১
মজলিসের সৌরভ
লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৮
পবিত্রতা
এ দারসে আমরা সালাত বিশুদ্ধ হওয়ার শর্তসমূহ হতে একটি শর্ত অর্থাৎ পবিত্রতা বিষয়ে আলোচনা করব।
অভিধানে তাহারাত অর্থ হলো, ময়লা থেকে পরিচ্ছন্ন হওয়া। আর শরীআতের পরিভাষায় এর অর্থ হলো হাদাস (অপবিত্রতা) তুলে দেওয়া এবং নাজাসাত (নাপাকী) দূর করা।
- এর ফলে পবিত্রতা দুই ভাগে বিভক্ত হল:
প্রথম প্রকার: হাদাস (অপবিত্র) থেকে পবিত্র হওয়া। এটি যদি বড় নাপাকি হয়, তাহলে তা দূর করতে হবে গোসল করার দ্বারা। আর যদি ছোট নাপাকি হয় তাহলে তা দূর করতে হবে ওযূ দ্বারা। আর তাহারাত পানি দ্বারা হবে অথবা পানি না থাকা অবস্থায় বা পানি ব্যবহারে অক্ষম হলে তায়াম্মুম দ্বারা হবে।
দ্বিতীয় প্রকার: নাজাসাত (নাপাকী) হতে পবিত্রতা অর্জন করা। আর তা হলো দেহ, পোশাক এবং যে যমীনে সালাত আদায় করা হয় তা থেকে নাপাকী দূর করা। যদি মুল নাপাকী দূর করা হয় তবে রং ও দূগর্ন্ধ দূর করতে অক্ষম হলে তা অবশিষ্ট থাকাতে কোনো অসুবিধা নাই।
কতক নাপকী রয়েছে যা শরীর, পোশাক ও স্থান থেকে দূর করা ওয়াজিব: মানুষের পেশাব, পায়খানা ও রক্ত[ [নাপাক রক্ত হলো প্রবাহিত রক্ত। যেমন, যবেহ করার সময় যবেহকৃত জন্তু হতে বের হওয়া রক্ত। আর যে রক্ত জবেহ করার পর জন্তুর সাথে লেগে থাকে যেমন, রগের সাথে, কলিজাতে, তিল্লি ও হোসের সাথে সে সব রক্ত পাক।]] (অল্প রুক্তে সমস্যা নেই), যে সব জন্তুর গোস্ত খাওয়া হারাম তার পেশাব ও গোবর নাপাক। (আর যেসব জন্তুর গোসত খাওয়া হালাল তার পেশাব ও গোবর পবিত্র।) আরও নাপাক বস্তু হলো: মৃত[ [মৃতপ্রাণি: যে জন্তু শরয়ী বিধান অনুযায়ী যবেহ করা হয়নি। মৃতপ্রাণি থেকে বাদ দেওয়া হবে মাছ এবং যে সব জন্তু পানি ছাড়া অন্য কোথাও বসবাস করে না এবং মৃত ফড়িং। এ দুটি পাক এগুলো যবেহ করা ছাড়া খাওয়া হালাল। অনুরূপভাবে নাপাক মৃতপ্রাণি থেকে বাদ দেওয়া হবে যে সব জন্তুর প্রবাহিত রক্ত নাই যেমন, পিপড়া, মাছি ও বিটল। এ গুলো পবিত্র তবে খাওয়া হালাল নয়।]], শুকর, কুকুর[ [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমাদের কারো প্লেটে যখন কুকুর মুখ দেয় তখন তার পবিত্রতা হলো তা সাতবার ধোয়া যার প্রথমবার হলো মাটি দ্বারা।” [এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।] ইমাম নববী বলেন, ‘যখন তার পেশাব, পায়খানা, রক্ত, ঘাম, তার চুল, লালা এবং তার কোনো অঙ্গ কোনো পবিত্র জিনিষের মধ্যে পড়ে যার কোনো একটি (অর্থাৎ কুকুরের অংশ বা পাত্র থেকে কোনো একটি) তরল তখন তা সাতবার ধোয়া ওয়াজিব এবং একবার মাটি দিয়ে ধুতে হবে।’]], মাযী ও ওদী।[ [মযী: এটি এক প্রকার পাতলা পিচ্ছিল পানি যা যৌন উত্তেজনার সময় নিক্ষিপ্ত হওয়া ও গতি ছাড়া বের হয়। এটি বের হওয়ার পর শরীর নিস্তেজ হয় না। এ থেকে পবিত্রতা: লিঙ্গ ও অন্ডকোষ দুটি ধুয়ে ফেলবে। আর যদি কাপড়ে লাগে তাহলে যে জায়গা লাগছে তা ধুয়ে ফেলবে। আর ওদী হলো গাঢ় সাদা পানি যা পেশাবের পর বের হয়। এ থেকে পবিত্রতা অর্জন পেশাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করার মতোই।]] সামান্য নাপাকী যা থেকে বিরত থাকা কষ্টকর তা ক্ষমাযোগ্য।
- যখন একজন মুসলিম পায়খানা ও পেশাবের রাস্তা দিয়ে বের হওয়া নাপাকি দূর করতে চায় তখন সে পানি দ্বারা ইস্তেঞ্জা করবে অথবা ঢিলা ব্যবহার করবে অথবা টিস্যু ইত্যাদি[ [পাথর অথবা টিসূ ইত্যাদি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে পরিস্কার হওয়ার পরও ওয়াজিব হলো তিনবারের কম যাতে না হয়।]] দিয়ে পরিষ্কার করবে। যখনই ওযূ করার ইচ্ছা করবে তখনই পরিস্কার করা জরুরি নয়। বরং যখন পেশাব করবে তখন সে তার লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে অনুরূপভাবে যখন সে পায়খানা করবে তখন সে তার পায়ূপথ ধুয়ে ফেলবে। আর যদি বাতাস বের হয় তখন তার থেকে পবিত্রতা হাসিল করবে না।
আল্লাহ আমাদের অন্তর ও দেহকে বাহ্যিক ও আত্মিক আবর্জনা থেকে পবিত্র করুন।
এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী পাঠে আমরা ছোট নাপাকী থেকে পবিত্রতা অর্জন সম্পর্কে আলোচনা করব।
অভিধানে তাহারাত অর্থ হলো, ময়লা থেকে পরিচ্ছন্ন হওয়া। আর শরীআতের পরিভাষায় এর অর্থ হলো হাদাস (অপবিত্রতা) তুলে দেওয়া এবং নাজাসাত (নাপাকী) দূর করা।
- এর ফলে পবিত্রতা দুই ভাগে বিভক্ত হল:
প্রথম প্রকার: হাদাস (অপবিত্র) থেকে পবিত্র হওয়া। এটি যদি বড় নাপাকি হয়, তাহলে তা দূর করতে হবে গোসল করার দ্বারা। আর যদি ছোট নাপাকি হয় তাহলে তা দূর করতে হবে ওযূ দ্বারা। আর তাহারাত পানি দ্বারা হবে অথবা পানি না থাকা অবস্থায় বা পানি ব্যবহারে অক্ষম হলে তায়াম্মুম দ্বারা হবে।
দ্বিতীয় প্রকার: নাজাসাত (নাপাকী) হতে পবিত্রতা অর্জন করা। আর তা হলো দেহ, পোশাক এবং যে যমীনে সালাত আদায় করা হয় তা থেকে নাপাকী দূর করা। যদি মুল নাপাকী দূর করা হয় তবে রং ও দূগর্ন্ধ দূর করতে অক্ষম হলে তা অবশিষ্ট থাকাতে কোনো অসুবিধা নাই।
কতক নাপকী রয়েছে যা শরীর, পোশাক ও স্থান থেকে দূর করা ওয়াজিব: মানুষের পেশাব, পায়খানা ও রক্ত[ [নাপাক রক্ত হলো প্রবাহিত রক্ত। যেমন, যবেহ করার সময় যবেহকৃত জন্তু হতে বের হওয়া রক্ত। আর যে রক্ত জবেহ করার পর জন্তুর সাথে লেগে থাকে যেমন, রগের সাথে, কলিজাতে, তিল্লি ও হোসের সাথে সে সব রক্ত পাক।]] (অল্প রুক্তে সমস্যা নেই), যে সব জন্তুর গোস্ত খাওয়া হারাম তার পেশাব ও গোবর নাপাক। (আর যেসব জন্তুর গোসত খাওয়া হালাল তার পেশাব ও গোবর পবিত্র।) আরও নাপাক বস্তু হলো: মৃত[ [মৃতপ্রাণি: যে জন্তু শরয়ী বিধান অনুযায়ী যবেহ করা হয়নি। মৃতপ্রাণি থেকে বাদ দেওয়া হবে মাছ এবং যে সব জন্তু পানি ছাড়া অন্য কোথাও বসবাস করে না এবং মৃত ফড়িং। এ দুটি পাক এগুলো যবেহ করা ছাড়া খাওয়া হালাল। অনুরূপভাবে নাপাক মৃতপ্রাণি থেকে বাদ দেওয়া হবে যে সব জন্তুর প্রবাহিত রক্ত নাই যেমন, পিপড়া, মাছি ও বিটল। এ গুলো পবিত্র তবে খাওয়া হালাল নয়।]], শুকর, কুকুর[ [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমাদের কারো প্লেটে যখন কুকুর মুখ দেয় তখন তার পবিত্রতা হলো তা সাতবার ধোয়া যার প্রথমবার হলো মাটি দ্বারা।” [এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।] ইমাম নববী বলেন, ‘যখন তার পেশাব, পায়খানা, রক্ত, ঘাম, তার চুল, লালা এবং তার কোনো অঙ্গ কোনো পবিত্র জিনিষের মধ্যে পড়ে যার কোনো একটি (অর্থাৎ কুকুরের অংশ বা পাত্র থেকে কোনো একটি) তরল তখন তা সাতবার ধোয়া ওয়াজিব এবং একবার মাটি দিয়ে ধুতে হবে।’]], মাযী ও ওদী।[ [মযী: এটি এক প্রকার পাতলা পিচ্ছিল পানি যা যৌন উত্তেজনার সময় নিক্ষিপ্ত হওয়া ও গতি ছাড়া বের হয়। এটি বের হওয়ার পর শরীর নিস্তেজ হয় না। এ থেকে পবিত্রতা: লিঙ্গ ও অন্ডকোষ দুটি ধুয়ে ফেলবে। আর যদি কাপড়ে লাগে তাহলে যে জায়গা লাগছে তা ধুয়ে ফেলবে। আর ওদী হলো গাঢ় সাদা পানি যা পেশাবের পর বের হয়। এ থেকে পবিত্রতা অর্জন পেশাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করার মতোই।]] সামান্য নাপাকী যা থেকে বিরত থাকা কষ্টকর তা ক্ষমাযোগ্য।
- যখন একজন মুসলিম পায়খানা ও পেশাবের রাস্তা দিয়ে বের হওয়া নাপাকি দূর করতে চায় তখন সে পানি দ্বারা ইস্তেঞ্জা করবে অথবা ঢিলা ব্যবহার করবে অথবা টিস্যু ইত্যাদি[ [পাথর অথবা টিসূ ইত্যাদি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে পরিস্কার হওয়ার পরও ওয়াজিব হলো তিনবারের কম যাতে না হয়।]] দিয়ে পরিষ্কার করবে। যখনই ওযূ করার ইচ্ছা করবে তখনই পরিস্কার করা জরুরি নয়। বরং যখন পেশাব করবে তখন সে তার লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে অনুরূপভাবে যখন সে পায়খানা করবে তখন সে তার পায়ূপথ ধুয়ে ফেলবে। আর যদি বাতাস বের হয় তখন তার থেকে পবিত্রতা হাসিল করবে না।
আল্লাহ আমাদের অন্তর ও দেহকে বাহ্যিক ও আত্মিক আবর্জনা থেকে পবিত্র করুন।
এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী পাঠে আমরা ছোট নাপাকী থেকে পবিত্রতা অর্জন সম্পর্কে আলোচনা করব।