hadith book logo

মজলিসের সৌরভ

লেখকঃ তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

রাসূলগণের ওপর ঈমান

এ দারসে ঈমানের রুকনসমূহ হতে চতুর্থ রুকন সম্পর্কে আলোচনা করব। আর তা হচ্ছে:

রাসূলগণের ওপর ঈমান: আর তা হলো, আমাদের ঈমান আনা যে, আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক উম্মাতের নিকট তাদের থেকে রাসূল পাঠিয়েছেন। যিনি তাদেরকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করতেন যার কোনো শরীক নেই আর তাগুতের ইবাদত বর্জন করতে বলতেন। আর রাসূলগণ সবাই হলো পুতপবিত্র এবং আমানতদার এবং হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্ত। আল্লাহ তাদেরকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তারা তাদের সবই পৌঁছে দিয়েছেন। তারা কোনো কিছু গোপন করেননি এবং বিকৃত করেননি, তাতে তারা তাদের নিজেদের পক্ষ থেকে একটি শব্দও বাড়াননি এবং কমাননি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

رُّسُلًا مُّبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى الله حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكَانَ الله عَزِيزًا حَكِيمًا [ النساء : 165]،

“সুসংবাদদাতা ও সাবধানকারী রাসূল প্রেরণ করেছি, যাতে রাসূলগণ আসার পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অভিযোগ না থাকে। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” [আন-নিসা : ১৬৫]

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولًا أَنِ اعْبُدُوا الله وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ [ النحل : 36].

“আর আমরা অবশ্যই প্রত্যেক জাতিতে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং পরিহার কর তাগূতকে।” [আন-নাহল ৩৬]

- বিশেষ করে তাদের মধ্য হতে যাদের নাম নিয়েছেন তাদের ওপর ঈমান আনব। যেমন, মুহাম্মাদ, ইবরাহীম, মূসা, ঈসা, নূহ প্রমূখ সম্মানিত রাসূলগণ।

- যে ব্যক্তি তাদের একজনের রিসালাতকে অস্বীকার করল সে সবার প্রতি কুফরী করল। এ কারণেই আল্লাহ বলেন,

كَذَّبَتْ قَوْمُ نُوحٍ الْمُرْسَلِينَ [ الشعراء : 105]

“নূহের সম্প্রদায় রাসূলগণের প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছিল।” [আশ-শুআরা : ১০৫]

তিনি আরও বলেছেন,

كَذَّبَتْ عَادٌ الْمُرْسَلِينَ [ الشعراء : 123]

“আদ সম্প্রদায় রাসূলদের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল।” [আশ-শুআরা : ১২৩]

এটি আমাদের সবারই জানা যে, প্রত্যেক উম্মতই তাদের রাসূলদের অস্বীকার করেছে। দীন এক হওয়া এবং প্রেরণকারী একই হওয়ার কারণে একজন রাসূলকে অস্বীকার করার অর্থ হলো সব রাসূলকেই অস্বীকার করা।

- আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বারা নবীদের সমাপ্তি টানেন। যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেন,

مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ الله وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ [ الأحزاب : 40]

“মুহাম্মাদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন; তবে আল্লাহর রাসূল ও সর্বশেষ নবী।” [আল-আহযাব : ৪০]

আল্লাহ তা‘আলা তার দীনকে পূর্বের সব দীনের রহিতকারী বানিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ [ آل عمران : 85]

“আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো তার পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।” [আলে ইমরান : ৮৫]

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَا يَسْمَعُ بِي أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ يَهُودِيٌّ وَلَا نَصْرَانِيٌّ ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ إِلَّا كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّار» [ رواه مسلم ].

“সে সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! ইয়াহুদী হোক আর খৃস্টান হোক, যে ব্যক্তিই আমার এ রিসালাতের খবর শুনেছে অথচ আমার রিসালাতের উপর ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করবে, অবশ্যই সে জাহান্নামী হবে।” [হাদীসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন]

- আর যে ব্যক্তি ধারণা করল যে, আল্লাহ তা‘আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরী‘আত ছাড়া অন্য কোনো দীন কবুল করবেন সে অবশ্যই কাফির। কারণ, সে কুরআন, সুন্নাহ ও মুসলিম আলেমগণের ইজমাকে অস্বীকার করছে।

আল্লাহর নিকট প্রার্থনা এই যে, আল্লাহ যেন আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যিনি রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছেন, তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন এবং তাদের অনুকরণ করেছেন। এতটুকুতে যথেষ্ট করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় আগামী দারসে ঈমানের রুকনসমূহ হতে পঞ্চম রুকন সম্পর্কে আলোচনা করব। আর তা হলো আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান আনা।