আর আমাদেরকে হাজির করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দলে।
এতটুকুতে আলোচনা যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী পাঠে আমরা কিয়ামাতের আলামাত সম্পর্কে আলোচনা করব।